ঢাকা শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

যৌতুক দাবিতে স্বামীর নির্যাতনে বিষপানে গৃহবধূর মৃত্যু, থানায় মামলা


মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি photo মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮-৪-২০২৬ দুপুর ১১:৫৮

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে মৃত্যু হয়েছে। 
এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, ভাসুর-ননদসহ পরিবারের ৭ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গত ১ এপ্রিল থানায় এ মামলা করা হয়। নিহত শাহিদা আক্তার উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে। 
আর অভিযুক্তরা হলেন, সাহিদার স্বামী মোনাইদ হোসেন (২৭), শ্বশুর মো. শফিকুল ইসলাম (৫৫), ভাসুর জুনাইদ হোসেন (৩২), ননদ মোসা. চম্পা আক্তার (১৯) ও মামা শ্বশুর মো. আতিকুর রহমান মন্ত্র (৫৫), কাজল মিয়া (৪৬) এবং আব্দুল বারেক (৬২)। তারা সবাই একই উপজেলার পাশ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক আগে এক প্রবাসীর সাথে সাহিদার বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন সাহিদা। গত বছরের আগস্টে নানা বাহানায় বাড়িতে গিয়ে সাহিদাকে ধর্ষণ করেন মোনাইদ হোসেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করেন সাহিদা। মামলা থেকে বাঁচতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন সাহিদা। কিন্তু বিয়ের পর স্বামী মোনাইদসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে যৌতুক হিসেবে ছয় লাখ টাকা বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন মোনাইদ। দরিদ্র বাবার পক্ষেইে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় সাহিদা। এতে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। সেইসাথে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন সাহিদা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে রাতেই তিনি মারা যান। পরে ১ এপ্রিল নিহতের বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে সাহিদার স্বামী মোনাইদ, শ্বশুরসহ পরিবারের সাত জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা শহিদ মিয়া বলেন, মোনাইদ মাদকসেবন করে, জুয়া খেলে। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে আমার মেয়েকে সে বিয়ে করে। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করে। যৌতুক দিতে না পারায় গালাগাল করে তারা সাহিদাকে বলে - 'কত মানুষ আত্মহত্যা করে, তুই আত্মহত্যা করে মরতে পারস না'। এদের মারধর, গালাগাল, অপমান নির্যাতন সইতে না পরে আমার মেয়ে বিষ খেয়ে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই। মামলার পর আসামিরা এলাকায় ঘুরছে, পুলিশ তাদের ধরে না।
এ বিষৈ মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবস্থান সনাক্তকের চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

Aminur / Aminur

রাজস্থলীতে এ্যাম্ভুল্যান্সের চালক ডিউটি অবহেলায় রোগীবহন ভোগান্তি স্বীকার

ভূরুঙ্গামারীতে সার্কেল এএসপি নেতৃত্বে ভারতীয় প্রাসাধনী ও বাসুমতি চাল জব্দ

নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার

রাজারহাটে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু

জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তারেক মঞ্চের মতবিনিময় সভা, ১২ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা বিএনপির: প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সুবর্ণচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

আমি সবার এমপি, সবার কল্যাণে কাজ করবো : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

কক্সবাজারে ট্রাফিক পুলিশ ও দালালদের চাঁদার রাজত্ব

সলঙ্গায় পৌরসভা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড়

বুড়িগঙ্গায় গলাকাটা লাশ উদ্ধার