নেই বুকশেলফ ও বই: উদ্বোধনের পাঁচ মাসেও চালু হয়নি নালিতাবাড়ী পাবলিক লাইব্রেরী
উদ্বোধনের ফিতা কাটা হয়েছিল জাঁকজমক করে। বলা হয়েছিল— এখান থেকেই শুরু হবে তরুণদের জ্ঞানযাত্রা। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবতা যেন নির্মম এক বিদ্রূপ। শেরপুরের নালিতাবাড়ী কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি আজও রয়ে গেছে নামমাত্র। দেয়াল আছে, ছাদ আছে, কিন্তু প্রাণ নেই। বই রাখার বুকশেলফ নেই, নেই একটি বইও। জ্ঞানচর্চার আশায় যারা তাকিয়ে ছিল, তাদের চোখে এখন শুধুই হতাশা।
নালিতাবাড়ী পৌরসভার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত এ লাইব্রেরি গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তরিঘড়ি করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আক্তার ববি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন—এই লাইব্রেরি হবে উপজেলার তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। তবে পাঁচ মাস পার হলেও বাস্তবে শুরু হয়নি কোনো কার্যক্রম।
এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধনের পরও কার্যত অচল থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এই আয়োজন কি কেবল ক্যামেরার সামনে দায় সারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল? সেদিন শোনানো আশার বাণীগুলো কি আজ ফাঁপা কথায় পরিণত হয়নি?
লাইব্রেরি মানে শুধু ভবন নয়—লাইব্রেরি মানে বই, পাঠক, পরিবেশ আর নিয়মিত কার্যক্রম। অথচ এখানে নেই কোনো বই, নেই পাঠক, নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ। যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরিবিলি পড়াশোনা করবে, অভিভাবকেরা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখবে—সেই জায়গাটি এখন অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা হলরুমের সামনে অবস্থিত ভবনটির কাজ সম্পূর্ণ হলেও লাইব্রেরীর কোন কাজই হয়নি।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো বইয়ের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। বুকশেলফও নেই। নেই পাঠ্যপুস্তক, রেফারেন্স বই কিংবা দৈনিক পত্রিকা। সারাক্ষণ তালাবদ্ধ থাকা রুমটিতে পাঠকদের বসার জন্য নেই চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থা। ভবনটির বারান্দার ওপর ‘কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী’ লিখিত একটি ব্যানার রয়েছে। এর বাইরে ভবনটিকে পরিপূর্ণভাবে লাইব্রেরি হিসেবে বলাও যায়না। ফলে লাইব্রেরির মূল উদ্দেশ্য এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি পাবলিক লাইব্রেরি কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; বই, আলো-বিদ্যুৎ, আসবাব ও পাঠকের উপস্থিতিতেই তার প্রাণ। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া উদ্বোধন করায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
নালিতাবাড়ী পৌরশহরের বাসিন্দা ও সরকারি নাজমুল স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, বলেন, “আমরা লাইব্রেরি চালুর আশায় ছিলাম। পড়াশোনার জন্য শান্ত ও ভালো পরিবেশ খুব দরকার। কিন্তু পাঁচ মাসেও লাইব্রেরী কক্ষে কোন বই না থাকায় হতাশ লাগছে।”
নালিতাবাড়ী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর বই ও বুকশেলফ এখনো ক্রয় করা হয়নি। কবে নাগাদ চালু হবে এ সম্পর্কে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক (অ:দা:) মো: আল আমিন জানান, নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলে আমি উনাকে অবগত করবো যেন দ্রুত লাইব্রেরীটি চালু করা হয়।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন- প্রয়োজনীয় বই ছাড়াই কেন লাইব্রেরী উদ্বোধন করা হলো? নাকি নামফলকে নিজের নামের চিহ্ন রাখতেই তরিঘড়ি করে উদ্বোধন করা হয়েছিলো।
নালিতাবাড়ীবাসীর দাবি, অবিলম্বে বই সংগ্রহ করা হোক। যেন এই লাইব্রেরী শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত জ্ঞানকেন্দ্রে রূপ নেয়। এখন সবার অপেক্ষা, কবে খুলবে লাইব্রেরির দরজা, আর কবে বইয়ে ভরে উঠবে খালি তাকগুলো?
এমএসএম / এমএসএম
অভাবের যন্ত্রণায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ ছবদের আকন্দ
ধামরাইয়ে ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ
চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে কুমির আটক
শান্তিগঞ্জে মা ও শিশুর পুষ্টি মান উন্নয়নে ‘মেইন’ প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
খালিয়াজুরীর হাওড়ে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু ও এক নারী আহত
বাঘায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট ২০২৬: খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিক আটক
রাতের অভিযানে মধুখালীতে মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ
নোয়াখালীতে দুই ভাটাকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা
৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে হাত-পা বেধে ধর্ষণের অভিযোগ : থানায় মামলা
নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে ১ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মহিলা মাদক কারবারি আটক
টঙ্গীতে অপহরণ করে ছাদে নিয়ে নির্যাতন, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ৯৯৯ এ ফোনে রক্ষা : থানায় অভিযোগ