সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে দস্যুদের তাণ্ডব: ৩ দিনে ২৬ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ৫০ লাখ
সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু ও জলদস্যু বাহিনীগুলো পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি অভিযানে ২৬ জন জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। দফায় দফায় অপহরণ ও লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দুবলার শুঁটকি পল্লীসহ সমগ্র উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও মহাজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দস্যুদের এমন তৎপরতায় অনেক মৎস্যজীবী এখন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে দুবলার চরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়ার খাড়িসংলগ্ন সাগরে মাছ ধরার সময় ২০ জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যু 'সুমন-জাহাঙ্গীর বাহিনী'। দস্যুরা ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ট্রলারের অন্য জেলেদের কাছে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে যায় তারা।
অপহৃত জেলেরা হলেন— হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাদের বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকায়।
এর আগে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে শেলারচর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে ৬ জেলেকে অপহরণ করে 'করিম শরীফ বাহিনী'। দস্যুরা শেলারচরের ৫০টি শুঁটকি ঘর থেকে ঘরপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাবিকৃত টাকা না দিলে জিম্মি জেলেদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত শনিবার রাতে কটকা এলাকা থেকে 'ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী' ট্রলারসহ আরও ৩ জেলেকে (রাজু, মাহবুব ও রাজন) অপহরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় বর্তমানে অন্তত চারটি দস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাপটে জেলেরা সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, "দস্যুদের চাঁদা আর মুক্তিপণের টাকা দিতে দিতে অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অপহৃতদের উদ্ধার ও দস্যু দমনে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহযোগিতার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"
বর্তমানে গোটা সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জেলেরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ও কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
Aminur / Aminur
নেছারাবাদে একই রাতে তিন পরিবারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ অর্থ ও ১১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট
ধামরাই রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আদনান, সাধারণ সম্পাদক আরটিভির পলাশ
হাতিয়ায় জোয়ারের পানি-ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত উপকূল
টঙ্গীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গ্রিন ইউনিভার্সিটির ছাত্র নিহত: হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ আটক ৬
হাটিকুমরুলে বাস চাপায় অটোরিকশা যাত্রী মা-ছেলে নিহত
মির্জাগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে মামলা
পটিয়ায় বৃষ্টির তাণ্ডব: ধসে গেল মাটির ঘর, প্রাণে রক্ষা পেলেন এক বৃদ্ধা
সুন্দরবনের আলোচিত 'বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী'র ৩ বনদস্যু অস্ত্র গুলিসহ আত্মসমর্পণ
কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ৪ জন আহত, ঝুঁকিতে শত শত পরিবার
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধ ও মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় জেলেদের বিক্ষোভ
টঙ্গীতে জলবায়ু সচেতনতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
হাটিকুমরুলে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী মা-ছেলের মৃত্যু