শাহ শরীফ মসজিদ তৈরির অনন্য কাহিনি
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হিন্দু রাজার অধীনে কাজ করতেন হায়াত আবদে করিম। ২৭ বছর ধরে ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণ করে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েন। ৫০০বছর আগে নির্মিত শাহ শরীফ মসজিদটি এখন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। জানা যায়, উপজেলার ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম ‘বড় শরীফপুর’।
পাশে রয়েছে চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার সীমানা শুরু। বড় শরীফপুরে ১৫৩২ সালে নির্মিত হয় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। মসজিদটি এখনো দৃষ্টিনন্দন। ৫০০ বছরেও এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়নি।কথিত আছে, হায়াত আবদে করিম নামে এক ব্যক্তি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ওই এলাকাটি শাসন করতেন রাজা নাটেশ্বর রায়। হায়াত আবদে করিম নাটেশ্বর রাজার বাড়িতে চাকরি করতেন। একদিন ওই এলাকায় শাহ শরীফ বোগদাদী (রহ.) নামে এক পীরের আবির্ভাব ঘটে।
পরে হায়াত আবদে করিম তার অনুসারী হন। একসময় রাজা নাটেশ্বর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অন্যদিকে নিঃসন্তান হায়াত আবদে করিম রাজা নাটেশ্বর রায়ের অধীনে কাজ করে নিজের বেতনের টাকায় দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। ইট পুড়িয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত নকশায় টালি ইট ও চুন-সুরকির ওপর খোদাই করে নির্মাণ করা হয় ঐতিহাসিক মসজিদটি। মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৪৮ মিটার ও প্রস্থ ৫ দশমিক ৯৪ মিটার।
মসজিদের ওপরে তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজে পদ্মফুলের নকশা রয়েছে। মসজিদের সামনের দেয়ালে ফার্সি ভাষায় শিলালিপি রয়েছে। এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৩৬০টি মসজিদের মধ্যে একটি বলে জানা গেছে। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির পাশে রয়েছে নাটেশ্বর দীঘি। রাজা নাটেশ্বর তার নামানুসারে এই দীঘি খনন করেন। ৩৭ একর জমির ওপর দীঘিটি খনন করা হয়। রাজা নাটেশ্বর দীঘির পশ্চিমপাড়ে রায়েরবাগ নামে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। নাটেশ্বর দীঘির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে রয়েছে পীর হজরত শাহ শরীফ বোগদাদী (রহ.)-এর মাজার। সমতল ভূমি থেকে ৩০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ মাজারটিতে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ওরস ও ওয়াজ মাহফিল। এতে সমাগম ঘটে লক্ষাধিক ভক্তের। মসজিদের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী- খাল। আর পশ্চিম-দক্ষিণ পাড় ও কোনায় রয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা ৯ আসনের সাবেক এমপি মরহুম কর্নেল (অবঃ)এম আনোয়ারুল আজিম এর কবর,এবং একিটি এতিমখানা ও মাদরাসা,বিশাল দুটি দীঘি, যা জোড় সতীনের দীঘি নামে পরিচিত। দর্শনার্থীরা জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এ স্থানগুলো ঘুরে বেড়ালে মনটা আনন্দে ভরে যায়। ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহের শোভাবর্ধন করা হলে হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ইতঃপূর্বে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এলাকাটি অধিগ্রহণ করে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলেও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানটিকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে কুমিল্লা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
এমএসএম / এমএসএম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ
লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত
উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক
সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫
হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি
চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি
ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা
মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান
কেডিএর সেবা ও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভয়নগরে মতবিনিময়
Link Copied