চুয়াডাঙ্গার সিমান্তগুলোতে স্বর্ণ পাচারের বাহকরা ধরা পরলোও অধরাই নেপথ্যের হোতারা
চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত গুলো যেন এক অদৃশ্য স্বর্ণ পাচারের করিডোরে পরিণত হয়েছে। বিজিবির একের পর এক অভিযানে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার হচ্ছে, আটক হচ্ছে শুধু বাহকরাই। প্রতিবারই আড়ালেই থেকে যাচ্ছে সেই চক্রেরা। যারা পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রন করছে তাদের পরিচয় উন্মোচন হয়না কখনই। যে কারণে শ্ন উঠেছে শুধু বাহক আটকে কি বন্ধ হবে স্বর্ণ চোরাচালান ? ভারত সীমান্ত ঘেষা শহর দর্শনা, দামুড়হুদাা ও জীবননগর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম ঝুকিপূর্ণ স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে পরিচিত হয়েছে। সীমান্ত জুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা অভিযান ও ধারাবাহিক সফলতা সত্ত্বেও একই রুটে বারবার স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি সৃস্টি হচ্ছে। বছর জুড়ে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে এ রুট গুলোতে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ আগস্ট পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের সুলতানপুর সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৩ বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৩৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে। ৬ কেজি ৯৬৮ গ্রাম ওজনের ওই স্বর্ণের বারের বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ওই ঘটনায় ছয়ঘরিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম নামের একজন বাহককে আটক করা হয়। ১৫ জুলাই মুন্সিপুর সীমান্ত থেকে ৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বিজিবি সদস্যরা। যার বাজার মূল নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২৪ মে দামুড়হুদার ডুগডুগি থেকে ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ২১ লাখ টাকা। ১৩ এপ্রিল দর্শনা পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা থেকে ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে বিজিবি। ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম ওজনের ওই বারের বাজার মূল্য, ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আলম নামের এক পাচারকারীকেও আটক করা হয়। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। ২ কেজি ৪১১ গ্রামের ওজনের ওই স্বর্ণের বারের বাজার মূল্য ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এগুলো কেবল সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি অভিযানের তথ্য। অতীতের রেকর্ড আরও বিস্ময়কর। ২০১৮ সালে মাত্র তিন মাসে দামুহুহুদা সীমান্ত থেকে ৩৭৮ টি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়। প্রত্যেক অভিযানের পর সংবাদ সম্মেলন, প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার খবর প্রকাশ হলেও হোতারা সেই তিমিরেই থেকে যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাহক বা পরিবহনকারী আটক হলেও তদন্তের শেষ পর্যায়ে মূল অর্থদাতা,বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য খুব কমই প্রকাশ্যে আসে। সীমান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার হলেও অধিকাংশ মামলায় অভিযোগপত্র সীমাবদ্ধ থেকেছে বাহকদের মধ্যেই। ফলে নেপথ্যের চক্র শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবৃদ্ধ থেকে গেছে। সুত্র থেকে জানা গেছে, স্বর্ণ চোরাচালান সাধারণত কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথমে থাকে অর্থদাতা ও সংগ্রহকারী, পরে পরিবহন সমন্বয়কারী, তারপর সীমান্ত পারাপারের বাহক বা পাচারকারী, সর্বশেষ সিমান্তের ওপারে গ্রহণকারী। সীমান্তে যাদের আটক করা হয়, তারা অনেক সময় নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শুধু বহনের কাজ করে থাকে। ফলে তাদের কাছ থেকে পুরো চক্রের তথ্য পাওয়াও কঠিন। আর এই সুযোগেই নেপথ্যের মূল হোতারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্বর্ণসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ১ আগস্টের সফল অভিযানের পরও ৬ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান নির্মূলে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের একের পর এক কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার নিঃসন্দেহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাফল্যতার একটি অংশ। তবে একই রুটে বারবার এ ধরনের স্বর্ণের চালান উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও আরেকটি বাস্তবতা সামনে আনে। তা হচ্ছে পাচারকারী ও বা বাহক বদলালেও কি সিন্ডিকেট একই থাকে। এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে তখনই, যখন স্বর্ণের চালান বহনকারীদের পাশাপাশি তদন্তেরর মাধ্যমে নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ. নুর উল্লাহ বলেন, আটককৃত ব্যক্তিরা বেশিরভাগই বহনকারী। তারা অনেক সময় মূল হোতাদের পরিচয়ও জানেন না। চোরাচালানের কয়েকটি স্তর অতিক্রম করে পরিচালিত হওয়ায় মূল আসামিদের সনাক্ত করতে তদন্তে জটিলতার সৃস্টি হয়। তবে তাদের সনাক্তে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বিজিবি দায়িত্বেশীল ভূমিকা নিয়েই সীমান্তে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণসহ জড়িতদের আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে থাকে। এরপর মামলার তদন্ত ও মূল হোতাদের সনাক্ত করণের দায়িত্ব¡ পুলিশের।
এমএসএম / এমএসএম
চবিতে ‘একেএম ফজলুল কাদের চৌধুরী হল’ নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন
আনোয়ারায় পূর্ব শত্রুতায় জেরে স্থানীয় যুবদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ
পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখল চেষ্টার অভিযোগ
পেকুয়ায় বন বিভাগের অভিযানে মিশিয়ে দেওয়া হলো অবৈধ বালুর স্তূপ
গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন গ্রেপ্তার
বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক বদলি,আলোচনায় সাবেক পরিচালক মামুন
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন, থানায় মামলা, গ্রেফতার ২
মধুখালীতে নবাগত ইউএনও এর সাথে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়।
হাটহাজারীতে চাঞ্চল্যকর নুরুল আজিম হত্যার প্রধান আসামী গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গার সিমান্তগুলোতে স্বর্ণ পাচারের বাহকরা ধরা পরলোও অধরাই নেপথ্যের হোতারা
পেকুয়ায় রাতের আঁধারে বেড়িবাঁধ কাটার চেষ্টা, জব্দ স্কেভেটর ও ১৫ নাসি