সাগরে দস্যু আতঙ্ক: ৯ দিন ধরে অপহৃত ২০ জেলে, ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণের চাপে দিশেহারা পরিবার
বঙ্গোপসাগরের নোনা জল আর রোদে পোড়া ঘামে যাদের সংসার চলে, আজ তাদের চোখে কেবল নোনা জলের ধারা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগর থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনীর হাতে অপহৃত ২০ জেলের পরিবারে এখন শুধুই অন্ধকার। অপহরণের ৯ দিন অতিবাহিত হলেও প্রিয়জনদের ভাগ্যে কী জুটেছে, তা এখনো অজানা। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা মোট ৭০ লাখ টাকার চাপে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অপহৃতদের হতদরিদ্র স্বজনরা।
সরেজমিনে শরণখোলা ও সুন্দরবন সংলগ্ন জেলে পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। নিখোঁজ স্বামীর অপেক্ষায় থাকা এক জেলের স্ত্রী বিলাপ করতে করতে বলেন, "ওরা তো মাছ ধরতে গেছিল আমাদের মুখে দুমুঠো অন্ন জোগাতে। এখন দস্যুরা বলছে সাড়ে তিন লাখ টাকা না দিলে ওরে ছাড়বে না। আমরা দিন আনি দিন খাই, এত টাকা কোথায় পাব?" অনেক পরিবারে গত কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো উনুনও জ্বলছে না।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দস্যুরা প্রতিটি ট্রলারের বিপরীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। গত শুক্রবার রাতে দস্যুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে ট্রলার মালিক বা মহাজনরা কথা বলেছেন। দস্যুরা নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে না দিলেও মুক্তিপণের টাকা কমানোর জন্য মহাজনদের সাথে দস্যু বাহিনীর দর-কষাকষি চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজ জেলেদের শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ততই বাড়ছে।
দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরে এখন সুনসান নীরবতা। দস্যু আতঙ্কে টানা চার দিন মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর গত শনিবার থেকে কিছু ট্রলার সাগরে নামলেও জেলেদের মনে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। বন বিভাগের নির্দেশনায় জেলেরা উপকূলের কাছাকাছি এবং নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। মৎস্যজীবীরা আশঙ্কা করছেন, সাগরে দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ বছর শুঁটকি শিল্পে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
অপহৃতদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সিয়াম-উল-হক জানান, গত শুক্রবার বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের শেলা নদীর মূর্তির খাল ও তৈয়বের খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে 'করিম শরীফ বাহিনী'র সক্রিয় সদস্য বাদশা শেখকে (২৫) আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় দস্যুদের পাঁচটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দস্যুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং দ্রুতই সমন্বিত যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান শুরু হবে।
স্থানীয় সমাজসেবী ও মৎস্যজীবী নেতারা বলছেন, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান নয়, জেলেদের জানমালের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাগরে সার্বক্ষণিক কঠোর টহল প্রয়োজন। ২০ জন জেলের জীবন ও তাদের ওপর নির্ভরশীল শত শত মানুষের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
যতক্ষণ না এই জেলেরা সুস্থভাবে ফিরে আসছেন, ততক্ষণ শরণখোলার এই মৎস্যজীবী জনপদে স্বস্তি ফিরছে না। এখন সবার চোখ প্রশাসনের দিকে—কবে শেষ হবে এই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার?
এমএসএম / এমএসএম
সিদ্ধিরগঞ্জে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে হুমকি, ৪ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
হীরাঝিল আবাসিক এলাকা সমাজ কল্যাণ সমিতি নিয়ম বহির্ভূত কমিটি গঠনের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লোহাগড়ায় দুই খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, ১.১৩ কোটি টাকার প্রকল্প
আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঘোড়াঘাটে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নবীগঞ্জে দিনদুপুরে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে একই দিনে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
কুতুবদিয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিষপান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু
যশোরে ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মহেশখালীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের কারাদণ্ড
কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
পাঁচবিবিতে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল ৩৮ জন যাত্রী