বরগুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিংড়ির রেণু শিকার, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনার পায়রা নদী ও বিষখালী নদীতে অবাধে চলছে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু (পোনা) আহরণ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রম, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণে গলদা ও বাগদা চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেণু আহরণের সময় সূক্ষ্ম জালের ব্যবহার অন্যান্য শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করছে। এতে সামুদ্রিক ও নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অনিয়ন্ত্রিত রেণু শিকার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।
উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রেণু শিকারের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। চিংড়ি চাষিদের চাহিদা এবং হ্যাচারিগুলো বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে জেলেদের দাবি, দারিদ্র্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব তাদের এ কাজে বাধ্য করছে। একাধিক জেলে জানান, মাছ ধরার ট্রলার ও সরঞ্জাম থাকলেও সারা বছর পর্যাপ্ত আয় না থাকায় জীবিকার তাগিদে রেণু শিকারে নামতে হচ্ছে।
এক জেলের ভাষ্য, “সরকারি সহায়তা ঠিকমতো পাই না। কাজ না থাকলে পরিবার চালাবো কীভাবে?"
২০০০ সালে সরকার চিংড়ির পোনা আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নৌ-পুলিশের টহল জোরদারের দাবি থাকলেও অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। জেলেদের ভাষ্য, “টাকা না দিলেই অবৈধ, আর টাকা দিলে নাকি বৈধ হয়ে যায়।”
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ১৮টি জেলায় কোটা জাল দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ রেণু আহরণ বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলাকার গন্যমান্য লোকজন মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং হ্যাচারি কার্যক্রম সক্রিয় রাখার মাধ্যমে চিংড়ি চাষিদের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এমএসএম / এমএসএম
দৈনিক সকালের সময় নিউজের জেরে ভরাট হচ্ছে রাস্তা
বাগেরহাটে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস অবৈধ জাল বিক্রেতাকে অর্থদন্ড
টুঙ্গিপাড়ায় দুর্ঘটনার কবলে ঢাকাগামী বাস, হতাহত নেই
আধুনিকতার ছোঁয়ায় মার্বেলের নিখুঁত নিশানা আজ শুধুই স্মৃতি
কুড়িগ্রামে অধ্যক্ষ জমি ও টাকার বিনিময়ে চাকুরী দিলেন, অভিযোগ এলাকাবাসীর
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
এলজিইডি, গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে জেলি পুশ করা ৪৫০ কেজি চিংড়ি জব্দ, মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস
আপন চাচার হাতে ভাতিজাকে মারধরের অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পরিত্যক্ত আমবাগান থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
দলবদলু ও কুচক্রীদের অপপ্রচার': লালমনিরহাটে কড়া প্রতিবাদ বিএনপির
যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে জুড়ীতে আনসার সদস্য সাইফুরের প্রশংসনীয় উদ্যোগ