চট্টগ্রামে গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামী আটকে গড়িমসি
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামী আটকে রহস্যজনক গড়িমসির অভিযোগ ওঠেছে সদরঘাট থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার ৪ মাসে একজন আসামী আটক হলেও বাকীরা রয়েছে অধরা। ফলে মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার পাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ভিকটিমের পরিবারের। ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আশায় মানুষের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন ভিকটিম রাইসার (২৩) অসহায় পিতা আবদুল মান্নান।
জানা যায়, যৌতুকের অব্যাহত দাবীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে গতবছরের নভেম্বরে মারা যান গৃহবধূ রাইসা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী শ্বশুর শাশুড়ী ও জা’কে আসামী করে তখনি থানায় মামলা করা হয়েছিল। মামলার প্রায় ৪ মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও স্বামী ছাড়া বাকী আসামীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয়দের দাবী থানা পুলিশ তদন্তে গাফিলতি বা অবহেলা করছে। অপরাপর আসামীরা নগরীর হিলভিউ এলাকায় অবস্থান করছে মর্মে তথ্য পেলেও রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ নীরাবতা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায় গত বছরের ১৬ জুন সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট রোডের গাজি ডিপো লেইনের স্থায়ী বাসিন্দা আবদুল মান্নানের মেয়ে তাহিনা মান্নান ওরফে রাইসা’র (২৩) সাথে একই এলাকার সাউথইস্ট স্কুলের প্রিন্সিপাল নুর আহমদ ভবন নিবাসী আয়াজ বাহাদুরের ছেলে নুর সালেকিন তওসিফ’র (২৫) বিয়ে সম্পন্ন হয়। অত্যন্ত ধুমধামের সাথে প্রচুর উপঢৌকন দিয়ে মেয়েকে পাত্রস্থ করেছিলেন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা আবদুল মান্নান। পছন্দের পাত্রের সাথে নিজ কন্যার বিয়ে হলেও মেয়ের খুশির জন্য প্রচুর মানুষের আপ্যায়নসহ উপহার সামগ্রী প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি চাকুরিজীবি মান্নান। শুরুরদিকে সব ঠিকঠাক চললেও পরে স্বামী, শাশুড়ী দিলু আরা ও জা রোমানা অতিরিক্ত যৌতুক (স্বামীর ব্যবসার জন্য টাকা) চেয়ে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। এর ধারাবাহিকতায় বিয়ের মাত্র ৪ মাস কুড়ি দিনের মাথায় একই বছরের ৫ নভেম্বর শ্বশুর বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে মারা যান তরুণী রাইসা। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে শ্বশুর পক্ষের লোকজন। তবে পরিপার্শ্বিক অবস্থা সুরতহাল ইত্যাদি বিষয় পর্যালোচনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবী করেন। এ ব্যপারে নিহতের পিতা আবদুল মান্নান সদরঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। [ মামলা নং (৪) তারিখ ৬/১১/২৫ দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ এবং পেনাল কোডের ১৮৬০ ধারা] এতে রাইসার স্বামী নুর সালেকিন তওসিফকে ১ নম্বর আসামী করা হয়। ২ নম্বর আসামী শাশুড়ি দিলু আরা বেগম ৩ নম্বর আসামী শ্বশুর আয়াজ বাহাদূর এবং ৪ নম্বর আসামী হলেন জা রোমানা আক্তার। ঘটনার পরপর স্বামী গ্রেফতার হলে অপরাপর আসামীগণ পালিয়ে যান। এরপর থেকে তারা রহস্যজনকভাবে এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অবশ্য স্থানীয়দের অভিযোগ প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ আসামী ধরায় টালবাহানা করছে। যার কারণে মামলারও কোনো আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হচ্ছে না। এমনকি পুলিশ সন্দেহভাজন হত্যাকারী ধৃত স্বামী তওসিফকে রিমান্ড নেয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি। সদরঘাট থানা পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি ধামাচাপা পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
মেয়ের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বাদী আবদুল মান্নান বলেন, বড় আশা নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সবাই মিলে আমার মেয়েকে খুন করে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে এটাকে আত্মহত্যার প্রচারণা চালায়। তিনি আরো বলেন আসামীরা নিরাপরাধ হলে এভাবে পালিয়ে যেতেন না। তিনি আরো বলেন আমার মেয়ে আগের রাত আনুমানিক ৮টার সময় আমাদের বাসা থেকে ওদের বাসায় যায়। পরেরদিন দুপুর ২ টা নাগাদ ছেলের বাবা আয়াজ বাহাদুর ফোন করে জানান আমার মেয়ে রাইসা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এটি শুনে তৎক্ষনাৎ আমরা বাসায় গিয়ে আমার মেয়েকে ওদের বাসায় দেখতে পাইনি। পরক্ষণে আবার জানানো হয় রাইসাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। মান্নান আরো বলেন মেডিকেল গিয়ে দেখতে পায় একটি স্ট্রেচারে আমার মেয়ে রাইসার মৃতদেহ পড়ে আছে। তিনি ক্ষুব্ধ কন্ঠ বলেন, আমার মেয়ে যে গলায় ফাঁস দিয়েছে তার কোন আলামত তারা আমাদের দেখাতে পারেনি। আবদুল মান্নান আরো বলেন, বর্তমান কারান্তরীণ স্বামী প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, আমার মেয়েকে সে আগের দিন অনেক মারধর করে। সে মাদকাসক্ত ও পরকীয়া প্রেমে জড়িত।
এব্যপারে জানতে চাইলে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মুহাম্মদ মাহফুজ হাসান সিদ্দিকী বলেন, আসামী আটকে আমাদের কোন অবহেলা বা গড়িমসি নেই, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এমএসএম / এমএসএম
লক্ষ্মীপুর চরশাহী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে খাইরুল বারি মিঠু
বাঘা থানায় অ্যাডিশনাল ডিআইজির দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন
ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির অলংকার প্রজাপতি
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান
কালিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, শ্রেণী শিক্ষকের দায়িত্বে দপ্তরী!
হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির
কুড়িগ্রামে ইউটিউব দেখে নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন একটি “এআই স্মার্ট কার”
মাদারীপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
চট্টগ্রামের উন্নয়নে গণমাধ্যমকে পাশে চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
অপারেটরের কাছে জিম্মি কৃষক, সেচের অভাবে ধানের জমি ফেটে চৌচির
মতলবে নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে মাদ্রাসাছাত্রী আহত
ভূঞাপুরে আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্টের যাত্রা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত