কুতুবদিয়ায় ‘চতুর্থ শ্রেণির’ কর্মচারীর হাতে জিম্মি প্রসূতি সেবা: জীবনঝুঁকিতে মা ও নবজাতক
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বাড়িতে অবৈধভাবে প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে উম্মুল কুলছুম বিউটি নামের এক মিডওয়াইফ সহকারীর বিরুদ্ধে। তার অবহেলা ও অপচিকিৎসায় সম্প্রতি এক প্রসূতি ও নবজাতক মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈয়ারবিল মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী বিউটি নিজেকে দক্ষ গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রসব করানোর নামে বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ঘটনায়, প্রসববেদনা নিয়ে এক নারী ওই কেন্দ্রে গেলে তাকে কৌশলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে গিয়ে তিনি প্রসব করান।
পরিবারের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের উপযুক্ত পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালানোর পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির জন্ম হলেও তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।
পরে অবস্থার অবনতি হলে মা ও নবজাতককে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নবজাতককে কয়েকদিন আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারকে ধৈর্য ধরার কথা বলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতর থেকে জানা যায় ,অভিযুক্ত দাইনার্স বিউটি মূলত মহেশখালী উপজেলার একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দাইনার্স), বর্তমানে কুতুবদিয়ায় প্রেষণে কর্মরত।
তিনি কৈয়ারবিল ইউনিয়ন মডেল পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মিডওয়াইফ সহকারী হিসেবে কাজ করেন।প্রসব করানোর মতো অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, উম্মে কুলছুম বিউটি কৈয়ারবিল মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩ থেকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি বাণিজ্য করছেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মুখ না খুলতে ভুক্তভোগী পরিবারকে তার স্বামী আবুল হোসেন চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সাকিব বলেন,
“একপ্রকার জোর করে ডেলিভারি করানো হয়েছে। আমার বড় ভাইয়ের সন্তান এখনো ঝুঁকিতে। আমরা চাই, আর কেউ যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও উপযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়া বাড়িতে প্রসব করানো মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া জানান,“উম্মুল কুলছুম বিউটি একজন দাইনার্স। মিডওয়াইফ সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তাকে ডেলিভারি করানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও তার অপেশাদার চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ প্রসব বাণিজ্য বন্ধ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এমএসএম / এমএসএম
বাগেরহাট পৌর শহরে মামাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাই নিহত
মনোহরগঞ্জ সন্তান ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী
আত্রাইয়ে ট্রাক্টরের মাটি পরিবহনে রাস্তার বেহাল দশা: বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
তাড়াশে মাঠের ধান ঘরে তুলতে কৃষকের চরম দুর্ভোগ- রাস্তা তো নয় যেন পাকের জমি
চন্দনাইশে পৈতৃক ভিটায় ঘর করতে গিয়ে প্রতিবেশীর হামলার শিকার,আহত-৩
খালিয়াজুরীতে স্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা
নেত্রকোণার মদনে গভীর রাতে ২০ টন সরকারি চাউলসহ ১টি ট্রাক আটক করেছে প্রশাসন
ঈদে আসছে রাণীশংকৈলের সেরা ২৫ মনের কালাবাবু, দাম ১০ লাখ মাত্র
ধোপাদহে রক্তাক্ত হামলা:রহিম সিকদারকে কুপিয়ে আহত, ঢাকায় প্রেরণ
দৃষ্টান্তমূলক সেবায় আইজিপি পদক পেলেন নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আল মামুন সরকার
কাপাসিয়ায় ৫ খুন: পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ঘাতক ফোরকানের ‘আত্মহত্যা’, মোবাইল উদ্ধার
নাগরপুরে ১৫ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার