ঝিনাইদহে দখল-দূষণে ১২টি নদ-নদী এখন মরাখাল
বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলেছে ১২টি নদ-নদী। নদ-নদীগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৪২২.০৩ কিলোমিটার। জেলায় দু'টি নদ কপোতাক্ষ ও কুমার। ১০টি নদী নবগঙ্গা, বেগবতী, চিত্রা, ভৈরব, ডাকুয়া, গড়াই, কালিগঙ্গা, ইছামতী, বেতনা ও কোদলা।
কথায় আছে, "নদীমাতৃক বাংলাদেশে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি।"
কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, এসকল নদ-নদী দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটে বর্তমানে মৃতপ্রায়। বিশেষ করে নবগঙ্গা, বেগবতী, চিত্রা, কুমার ও ভৈরব অবৈধ দখলে, শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্যে-দূষণে এবং নাব্যতা হ্রাসের কারণে ক্রমাগতভাবে বিলীন হতে চলেছে। প্রভাবশালীরা নদী দখল করে ভবন, দোকানপাট নির্মাণ ও পুকুর খনন করেছে। কোথাও কোথাও আবার নদী পরিণত হয়েছে মরা খালে। শুষ্ক মৌসুমে এগুলো চাষাবাদের জমিতে পরিণত হয়।
নদ-নদী দখল ও দূষণের প্রধান চিত্র:
জেলার ১২ টি নদ-নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি ৪১৩টি অবৈধ দখলদার সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫টি, শৈলকুপা উপজেলায় ২২৩টি, হরিনাকুণ্ডু উপজেলায় ৫৬টি, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৬২টি, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১০টি এবং মহেশপুর উপজেলায় ৪৭টি। এছাড়াও নদীতে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ এবং প্রায় সকল নদ-নদীতেই নদীপাড়ের জমির মালিকেরা বিভিন্ন প্রজাতির ফসলের চাষ করে থাকে।
পৌর শহরগুলোতে ড্রেনের ময়লা সরাসরি নদীতে ফেলায় পানি দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। নদী পাড়ের ছোট ছোট কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। নদী পাড়ের এলাকার গৃহস্থালির বর্জ্য এবং কিছু স্থানে সরাসরি টয়লেটে বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা যাচ্ছে। এতে করে দূষণ শতগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্প্রতি, নবগঙ্গা নদী থেকে ৫টি স্থানের পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একটি স্থানের পনিতে থাকা সকল উপাদান সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। বাকি চারটি নমুনা পরীক্ষায় একটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এ্যামোনিয়াম নাইট্রোজেন এবং চারটিতেই অতিরিক্ত মাত্রায় অজৈব ফসফরাস পাওয়া গেছে।
প্রভাব:
খননের অভাব এবং উজান থেকে পানি প্রবাহ না থাকায় নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। দখল ও দূষণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ধ্বংসের মুখে জীববৈচিত্র্য। হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। মৎস্যজীবীরা জীবিকার তাগিদে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। দূষিত পানিতে গোসলের ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য:
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান বলেন, নদী পরিবেশের অন্যতম নিয়ামক। নদী দূষণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, 'আমরা অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছি। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় নদ-নদী হতে সকল প্রকার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। চিত্রা ও নবগঙ্গা নদী খননের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, 'নদী দখলমুক্ত করতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চাহিদা দিলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মাসেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সকল প্রকার দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীর দূষণ রোধ করে প্রয়োজনীয় খননের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'
বিভিন্ন গবেষণা ও অনুসন্ধানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ দখলদারিত্ব, বর্জ্য নিষ্কাশন ও নানাপ্রকার দূষণে নদ-নদী বিলীন হওয়ার একই চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে সমাজের সচেতন মহলের দাবি, সরকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে চলা এসকল নদনদী বিলীন হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
এমএসএম / এমএসএম
নদী পেরিয়ে নাগরিক সেবা: ফুলছড়ির চরবাসীর প্রতিদিনের সংগ্রাম
আলফাডাঙ্গার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
আটোয়ারিতে প্রভাবশালী প্রকৌশলী মকবুল ইশারায় ভিটে মাটি ছাড়া ফজলুর পরিবার
বারহাট্টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন
ঘিওর-বানিয়াজুরী আঞ্চলিক সড়কটি খানাখন্দে ভরা যানবাহন চলাচলে মারাত্মক হুমকি
কেশবপুরে অবৈধ ২ ক্লিনিক সিলগালা, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
ভূরুঙ্গামারীতে মাদক প্রতিরোধে ইসলামের আলোকে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
তালায় ফারিয়ার প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
জীবিকার তাগিদে মুন্সিগঞ্জের ৬০টি বেদে পরিবার বসবাস করছেন শিবচরে
ফতুল্লায় ফের বিস্ফোরণ, বাবা-তিন ছেলেসহ দগ্ধ ৪
বাগেরহাটের কচুয়ায় সরকারী রাস্তা বন্ধ করে ইমারত নির্মান, ইউএন’র নির্দেশে বন্ধ
রায়গঞ্জে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অপমানের প্রতিবাদে মানববন্ধন