কৃষকের ভাগ্য বদলাতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে নামলেন তারেক রহমান
মার্চ মাসের তপ্ত তামাটে দুপুর। উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের কাহারোলের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে হাজারো মানুষের গগনবিদারী স্লোগানে। মঞ্চের সামনে মেঠোপথ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর হাতে একটি চকচকে রুপোলি কোদাল। কয়েক মুহূর্তের জন্য চারপাশ স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিক ৪৭ বছর আগে, ১৯৭৭ সালে এভাবেই গ্রাম-বাংলার মানুষের ভাগ্য বদলাতে মাটির টানে কোদাল হাতে নেমেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের সেই সোনালী স্মৃতি যেন আজ জীবন্ত হয়ে উঠল বলরামপুর সাহাপাড়া খালের পাড়ে। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে প্রথম কোদালের কোপটি দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম কৃষি ও পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের এই মহাপরিকল্পনা কেবল মাটি কাটা নয়, বরং বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভাগ্য বদলানোর এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।
১. ইতিহাসের আয়নায় জিয়া মডেল ও সবুজ বিপ্লব:
এই কর্মসূচির শিকড় মিশে আছে ১৯৭৭ সালের এক সাহসী পদক্ষেপে। স্বাধীনতার পর যখন বাংলাদেশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষণা করেছিলেন আমরা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য গড়ব।
কোদাল হাতে রাষ্ট্রনায়ক: জিয়াউর রহমানই ছিলেন প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি শীত-গ্রীষ্ম উপেক্ষা করে নিজে কোদাল হাতে ড্রেন ও খালে নেমেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষিই বাংলাদেশের লাইফলাইন।
বাংলাপিডিয়া ও বিআইআইএসএস জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯-১৯৮১ সালের মধ্যে শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে রেকর্ড ৩,৬৩৬ মাইল খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল। রিসার্চগেটের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির ফলে ১৯৮০ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ অতিরিক্ত ১০.৩ লাখ টন খাদ্য উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চাল রপ্তানিকারী দেশে রূপান্তরিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তৎকালীন বিশ্বনেতৃত্ব এই প্রচেষ্টাকে জিয়া মডেল হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
২. কাহারোলের জনসভায় তারেক রহমান: কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।
উদ্বোধন শেষে সাহাপাড়া খালের পাড়ে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি জনতার সাথে একাত্ম হন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের উদ্দেশ্যে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন “কেমন আছেন আপনারা? এই যে খাল কাটলে কী এলাকার মানুষের উপকার হবে? আপনারা কি খুশি? যারা যারা খুশি একটু হাত তোলেন তো! আমরা এমন একটি দল করি, শহীদ জিয়ার দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল করি। আমাদের কাজ হলো সেই কাজগুলো করা যা করলে মানুষের উপকার হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাহাপাড়া খালের সুনির্দিষ্ট প্রভাব তুলে ধরে বলেন:
এই ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের কাজ শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচের সুবিধা পাবেন। ১২০০ হেক্টর জমি স্থায়ী সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ এই খালের পানি ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল এই এলাকায় উৎপাদিত হবে ইনশাআল্লাহ।
৩. নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন: কৃষি ঋণ মওকুফ ও ফ্যামিলি কার্ড
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের এক মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, "আমরা নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করব। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বিএনপি সরকার সেই ঋণ মওকুফ করেছে। আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়াতে চাই।
তিনি গ্রামীণ মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "সারা বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবারের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। একটু সময় প্রয়োজন, আমরা ধীরে ধীরে প্রতিটি গ্রামে এই সুবিধা পৌঁছে দেব"।
৪. আধুনিক প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সংকট:
প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে মাটির নিচের পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন
"আজ থেকে ১০ বছর আগে যতটুকু গভীরে গেলে পানি পেতেন, এখন আরও গভীরে যেতে হয়। মাটির নিচের পানি কমে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিপদে পড়বে। সেজন্য আমাদের মাটির উপরের পানি ধরে রাখতে হবে। এই ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমেই আমরা নদী ও খালগুলোকে সচল করব।
তিনি ঘোষণা করেন, খালের দুই পাড়ে ৭,০০০ ফলদ ও মূল্যবান বৃক্ষ রোপণ করা হবে এবং পাড় দিয়ে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হবে যাতে গ্রামীণ যোগাযোগ সহজ হয়।
৫. ইন্ডাস্ট্রি জোন-উত্তরাঞ্চলের জন্য মহাবার্তা:
দিনাজপুর ও রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য এক বিশাল চমক নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন "ঈদের পর আমি বড় বড় শিল্পপতিদের নিয়ে বসবো। উত্তরাঞ্চলে কৃষিনির্ভর মিল-ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হবে যাতে শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান হয়। আমরা চাই মানুষের আয় দ্বিগুণ হোক।
বক্তৃতার শেষে প্রধানমন্ত্রী জনতার সাথে একাত্ম হয়ে শ্লোগান ধরেন "করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"। তিনি শপথ নেন যে, জনগণের সমর্থন থাকলে এই ২০ হাজার কিলোমিটার খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে। ১২ কিলোমিটার খালের কাজ শেষ হলে তিনি পুনরায় এটি দেখতে কাহারোলে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।
এমএসএম / এমএসএম
কৃষকের ভাগ্য বদলাতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে নামলেন তারেক রহমান
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর
স্মার্টফোনের নেশায় শৈশব বিপন্ন: ‘ডিজিটাল মাদকে’ বুঁদ শিশু থেকে অভিভাবক
র্যাগিং নয়, সম্মানই হোক ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি
ফ্রিজের বরফ জমা মাছ-মাংস দ্রুত নরম করার কৌশল
পূর্ণিমা রাতে লঞ্চভ্রমণ: নদী, জোছনা ও নিঃসঙ্গতার ত্রিভুজপ্রেম
দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনীবার্তা
দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনীবার্তা
ফেসবুক ছিল বিনোদনের জায়গা, এখন আয়ের মূল উৎস
তোমাদের মৃত্যুর দায় আমরা এড়াতে পারি না
সুফি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার ১ যুগ পার করল সুফি স্পিরিচুয়াল ফাউন্ডেশন
ব্যতিক্রমী ধারার আলো নেভার পথে