ঈদযাত্রায় প্রস্তুত দৌলতদিয়া ঘাট, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কর্তৃপক্ষ
ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। যাত্রী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করতে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি, ঘাট ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই নৌরুটে ঈদকে ঘিরে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।
বিশেষ করে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও যানবাহনের নিরাপদ ও দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ফেরি, লঞ্চ, নৌপুলিশ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ঘাট নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি উদ্যোগ। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ও নৌপুলিশ থেকে মাইকিং করে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঘাট সংস্কার, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা জোরদার, ফেরির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে একযোগে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, নৌপুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন।
এ ছাড়া, ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে বিআইডব্লিউটিএ বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, লঞ্চের ছাদে যাত্রা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সচল থাকা তিনটি ফেরিঘাটে শেষ মুহূর্তে ছোটখাটো সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। যাত্রীদের ফেরিতে ওঠার জন্য আলাদা লেন করে দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। পশুবাহী ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরিতে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, আশা করছি দৌলতদিয়া ঘাটে এবার ভোগান্তি হবে না। কারণ ঘাট ব্যবস্থাপনা অন্যবারের থেকে এবার ভালো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় পন্টুনের ওপর ইজিবাইক ও রিকশা গিয়ে ভিড় করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।
নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার। যাত্রীদের সচেতন করতে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে। পুলিশ কঠোরভাবে নজরদারি করছে, যার ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এপর্যন্ত ঘটেনি।
ট্রাক চালক ইদ্রিস ব্যাপারি বলেন, আমরা চাই ঘাটে যানজট কম হোক। ফেরি ঘাট ক্লিয়ার থাকুক সবসময়, মানুষজন সুযোগসুবিধা পাক। ঈদের সময় আসলেই ঘাটে খুব যানজট হয়, মানুষের অসুবিধা হয়। গরমে তাদের কষ্ট হয়।
বাসচালক রোমান শেখ বলেন, ফেরিঘাটে ছোট ছোট গাড়ির কারণে যানজট হয়। ফলে আমাদের বাস ফেরিতে উঠতে কষ্ট হয়। অথচ কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বড় গাড়ির দোষ হয়ে থাকে।
আরেক চালক কামাল মিয়া বলেন, পন্টুনের ওপর ছোট গাড়ি না থাকলে সবার জন্যই যাতায়ত করাটা ভালো হয়, জন দুর্ভোগ কম হয়। তবে আশা করছি এবার ঈদযাত্রাটা ভালো হবে।
দৌলতদিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যকরী প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ মল্লিক বলেন, ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি লঞ্চ ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ১২টি লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রো রো, ইউটিলিটি ও কে টাইপ ফেরিসহ বহরে মোট ১৭টি ফেরি থাকবে। এ ছাড়া, দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩,৪ ও ৭ নম্বরসহ মোট ৩টি ঘাট সচল থাকবে। আশা করছি, আমরা একটি ভালো ঈদ উপহার দিতে পারবো।
দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শনে এসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া বলেছেন, গত ঈদে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ এরই মধ্যে তদন্তে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। কোরবানির পশুবাহী ট্রলার বা নৌযান পথে যেন কোনো বাধার মুখে না পড়ে, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোন নৌযান কোন হাটে যাবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিকেন্দ্রিক দুটি টিম, লঞ্চঘাটকেন্দ্রিক একটি টিম এবং পৃথক টহল টিম কাজ করবে। দৌলতদিয়ায় একটি কন্ট্রোল রুমও থাকবে। মোট ৮৪ জন নৌপুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন ঈদযাত্রায়।
রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, হাইওয়ে পুলিশসহ রাজবাড়ী জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় পশুবাহী ট্রাক আটকানো হবে না এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিবি টিম, মোটরসাইকেল মোবাইল পার্টি ও জেলা পুলিশের স্ট্রাইকিং মোবাইল পার্টি সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি দেখতে দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষে থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে। আমি আগামী রোববার অথবা সোমবার আবার এখানে আসবো। ফেরি ঘাটে পন্টুনের ওপর কোনো ইজিবাইক অথবা অটোরিকশা উঠতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের পরে ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে ২৬ জন নিহত হয়েছিল। এ ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার।
রাজবাড়ীতে একটি অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রি শেখ রবিউল আলম বলেছেন, এবার ঈদে আমরা আরও বেশি মনোযোগী হবো। গতবার যেসব জায়গায় সামান্য ব্যত্যয় হয়েছে, সেগুলো আরও কার্যকর ও কার্যোপযোগী রাখতে আমরা কাজ করছি। আমি মনে করি, এবার ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে। মানুষ এবার আরও নিরাপদে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার সময় ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সারা দেশের বাস টার্মিনাল ও সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ঈদুল ফিতরে সারা দেশে ২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকলেও এবারের ঈদুল আজহায় থাকবে ৬৯টি।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, গত ঈদে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাই এবার ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে হবে। পন্টুনের ওপর ইজিবাইক ও অটোরিকশা রাখা যাবে না। ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান থাকবে এবং জেলা প্রশাসন থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাইকে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। আমরা চাই, আর কোনো প্রাণ যেন ঝরে না যায়।
এমএসএম / এমএসএম
রাজস্থলীতে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব, খোলা আকাশের নিচে পরিবারটি বসবাস
বরগুনায় কোটি টাকার অবৈধ রেনুপোনা জব্দ
কবি নজরুলের ধূলিমাখা স্মৃতি : ত্রিশালের দুই বাড়িতে আজও জীবন্ত কবি
লাকসামে আমরা জুয়েলারী পরিবার’র পনুর্মিলনী অনুষ্ঠিত
রৌমারীতে ৩দিন ব্যাপী ভুমিসেবা মেলা সমাপনী অনুষ্ঠিত
দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সহযোগী হিসেবে সবাইকে জোরালো ভূমিকা রাখেতে হবে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
শিশু রামিসা হত্যার বিচার ও শিশুদের নিরাপত্তার দাবিতে তেঁতুলিয়ায় মানববন্ধন
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল দু’জনের
পাকশী ডেইরী ফার্মে দেশী,জার্সি ফিজিয়ানসহ কয়েকটি জাতের গরু পালন করে ব্যাপক সারা
কুড়িগ্রামে দুধকুমর নদীর উপর কালিগঞ্জ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন
শ্রীমঙ্গলে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা তিন সুন্ধি কাছিম উদ্ধার
রাণীনগরে নানা নাটকীয়তা শেষে ৬৩৯ দিন পর প্রধান শিক্ষকের যোগদান