ঢাকা বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

বরগুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিংড়ির রেণু শিকার, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য


বরগুনা প্রতিনিধি photo বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩-৩-২০২৬ দুপুর ৩:৪

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনার পায়রা নদী ও বিষখালী নদীতে অবাধে চলছে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু (পোনা) আহরণ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রম, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণে গলদা ও বাগদা চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেণু আহরণের সময় সূক্ষ্ম জালের ব্যবহার অন্যান্য শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করছে। এতে সামুদ্রিক ও নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত রেণু শিকার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রেণু শিকারের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। চিংড়ি চাষিদের চাহিদা এবং হ্যাচারিগুলো বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে জেলেদের দাবি, দারিদ্র্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব তাদের এ কাজে বাধ্য করছে। একাধিক জেলে জানান, মাছ ধরার ট্রলার ও সরঞ্জাম থাকলেও সারা বছর পর্যাপ্ত আয় না থাকায় জীবিকার তাগিদে রেণু শিকারে নামতে হচ্ছে।

এক জেলের ভাষ্য, “সরকারি সহায়তা ঠিকমতো পাই না। কাজ না থাকলে পরিবার চালাবো কীভাবে?"

২০০০ সালে সরকার চিংড়ির পোনা আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নৌ-পুলিশের টহল জোরদারের দাবি থাকলেও অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। জেলেদের ভাষ্য, “টাকা না দিলেই অবৈধ, আর টাকা দিলে নাকি বৈধ হয়ে যায়।”

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ১৮টি জেলায় কোটা জাল দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অবৈধ রেণু আহরণ বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকার গন্যমান্য লোকজন মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং হ্যাচারি কার্যক্রম সক্রিয় রাখার মাধ্যমে চিংড়ি চাষিদের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তাদের মতে, কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এমএসএম / এমএসএম

লাকসামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

রৌমারীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয়, মনপুরায় গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তারাগঞ্জে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় 'ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' পালিত

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী

রায়গঞ্জে শহীদ নজরুলের নামে সড়ক, উদ্বোধন করলেন এমপি আয়নুল হক

খানসামায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

তাড়াশে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

বিলাইছড়িতে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

আত্রাইয়ে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

কেশবপুরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

যোগদানপত্রে নাম বদলিয়ে চাকরিঃ অবসরকালীন সুবিধা চেয়ে ভূক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন