এই কুলফি মালাই...
এই শহরের ব্যস্ত রাস্তায়, হাজারো মানুষের ভিড়ে, প্রতিদিন হাঁটতে হাঁটতে চলে একজন মানুষ। তার হাতে একটা পুরনো সাইকেল, তার পিছনের ক্যারিয়ারে লাল কাপড় দিয়ে বাঁধা বড় মাটির পাতিলের ভেতরে বরফ শীতল পানিতে সাজানো ঠাণ্ডা কুলফি মালাই।
গরমে ক্লান্ত শহরবাসীর কাছে হয়তো এটা শুধু একটুখানি স্বস্তি। কিন্তু তার জন্য এটাই জীবন, এটাই সংগ্রাম, এটাই বেঁচে থাকার গল্প।
“এই কুলফি মালাই... এই যে কুলফি মালাই...” এই ডাকটাই তার পরিচয়। কেউ তাকে নাম ধরে ডাকে না, চেনে না। সবাই চেনে তার পেশা দিয়ে “এই কুলফি, অথবা এই মালাই” নামে। অথচ, তার সুন্দর একটি নাম আছে, মোঃ হেলাল উদ্দিন, বাড়ি পাবনা। এই শহরে ভাড়া বাসায় থেকে তার আয় রুটিরুজি ও জীবন চলে।
সকালটা তার শুরু হয় খুব ভোরে। যখন শহরের বেশিরভাগ মানুষ তখনও ঘুমে, ঠিক তখনই তিনি বেরিয়ে পড়েন দিনের প্রস্তুতিতে। মালাই তৈরির কারখানা থেকে সারাদিন বিক্রি করার জন্য জোগাড় করেন এই কুলফি। কারণ তিনি জানেন এই কুলফি বিক্রিই তার দিনের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
দিনের শুরুতে তার চোখে থাকে একটাই আশা, আজ হয়তো একটু বেশি বিক্রি হবে। কারণ, বাড়িতে অপেক্ষা করছে তার পরিবার, স্ত্রী, আর ছোট্ট সন্তানেরা। তাদের মুখের হাসিটাই তার ক্লান্তির একমাত্র ওষুধ।
কিন্তু এই জীবনটা এত সহজ নয়। সূর্যের তাপে যখন রাস্তাগুলো পুড়ে যায়, তখনও তিনি হাঁটেন। ঘাম ঝরতে থাকে, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তবুও থামেন না। কারণ, থেমে গেলে চুলা জ্বলবে না, সন্তানের মুখে খাবার উঠবে না।
কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। অনেকদিনই হয়; সারাদিন হাঁটার পরেও বিক্রি হয় খুব কম। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যখন পকেটে খুব সামান্য টাকা থাকে, তখন তার চোখে ভেসে ওঠে হতাশা।
আর বৃষ্টি আসলে তো হতাশার রুপ আরও ভয়াবহ হয়। বৃষ্টি তার জন্য আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ। যখন আকাশ মেঘে ঢেকে যায়, যখন টিপটিপ বৃষ্টি নামে, তখন তার সব আশা যেন বৃষ্টির পানির মতো ধুয়ে যায়।
কারণ, বৃষ্টির দিনে কেউ কুলফি মালাই খেতে চায় না। তার সাইকেল নামক ঠেলাগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার একপাশে, আর তিনি চেয়ে থাকেন আকাশের দিকে। মনে মনে বলেন, “আজ যদি বৃষ্টি না হতো”।
এই মানুষটার জীবনটা যেন এক অদৃশ্য লড়াই। কেউ দেখে না তার কষ্ট, কেউ জানে না তার গল্প। তবুও তিনি হাল ছাড়েন না। কারণ, তিনি জানেন, তার উপর নির্ভর করছে একটা পরিবার, ছোট্ট সন্তানের স্বপ্ন। রাতে যখন তিনি বাড়ি ফেরেন, ক্লান্ত শরীর নিয়ে, তখন তার সন্তানেরা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে। “আব্বু, আজ কত বিক্রি হলো?”
তিনি হয়তো হাসেন, হয়তো সত্যিটা বলেন না। কারণ, সন্তানের মুখে হাসি দেখার জন্য অনেক সময় নিজের কষ্ট লুকিয়ে রাখতে হয়। তার স্ত্রীও পাশে থাকেন নিঃশব্দ শক্তি হয়ে। কমে-কমে সংসার চালান, স্বামীর কষ্ট বোঝেন, আর প্রতিদিন নতুন করে আশা জোগান।
এই শহরে আমরা প্রতিদিন কত মানুষ দেখি, কেউ অফিসে যায়, কেউ ব্যবসা করে, কেউ বড় বড় স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলে। কিন্তু, এই কুলফি মালাইওয়ালার মতো মানুষগুলো, তারা নীরবে আমাদের জীবনের অংশ হয়ে থাকে।
একটা কুলফি কিনে আমরা হয়তো সামান্য আনন্দ পাই, কিন্তু তার জন্য সেটাই একটা দিনের লড়াইয়ের ফল। আমরা মজা করে কুলফি মালাই খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা কেউ কি জানি, একজন কুলফি মালাইওয়ালার প্রতিটি দিন সংগ্রামের? যার প্রতিটি সকাল শুরু হয় নতুন আশায়। যাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় শক্তি!
Aminur / Aminur
এই কুলফি মালাই...
কৃষকের ভাগ্য বদলাতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে নামলেন তারেক রহমান
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর
স্মার্টফোনের নেশায় শৈশব বিপন্ন: ‘ডিজিটাল মাদকে’ বুঁদ শিশু থেকে অভিভাবক
র্যাগিং নয়, সম্মানই হোক ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি
ফ্রিজের বরফ জমা মাছ-মাংস দ্রুত নরম করার কৌশল
পূর্ণিমা রাতে লঞ্চভ্রমণ: নদী, জোছনা ও নিঃসঙ্গতার ত্রিভুজপ্রেম
দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনীবার্তা
দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনীবার্তা
ফেসবুক ছিল বিনোদনের জায়গা, এখন আয়ের মূল উৎস
তোমাদের মৃত্যুর দায় আমরা এড়াতে পারি না
সুফি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার ১ যুগ পার করল সুফি স্পিরিচুয়াল ফাউন্ডেশন