চৌগাছায় বৃদ্ধি পেয়েছে গমের চাষ এ বছর বেড়েছে ৩৫ হেক্টর জমি
যশোরের চৌগাছায় এক প্রকার বিলুপ্তি হয়ে যাওয়া গম চাষ আবারও শুরু হয়েছে। বর্তমান কৃষকের জমিতে গমের শীষ বের হচ্ছে, ফাগুনের মৃদু বাতাসে দুলে যাচ্ছে গমের শীষ যা মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোাগ দেখা না দিলে গমের ভালো ফলনের আসা করছেন চাষিরা।
সব ধরনের ফসল উৎপাদনের জন্য চৌগাছার মাটি বরাবরই বিখ্যাত। এই মাটিতে এমন কোন ফসল নেই যে তা উৎপাদন হয়না। আশির দশকে ধান,পাট,গম, ছোলা ও মসুরির ব্যাপক চাষ হতো। কিন্তু সময়ের সাথে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। পাল্টে গেছে কৃষকের চাষেরও ধরন। সে কারনে গম চাষ কৃষক এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছেন। বিশেষ করে গমে ব্লাস্ট ফাইরাস দেখা দেয়ায় মারাত্মক ক্ষতিতে পড়েন চাষিরা সে কারনে গম চাষের পরিবর্তে তারা অন্য ফসল চাষে ঝুকে পড়েন। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও ধীরে ধীরে কৃষক আবারও গম চাষে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাতে ২৮৫ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে কৃষক গম চাষ হয়েছে। মাটির গুনাগুন ভেদে বারী-৩০,৩২ ও ৩৩ জাতের গমের চাষ বেশি হচ্ছে। তবে ৩৩ জাতের গম ব্লাস্ট ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি সে কারনে কৃষক ৩৩ জাতের গমের চাষ বেশি করেছেন।
গতকাল উপজেলা জগদীশপুর, ফুলসারা ও সিংহঝুলী ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি মাঠেই কমবেশি চাষ হয়েছে গমের। এখন গমের শীষ বের হচ্ছে, বর্তমান আবহাওয়া গমের জন্য খুবই উপযোগী বলছেন চাষিরা।
ফুলসারা গ্রামের গম চাষি নজরুল ইসলাম বলেন. প্রতি বছরই তিনি ২/৪ বিঘা জমিতে গম চাষ করেন। এবছরও প্রায় ৫ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। সব জমিতেই গমের শীষ বের হচ্ছে বৈরী আবহাওয়া না হলে গমের ভালো ফলন হবে বলে আসা করছি। বাজারে গমের ব্যাপক চাহিদা এবং দামও ভালো সেকারনে প্রতি বছরই গমের চাষ করা হয় এমনটি জানান ওই কৃষক। দূর্গাবরকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের বাজারে গমের চাহিদা বেশি সে কারনে ইরি বোরোর পাশাপাশি প্রত্যেক বছরই তিনি গমের চাষ করেন। চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে আসা করছি খুল ভালো ফলন পাবো। পিতাম্বরপুর গ্রামের মাঠে গম চাষ করেছেন কৃষক মজিবর রহমান। তিনি বলেন, কম হোক আর বেশি প্রতি বছরই গমের চাষ করি। মাঝে এক সময় গমে ভাইরাস লেগে নষ্ট হয়ে যায়, সেই থেকে অনেকে গম চাষ ছেড়ে দিলেও আমি চাষ অব্যহত রেখেছি। এবছর তিনি দেড় বিঘা জমিতে গমের চাষ করেছেন।
বিভিন্ন গ্রামের মাঠে যেয়ে কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৮০/৯০ দশকে চৌগাছার বিস্তৃর্ণ মাঠ ছিলো গমের দখলে। মৌসুম শুরু হলে কৃষক অন্য ফসলের চাষ না করলেও গমের চাষ করতেন। এরপর শুরু সবজি ও ইরি বোরো ধানের চাষ, কোণঠাসা হয়ে পড়ে গম চাষ। বহু কৃষক গমের পরিবর্তে সবজি চাষে ঝুকে পড়েন অনেকেই শুরু করেন বোরো চাষ। ২০০০ সালের পর গমের চাষ বহু কমে যায়। কম বেশি যারা চাষ করেন তারা নানা সমস্যায় পড়তে থাকেন। এরপর হঠাৎ করে পরপর ২ বছর গমে দেখা দেয় ভাইরাস ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষক। তবে সম্প্রতি ৩/৪ বছর আবারও গমের চাষ বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ বাজার দর ভালো ও ভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়া এমনই মনে করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, গম চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম এবং বাজারে চাষিরা ভালো মুল্য পাওয়া। আমরা কৃষি অফিস গম চাষিসহ সব চাষিদের সর্বদা সহযোগীতা প্রদান করে যাচ্ছি।
Aminur / Aminur
সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছাতে হবে- এমপি গোলাম রছুল
সিংড়ায় এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বাগেরহাট ৪১৮ জন মেধাবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে জেলা পরিষদ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত
চকরাজাপুর বাজার রোড এসবি করণ, এমপিকে ধন্যবাদ জানাল এলাকাবাসী
লালমনিরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের চাচা-চাচাতো ভাইদের সাথে সংঘর্ষ, যুবক নিহত, আহত তিন
পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধা, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট
আদমদীঘি কাশিমালা সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে গ্রামবাসি
আনোয়ারায় কবর খননে বাধা ও মারধরের ঘটনায় মূল আসামী গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলের কিশোরীদের শিক্ষায় ফেরাতে ও বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করছে ফ্রেন্ডশিপ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মধুখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার ৫ম সম্মেলন
মহাসড়কে বস্তাভর্তি ৫৪৬ পিস ভারতীয় কিটক্যাট চকলেট উদ্ধার