লাকসামে ডাকাতিয়া নদী’র ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী আজ ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে নির্গিত বিষাক্ত শিল্পর্বজ্য, হসপিটালের বর্জ্য, কেমিক্যালযুক্ত কালো পানি ও ময়লা র্দীঘদিন ধরে অবাধে নদীতে ফেলার ফলে নদীর পানি এখন কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত ও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে শুধু নদীর পরিবেশে নয়, আশপাশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একসময় কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডাকাতিয়া নদীর পানি ছিল অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু বর্তমানে সেই পানি বিষে পরিণত হয়েছে। নদীর দূষিত পানি জমিতে ব্যবহার করায় ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, নদীর পানি ব্যবহারের পর ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারাও পড়েছেন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। দূষিত পানির কারণে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, এর্লাজি ও পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্র্যন্ত অনেকে। বিশেষ করে দূর্গন্ধের কারণে নদীর আশপাশে বসবাস করা মানুষরে দৈনন্দিন জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এক সময় মাছে ভরা ও প্রাকৃতকি সৌর্ন্দযে ঘেরা ডাকাতিয়া নদী ছিল জেলেদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। নদীতে পাওয়া যেত নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। কিন্তু এখন নদীতে মাছ তো দূররে কথা, কোনো জলজ প্রাণীও টিকে থাকতে পারছে না। বিষাক্ত পানির কারণে নদীর জীববৈচিত্র প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে হাজারো জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাকাতিয়া নদী আমাদের জীবন ছিল, এখন সেই নদীই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অিেধদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে শিল্পকারখানাগুলো বেপেরোয়া ভাবে নদী দূষণ করে যাচ্ছে। র্দীঘদিনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন পরস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে ডাকাতিয়া নদী সর্ম্পূণ মৃত নদীতে পরণিত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা বলেন, মানুষ সচেতন নয়। বিভিন্ন প্রাইভেট হসপিটালের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর পানি হুমকির মুখে পড়ছে। এর মধ্যে আমরা ২টি হাসপাতালকে সিলগালা করেছি। ডাকাতিয়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে যেসব অবৈধ বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি নদীর পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষপে নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবলিম্বে নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং দায়ী শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খনন র্কাযক্রম ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার প্রকল্প চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এমএসএম / এমএসএম
ধর্মীয় বক্তার পরিচয় ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পূর্বধলায় প্রতারক গ্রেপ্তার
এবারে বরিশালে শারদীয় দুর্গাউৎসবে ৬৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষার মান ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
গলাচিপায় ২০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার
পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ
ধনবাড়ীতে পৃথক অভিযানে ৫২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩
টাঙ্গাইলে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
মোহনগঞ্জে শিক্ষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে ১১ স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান রদবদলের অভিযোগ
আদমদীঘিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায়, লোকসানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত
বছরের পর বছর অচল চালকলকে সচল দিখিয়ে গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ