ঢাকা মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

ইঞ্জিন সংকটে নাজুক রেলওয়ে


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ৩-৩-২০২৬ দুপুর ৩:২১

বাংলাদেশ রেলওয়ে অপারেশন কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গণনার সংখ্যায় ৩ শতাধিক হলেও বেশিরভাগই অকার্যকর। ফলে প্রতিদিনই রাস্তায় কোথাও না কোথাও ইঞ্জিন বিকলের  ঘটনা ঘটছে। এতে চরম ভোগান্তীর শিকার হচ্ছে যাত্রী সাধারণ। এই অবস্থা চলতে থাকলে একসময়ে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মোট ৩০৬টি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৪টি মিটারগেজ এবং ১৩২টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। তবে এই ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই পুরোনো এবং অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পার করে ফেলেছে। যার ফলে বেশিরভাগই অকার্যকর। এসব ইঞ্জিন রেলের ২ অঞ্চল পূর্ব ও পশ্চিমে চলাচল করছে। রেলের হিসাবমতে পশ্চিমাঞ্চলে পর্যাপ্ত ইঞ্জিন থাকলেও রয়েছে কোচ সংকট আর পূর্বাঞ্চলে পর্যাপ্ত কোচ থাকলেও ইঞ্জিন সংকট খুবই নাজুক। পুরোনো ইঞ্জিনের পাশাপাশি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ৩০০০ সিরিজের হুন্দাই রোটেমের নতুন ইঞ্জিনও। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে রেলে প্রায় সোয় লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশই অবকাঠামোগত। আর ১৫ শতাংশ ব্যয় করেছে ডেমু ট্রেন, ইঞ্জিন, কোচ, লাগেজ ভ্যান ইত্যাদি কেনায়। তবে বিশাল অংকের এই খরচের আওতায় পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না রাখায় বর্তমানে রেলের এই করুণ অবস্থা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রেলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে এই সময়ে বহুদূর এগিয়ে যেতো রেলসেবা খাত। কিন্তু রেলের দায়িত্বশীল কতিপয় কর্মকর্তার অবহেলা বা অজ্ঞতার কারণে অর্থ খরচ করেও কাক্সিক্ষত লক্ষে পৌছাতে পারেনি সরকারী এই সেবা সংস্থাটি। দীর্ঘদিন ধরে নতুন লোকোমোটিভ সংযোজন না হওয়া, পুরোনো ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক সময় একটি ইঞ্জিন দিয়েই একাধিক ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পূর্বাঞ্চলে যেখানে প্রতিদিন প্রয়োজন ১১৯টি ইঞ্জিন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫টি। এই সংকটের কারণে একদিকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনগুলো, অন্যদিকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে বিপর্যয়। ইঞ্জিন সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সময়সূচিতে। প্রতিদিনই একাধিক ট্রেন এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা বিক্ষোভ করছেন।
রেলওয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, ইঞ্জিনের অভাবে একাধিক ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে হচ্ছে। ইঞ্জিন সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় নেই। ইঞ্জিন সংকটের প্রভাবে গত কয়েক বছরে চট্টগ্রাম-দোহাজারী, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটসহ একাধিক লাইনে লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রেলের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে। পণ্য পরিবহনে যেখানে প্রতিদিন ১৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, সেখানে মিলছে পাঁচটি। 
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি ইঞ্জিন ট্রিপ শেষ করার পর ৭২ ঘণ্টা পর ছয় ঘণ্টা পূর্ণ শাটডাউন রেখে পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও তা মানা যাচ্ছে না। ফলে যেসব ইঞ্জিন আছে সেগুলোর আয়ুষ্কাল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং রাস্তায় বিকল হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়মিত করতে মালবাহী ট্রেন থেকে ইঞ্জিন এনে কোনোরকমে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও সম্ভব হচ্ছে না। 


যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি কনটেইনার ও তেলবাহী ট্রেন চলাচলেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন যেখানে পণ্য পরিবহনে প্রয়োজন ১৩টি ইঞ্জিন, সেখানে মিলছে পাঁচটি। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনার পরিবহনের জন্য দরকার পাঁচটি, অথচ মিলছে একটি কিংবা দুটি ইঞ্জিন। একই সমস্যা তেল পরিবহনেও।
ট্রেনের ইঞ্জিন সংকটসহ নানা কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য আটকে থাকে দিনের পর দিন। বন্দরে পণ্য আটকে থাকলেও রেলপথে পরিবহন করতে না পারায় খালাসের চারদিন পর থেকেই জরিমানা গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ কনটেইনার বন্দরে আটকে থাকায় ব্যবসায়ীরা আমদানি পণ্যে বড় ধরনের লোকসান দিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় বন্দরে পণ্য আটকে থাকলে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে উৎপাদনে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর। এখনই প্রতিদিন পর্যাপ্তসংখ্যক ট্রেন সরবরাহ করা না হলে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে ইঞ্জিন সংকটের মাঝেই আরো ১০ টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে এই সংকট আরো তীব্র হওয়ার সম্ভানা রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
এব্যপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকোমোটিভ ইন্সপেক্টর এড. এম. আর. মনজু বলেন, পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিন সংকট চরমে পৌছেছে, দ্রুত সমাধান করতে না পারলে রেলসেবা সাংঘাতিক ভাবে ব্যহত হয়ে যেতে পারে। এই সংকটের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রেলের বড় বড় চেয়ারে কতিপয় দুষ্ট অফিসার বসে আছে, তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে রেলের আজকে এই নাজুক অবস্থা। ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্যান্য স্টেইক হোল্ডারদের পক্ষ থেকে ১৬ দফা সুপারিশ পেশ করা হলে যথাসময়ে ইঞ্জিন তো আনেইনি আবার পুরাতনগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে যথাযথ উদ্যোগ ও নিতে  ব্যর্থ হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে রেলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে  কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে রদবদল করা জরুরী। যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফাইল চালাচালি করে সময় ক্ষেপন ও টাইমকিল করলে চলবে না। বর্তমানে একদিকে যেমন যন্ত্রাংশ সংকট তেমন অভিজ্ঞ জনবলের সংকট। এই সংকট কাটাতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যাক্তি, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি সহ একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি গঠন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে হবে। দক্ষতা বিবেচনায়  অফিসারদের পদায়ন করতে হবে, যেখানে প্রত্যেকের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে ।  প্রয়োজনে  বিশেষ ব্যবস্থায় আমদানি ও কেনাকাটার ব্যবস্থা নিয়ে আপাতত সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
ইঞ্জিন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, নতুন ইঞ্জিনের সংকট রয়েছে প্রচুর আর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংকটের ফলে পুরানোগলো যথাসময়ে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঈদকে সামনে রেখে পুরোনো ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে আশা করছি ঈদের চাপ সামাল দিতে সক্ষম হবো।  
যন্ত্রাংশ কেনাকাটার বিষয়ে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) মো. বেলাল সরকার বলেন, যন্ত্রাংশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে, আমরা ইজিপি সিস্টেম মেনে দরপত্র আহবান করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট । ফলে যথাসময়ে সরবরাহ সম্ভব হয়নি। তবে বিদেশি মালামল আসা শুরু হয়েছে,  পাইপলাইনে অনেকগুলো এলসি আছে, চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠতে পারব বলে আশা করছি। ঈদের স্পেশাল ট্রেনের জন্য পূর্বাঞ্চলের ৯০ টি ইঞ্জিন চাহিদার বিপরীতে ৮৫ টা রিলিজ হতে পারে। আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করছি। তবে কেনাকটার প্রক্রিয়া চলমান না রাখলে আবারো সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।

এমএসএম / এমএসএম

বটিয়াঘাটা সালেহা হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিজার গ্রেফতার

মাগুরায় ১৫০ মিটার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন, মনোয়ার হোসেন

শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'চেষ্টা'র উদ্যোগে দুই গৃহহীন নারী পেলেন বাড়ি

নওগাঁ জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন

নন্দীগ্রামে মাদক ও ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার ৭

চাঁদপুরে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নন্দীগ্রামে ছাত্রদল সভাপতিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের

আলু চাষে বাড়তি খরচ,কম দামে বিক্রি- কৃষকদের হতাশা

গাজীপুরে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার-১

নেছারাবাদে সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদে ‘বিচারের পরে বিষপান, বরিশালে চিকিৎসাধীন অটোরিকশাচালকের মৃত্যু

পাবনায় দাদী ও নাতী হত্যার প্রতিবাদে ও দোষী ব্যাক্তির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ

পাবনায় আদালত চত্বরে পকেটমার, সামারি ট্রায়ালে ৬ মাসের কারাদন্ড

বড়লেখায় অবৈধ বালু উত্তোলন: মোবাইল কোর্ট অভিযানে জরিমানা