ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

‎কুতুবদিয়ায় ‘চতুর্থ শ্রেণির’ কর্মচারীর হাতে জিম্মি প্রসূতি সেবা: জীবনঝুঁকিতে মা ও নবজাতক


কুতুবদিয়া প্রতিনিধি photo কুতুবদিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯-৪-২০২৬ দুপুর ২:৪০

‎কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বাড়িতে অবৈধভাবে প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে উম্মুল কুলছুম বিউটি নামের এক মিডওয়াইফ সহকারীর বিরুদ্ধে। তার অবহেলা ও অপচিকিৎসায় সম্প্রতি এক প্রসূতি ও নবজাতক মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈয়ারবিল মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী বিউটি নিজেকে দক্ষ গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রসব করানোর নামে বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ঘটনায়, প্রসববেদনা নিয়ে এক নারী ওই কেন্দ্রে গেলে তাকে কৌশলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে গিয়ে তিনি প্রসব করান।

‎পরিবারের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের উপযুক্ত পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালানোর পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির জন্ম হলেও তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।

‎পরে অবস্থার অবনতি হলে মা ও নবজাতককে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নবজাতককে কয়েকদিন আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকতে হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবারকে ধৈর্য ধরার কথা বলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।

‎উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতর থেকে জানা যায় ,অভিযুক্ত দাইনার্স বিউটি মূলত মহেশখালী উপজেলার একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দাইনার্স), বর্তমানে কুতুবদিয়ায় প্রেষণে কর্মরত।

‎তিনি কৈয়ারবিল ইউনিয়ন মডেল পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মিডওয়াইফ সহকারী হিসেবে কাজ করেন।প্রসব করানোর মতো অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, উম্মে কুলছুম বিউটি কৈয়ারবিল মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

‎কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩ থেকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি বাণিজ্য করছেন।

‎এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মুখ না খুলতে ভুক্তভোগী পরিবারকে তার স্বামী আবুল হোসেন চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সাকিব বলেন,

‎“একপ্রকার জোর করে ডেলিভারি করানো হয়েছে। আমার বড় ভাইয়ের সন্তান এখনো ঝুঁকিতে। আমরা চাই, আর কেউ যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়।”

‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও উপযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়া বাড়িতে প্রসব করানো মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

‎অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া জানান,“উম্মুল কুলছুম বিউটি একজন দাইনার্স। মিডওয়াইফ সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তাকে ডেলিভারি করানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও তার অপেশাদার চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ প্রসব বাণিজ্য বন্ধ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এমএসএম / এমএসএম

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তিনদিন আমদানি-রফতানি বন্ধ

আত্রাইয়ে টিকা দেওয়ার একদিন পর ৩ মাসের শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ৭২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

তালায় ধানের বাম্পার ফলন তবুও দুশ্চিন্তায় কৃষক

আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মনোহরগঞ্জে এলপিজির সংকট - দ্বিগুণ দামে বিক্রি

মুকসুদপুর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এর বিভিন্ন কেন্দ্রের কক্ষ প্রত্যবেক্ষদের সাথে প্রশাসনের মত বিনিময় সভা

ধুনটে মউশিক শিক্ষক সমন্বয় সভা ও ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লাকসামে এক যুবকের আত্মহত্যা

বাকেরগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং, এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ জনজীবন বিপর্যস্ত

রায়গঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার

জরাজীর্ণ মসজিদে চলছে নামাজ

নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা