ঢাকা সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটের পতন


আব্দুর রউফ photo আব্দুর রউফ
প্রকাশিত: ৭-৫-২০২৬ দুপুর ৪:৩৫

২০২৬ সালের মে মাস। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান "অপারেশন এপেক ফিউরি" শেষে ওয়াশিংটন যুদ্ধ জয়ের দাবি করলেও, স্যাটেলাইট চিত্র এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। ইরান কেবল তার পারমাণবিক সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মার্কিন সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
১. পারমাণবিক থ্রেশহোল্ডে ইরান: আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাম্প্রতিক মে মাসের গোপন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান এখন একটি "নিউক্লিয়ার থ্রেশহোল্ড স্টেট" বা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চূড়ান্ত ধাপে দাঁড়িয়ে যা ১০টি বোমার সক্ষমতা।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ কেজিরও বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। তবে কারিগরিভাবে ২০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছানো যতটা কঠিন, ৬০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো তার চেয়ে অনেক সহজ।
বোমা তৈরির সক্ষমতা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান চাইলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই মজুত ব্যবহার করে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারে।

ডার্টি বোম: পূর্ণাঙ্গ বোমার আগে ইরান "রেডিওলজিক্যাল ডিসপার্সাল ডিভাইস" বা ডার্টি বোম তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করেছে। এটি কোনো বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটাবে না ঠিকই, কিন্তু সাধারণ বিস্ফোরকের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে একটি পুরো শহরকে কয়েক দশকের জন্য বিষাক্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত করতে সক্ষম।
২. মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংসযজ্ঞ ও হোয়াইট হাউসের তথ্য গোপনের অভিযোগ: ওয়াশিংটন শুরুতে দাবি করেছিল যে, ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সামান্য। কিন্তু "ওয়াশিংটন পোস্ট" এবং "আনাদোলু এজেন্সি"র সর্বশেষ স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে।
২২৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত: ইরানের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি মার্কিন ঘাঁটির অন্তত ২২৮টি অবকাঠামো ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১৭টি ভবন এবং ১১টি অত্যন্ত মূল্যবান সামরিক সম্পদ রয়েছে।
পঞ্চম নৌবহরের পঙ্গু দশা: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের তিনটি ঘাঁটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতটাই বেশি যে, পঞ্চম নৌবহরকে সাময়িকভাবে ফ্লোরিডার ম্যাকডিল এয়ারফোর্স বেসে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে পেন্টাগন।
হাই-ভ্যালু অ্যাসেট ধ্বংস: সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে একটি ই-৩ সেনট্রি (এ ডব্লিউএসিএস) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া জর্ডান ও আমিরাতে আমেরিকার গর্ব "থাড" রাডার সিস্টেম এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অকেজো করে দিয়েছে ইরানি ড্রোন।
৩. অপারেশন এপেক ফিউরি ও যুদ্ধের নতুন মোড়: ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানে হাজার হাজার হামলা চালালেও তেহরানের মূল শক্তি তাদের মাটির গভীরের "ফোরদো" এবং "নাতাঞ্জ" স্থাপনাগুলো এখনো কার্যকর।
কৌশলগত পরাজয়: ইরানের হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট । তারা কেবল সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং গুণগত মান দিয়ে মার্কিন রাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে টার্গেট করেছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনী তাদের কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সেনাদের অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ হোটেলেও আশ্রয় নিতে হয়েছে।
প্রাণহানি: পেন্টাগন স্বীকার করেছে যে, ইরানি হামলায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সূত্রমতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

৪. আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব: ইরানের এই পাল্টা জবাব কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা।
আরব বিশ্বের অবস্থান: কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো যারা মার্কিন ঘাঁটিকে ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, তারা এখন ইরানের সরাসরি টার্গেটে পরিণত হয়েছে। এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
তেল রাজনীতি: হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু ইরানের "ব্লকেড" হুমকি জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।
ইসরায়েলের উদ্বেগ: ইরানের এই সক্ষমতা ইসরায়েলের জন্য এক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিকে "একজিসটেনশিয়াল থ্রেট" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০২৬ সালের মে মাসের এই বাস্তবতা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আর একক কোনো শক্তির আধিপত্য নেই। ইরানের পারমাণবিক "কার্ড" এবং তাদের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ওয়াশিংটনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতা করলেও, আস্থার সংকট এতটাই গভীর যে কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো সুদূরপরাহত। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তারা কি সত্যি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাবে, নাকি এই সক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেবে?
তথ্য সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এমএসএম / এমএসএম

ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটের পতন

১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে "সুপার এল নিনো": ২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর

কিয়ারা আদভানির ত্বক কেন এত উজ্জ্বল? কারণ জেনে নিন

গ্রীষ্মের ছাতা বাছাই করার আগে জেনে নিন

এই কুলফি মালাই...

কৃষকের ভাগ্য বদলাতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে নামলেন তারেক রহমান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর

স্মার্টফোনের নেশায় শৈশব বিপন্ন: ‘ডিজিটাল মাদকে’ বুঁদ শিশু থেকে অভিভাবক

র‍্যাগিং নয়, সম্মানই হোক ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি

ফ্রিজের বরফ জমা মাছ-মাংস দ্রুত নরম করার কৌশল

পূর্ণিমা রাতে লঞ্চভ্রমণ: নদী, জোছনা ও নিঃসঙ্গতার ত্রিভুজপ্রেম

দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনীবার্তা

দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনীবার্তা