ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

লাকসামে ডাকাতিয়া নদী’র ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে


দেবব্রত পাল বাপ্পী, লাকসাম  photo দেবব্রত পাল বাপ্পী, লাকসাম
প্রকাশিত: ২৪-৫-২০২৬ দুপুর ১২:৫২

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী আজ ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে নির্গিত বিষাক্ত শিল্পর্বজ্য, হসপিটালের বর্জ্য, কেমিক্যালযুক্ত কালো পানি ও ময়লা র্দীঘদিন ধরে অবাধে নদীতে ফেলার ফলে নদীর পানি এখন কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত ও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে শুধু নদীর পরিবেশে নয়, আশপাশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একসময় কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডাকাতিয়া নদীর পানি ছিল অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু বর্তমানে সেই পানি বিষে পরিণত হয়েছে। নদীর দূষিত পানি জমিতে ব্যবহার করায় ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, নদীর পানি ব্যবহারের পর ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারাও পড়েছেন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। দূষিত পানির কারণে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, এর্লাজি ও পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্র্যন্ত অনেকে। বিশেষ করে দূর্গন্ধের কারণে নদীর আশপাশে বসবাস করা মানুষরে দৈনন্দিন জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এক সময় মাছে ভরা ও প্রাকৃতকি সৌর্ন্দযে ঘেরা ডাকাতিয়া নদী ছিল জেলেদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। নদীতে পাওয়া যেত নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। কিন্তু এখন নদীতে মাছ তো দূররে কথা, কোনো জলজ প্রাণীও টিকে থাকতে পারছে না। বিষাক্ত পানির কারণে নদীর জীববৈচিত্র প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে হাজারো জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাকাতিয়া নদী আমাদের জীবন ছিল, এখন সেই নদীই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অিেধদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে শিল্পকারখানাগুলো বেপেরোয়া ভাবে নদী দূষণ করে যাচ্ছে। র্দীঘদিনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন পরস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে ডাকাতিয়া নদী সর্ম্পূণ মৃত নদীতে পরণিত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা বলেন, মানুষ সচেতন নয়। বিভিন্ন প্রাইভেট হসপিটালের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর পানি হুমকির মুখে পড়ছে। এর মধ্যে আমরা ২টি হাসপাতালকে সিলগালা করেছি। ডাকাতিয়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে যেসব অবৈধ বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি নদীর পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষপে নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবলিম্বে নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং দায়ী শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খনন র্কাযক্রম ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার প্রকল্প চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এমএসএম / এমএসএম

৩ ব্রোকারেজ হাউজ-কে ডিএসই’র ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান

বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, অফিস ভাঙচুর

মধুখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্তর অভিযানে মধুমতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার জব্দ

চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার

আদমদীঘিতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

কৃষি ও পুষ্টি উন্নয়নে টুঙ্গিপাড়ায় পার্টনার কংগ্রেস

সিংড়া উপজেলা পর্যায়ে স্টেক হোন্ডারদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কাউনিয়ায় বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন রকসির পিতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

কৃষকের ৩০০ মণ ধানসহ বাংলো ঘর পুড়ে ছাই

উলিপুরে এসডিজি অর্জনে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দর্শনা থানাপাড়ায় যুবদল নেতা রিংকুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলের পাড় নির্মাণ, জনসাধারণের স্বস্তি

যশোরে রিয়াজ হত্যাকাণ্ডে মামলা-পুলিশের অভিযানে প্রেপ্তার ৩

নতুন দায়িত্ব পেলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন