ঢাকা শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

পোষা প্রাণী পালনে কেন আগ্রহী হচ্ছে নতুন প্রজন্ম?


ফাহিম, শেকৃবি photo ফাহিম, শেকৃবি
প্রকাশিত: ২৩-৫-২০২৬ দুপুর ৪:১০

গত এক দশকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময় পোষা প্রাণী পালনকে কেবল বিলাসিতা কিংবা গ্রামবাংলার পাহারাদারি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর সুউচ্চ ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে মফস্বলের সাধারণ বাড়ি— সর্বত্রই বেড়াল, কুকুর, পাখি কিংবা অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো।

পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে পাঠকদের জন্য লিখেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ভেট কেয়ার ক্লিনিকের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সোহানুর রহমান সবুজ।

একজন ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, মানুষ এখন প্রাণীদের কেবল ‘পশু’ হিসেবে নয়, বরং একটি ‘জীবন্ত সত্তা’ এবং ‘পরিবারের অবিচ্ছেদ্য সদস্য’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ।

➡️ মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রশান্তি:
আধুনিক নগরজীবনে একাকিত্ব ও মানসিক অবসাদ এক ধরনের নীরব মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সান্নিধ্য মানুষের শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ (Oxytocin) নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং সুখের অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে। যারা একাকী জীবনযাপন করেন বা বার্ধক্যে নিঃসঙ্গতায় ভোগেন, তাদের জন্য একটি পোষা প্রাণী নিঃস্বার্থ বন্ধুর মতো কাজ করে। পোষ্যের প্রতি যত্ন ও মনোযোগ মানুষের দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা কমাতে সহায়তা করে, যা বর্তমানে প্রাণিপ্রেম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

➡️ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ডিজিটাল ক্লান্তি:
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ যখন স্ক্রিনের ভেতর কৃত্রিম সম্পর্কের পেছনে ছুটছে, তখন তারা অজান্তেই প্রকৃতির সান্নিধ্যের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠছে। পোষা প্রাণীরা কোনো শর্ত ছাড়াই মানুষকে ভালোবাসে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের জটিলতা যেখানে বাড়ছে, সেখানে প্রাণীদের সরল ও শর্তহীন আনুগত্য মানুষকে মানসিক তৃপ্তি দিচ্ছে। ফলে ডিজিটাল ক্লান্তিতে ভোগা মানুষ এখন যান্ত্রিক জীবনের বাইরে এক টুকরো সজীবতা খুঁজে নিচ্ছে নিজের প্রিয় পোষ্যটির মাঝে।

➡️ শহুরে বন্দি জীবন ও ঘরের মাঝে আনন্দের ছোঁয়া:
আজকের ইট-পাথরের শহরে খোলা মাঠ কিংবা সবুজ গাছপালা যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। চার দেয়ালের ছোট ছোট ফ্ল্যাটেই এখন অনেকের জীবন সীমাবদ্ধ। এই একঘেয়ে ও নিঃসঙ্গ জীবনে মানুষের মন ভালো রাখার উপায়ও বদলে গেছে। ব্যস্ততার কারণে মানুষের হাতে যেমন সময় কম, তেমনি ঘরের জায়গাও সীমিত। তাই শহরের মানুষ এখন বিড়াল, ছোট আকারের কুকুর কিংবা অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছের মতো শান্ত স্বভাবের প্রাণীদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিচ্ছে, যারা অল্প জায়গাতেই সহজে মানিয়ে নিতে পারে। সারাদিনের অফিস, পড়াশোনা কিংবা জীবনের নানা ব্যস্ততার পর মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে, তখন এই অবুঝ পোষ্যগুলোর সামান্য আদর ও ভালোবাসাই যেন সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। বন্দি শহুরে জীবনে ওরাই যেন একটুখানি আনন্দের জোয়ার এনে দেয়।

➡️ আধুনিক ভেটেরিনারি সেবার সহজলভ্যতা:
আগে প্রাণীর রোগব্যাধি কিংবা প্রাণী থেকে মানুষে রোগ ছড়ানোর (Zoonotic Disease) ভয় ছিল ব্যাপক। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন (Vaccination), কৃমিনাশক প্রয়োগ এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধার কারণে মানুষ এখন অনেক বেশি নিশ্চিন্তে প্রাণী পালন করতে পারছে। সঠিক চিকিৎসাসেবা এবং দক্ষ ভেটেরিনারি সার্জনদের পরামর্শ সাধারণ মানুষের ভীতি দূর করে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

➡️ দায়িত্ববোধ ও সুশৃঙ্খল জীবন:
অনেকে মনে করেন, পোষা প্রাণী পালন কেবল আমোদ-প্রমোদের বিষয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাণীর দায়িত্ব নেওয়া মানে নিজের জীবনযাত্রাকেও সুশৃঙ্খল করা। তাদের নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো একজন মানুষের ভেতরে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। এটি ব্যক্তিত্বে স্থিতিশীলতা ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে।

➡️ সচেতনতা ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব:
বর্তমানে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রাণীদের অধিকার ও যত্ন সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। রাস্তার প্রাণীদের উদ্ধার (Rescue) করে দত্তক নেওয়ার মানসিকতাও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশু যে ভয়ের বস্তু নয়, বরং আদরের সঙ্গী— এই বার্তাটি এখন মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে যাচ্ছে।

পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের এই ঝোঁক নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন। তবে মনে রাখতে হবে, একটি প্রাণী কোনো খেলনা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি। একটি প্রাণীকে ঘরে আনার আগে তার স্বভাব, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনকাল সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরি। প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ কেবল শখ নয়, বরং আমাদের উন্নত মানবিক চেতনারই পরিচয়।

একজন পেশাদার ভেট হিসেবে আমার পরামর্শ হলো— প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি সচেতনতাকেও প্রাধান্য দিন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেমন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, তেমনি এর বিনিময়ে তারা আমাদের যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেয়, তার মূল্য সত্যিই অপরিসীম।

এমএসএম / এমএসএম

পোষা প্রাণী পালনে কেন আগ্রহী হচ্ছে নতুন প্রজন্ম?

সহকারী অধ্যাপক আমির হোসেন ডিআইইউ'র বর্ষসেরা শিক্ষক নির্বাচিত

পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হেমায়েত জাহানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষনা করে মানববন্ধন

গবির ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন

টানা ১৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পবিপ্রবি

শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ -ইবি ভিসি

গবির অন্তঃক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষ, বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়

বর্ণিল আয়োজনে গবির আইন বিভাগে বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বাকৃবিতে ইন্টারন্যাশনাল গেস্ট হাউস কনফারেন্স হলের উদ্বোধন

ডিআইইউতে প্রশাসনিক রদবদল: নতুন ডিন ও প্রক্টর নিয়োগ

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেল হিসাবে তৈরি করাতে চান উপাচার্য

পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাকৃবিতে দিনব্যাপী কর্মশালা