বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি মাছের চালান জব্দ
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ৬০০ কেজি রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ঘোষণাপত্রে ১৯৫ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৭২৫ কেজি সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে ওয়াটার ফিস আমদানি করে। কিন্তু আমদানি কারক কর্তৃক ঘোষনার বর্হিভূত ১০ প্যাকেজ ৬০০ কেজি রুই মাছ মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদানকৃত অনাপত্তি আইটেম টি না থাকায় সেটি জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
সোমবার (০২ মার্চ) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঘোষনাবর্হিভূত মাছের চালানটি আটক করে কাস্টমস। পরে মঙ্গলবার বিকালে আটক মাছের চালানটি নিলামে বিক্রি করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানি চালানে ঘোষণাপত্রে ‘সমুদ্রের মাছ ও মিষ্টি পানির মাছ’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ১৯৫ প্যাকেজের মধ্যে ১০ প্যাকেজে প্রায় ৬০০ কেজি রুই মাছ পাওয়া যায় এবং ৫১ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটিত হয়। ঘোষণার সাথে পণ্যের ১০ প্যাকেজ স্পষ্ট অমিলের কারণে জব্দসহ কাস্টমস আইন ২০২৩ এর ধারা ৩৩ লঙ্ঘন হওয়ায় ধারা ১৭১ এর উপধারায় ২ লাখ টাকা ও বিমোচন জরিমানা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, আটক চালানটির আমদানিকারক ঢাকার মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ। বেনাপোল বন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বে ছিল বহুল আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আলেয়া এন্টারপ্রাইজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৩ জানুয়ারি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা অবৈধ ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি ইলিশের একটি চালান আটক করে কাস্টমস যার দায়িত্বে ছিলো শান্তর ভাড়া করা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিংক ইন্টারন্যাশনাল। এতেও সংশ্লিষ্ট ছিল একই চক্রের শুল্কফাঁকির সদস্যরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, মূলত আমদানি ঘোষণাপত্রে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদানকৃত কিছু মাছের পারমিট না থাকলেও তারা পারমিশনে নাম বসিয়ে থাকে। আর এ কাজে অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে পরীক্ষণ রিপোর্টে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে লাখ লাখ টাকা শুল্কফাঁকির সহায়তা দিচ্ছে। রুই মাছের চালানও তেমন একটি চালান। ৩১ নম্বর কাঁচামালের মাঠে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট চক্রের এই চালান জব্দের ঘটনা কেবল একটি চালান আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আটক রুই মাছের চালানটি রফাদফায় সমঝোতা না হওয়াতে পরে আটক দেখায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বন্দর ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতি গভীর রাতে শুল্কায়ণ কর ফাঁকি দিয়ে বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়ার কারনে রয়েল এন্টারপ্রাইজকে বিপুল পরিমান জরিমানা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণার বাইরে পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের ভেতর-বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শুল্ক ফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দরের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীরা ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের লাইসেন্স রক্ষা করে আবারও ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আমদানিকারক সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে রুই মাছ আমদানি করেছে। পরে মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০ প্যাকেজে ৬০০ কেজি রুই মাছ উদ্ধার করে তা নিলাম করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এমএসএম / এমএসএম
লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার
লোগাংয়ে এম এন লারমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
রৌমারীতে ফাঁসিতে ঝুলে এক নারীর আত্মহত্যা
লাকসামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন
আদমদীঘিতে রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিকার করবে কে
মোরেলগঞ্জে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন: ৬ নভেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু
মনোহরদীতে এ্যাব মহাসচিবের উদ্যোগে নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত
গাজীপুরে জোড়া খুনের আসামি বরিশালে গ্রেপ্তার
রাজারহাটের ইউএনওর ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: সাংবাদিক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা
যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা পালিয়ে গেল বাড়ির লোকজন
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিতা ও শিশুপুত্র নিহত
রাজশাহীতে উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রগতিশীল সংস্কৃতির শক্তিতে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়