ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ঈদে পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায়, হোটেল-রিসোর্টে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি


রাজেশ ভৌমিক (শ্রীমঙ্গল) photo রাজেশ ভৌমিক (শ্রীমঙ্গল)
প্রকাশিত: ২৫-৫-২০২৬ বিকাল ৫:৪২
চায়ের রাজধানী ও পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায় রয়েছে। টানা ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্ট ও বিনোদন স্পটগুলোতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।
তবে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের চিত্র একরকম নয়। গত কয়েক সপ্তাহে পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে এবং পর্যটকদের আগমনে আবারও চাঙা হবে স্থানীয় অর্থনীতি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশি পর্যটকদের কাছেও শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণগন্তব্য হিসেবে পরিচিত। দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান, হাওর, পাহাড়ি টিলা, রাবার ও লেবুবাগানের মনোরম পরিবেশ প্রতি বছরই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাধানগরসহ বিভিন্ন স্থানের হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং-রূপসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। চাইনিজ, থাই, বাংলা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে মেনুতেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। অনেক প্রতিষ্ঠান ঈদ উপলক্ষে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে।
 পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে বেশি আগ্রহী। ফলে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, লেবুবাগান, রাবার বাগান, আনারস বাগান ও হাওরাঞ্চল ঘিরে পর্যটকের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। উপজেলায় রয়েছে অর্ধশতাধিক চা-বাগান এবং অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, ভাড়াউড়া চা-বাগান লেক, টি মিউজিয়াম, আদি নীলকণ্ঠ চা কেবিন, বধ্যভূমি-৭১, মণিপুরী ও খাসিয়া পল্লী, হরিণছড়া, পাইন বন, বিলাসছড়া লেক ও সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা।
পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গত কয়েক মাসে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও চাঁদের গাড়ি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে তারা নতুন আশার আলো দেখছেন।
হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি দেড় শতাধিক ইকো কটেজ ও পর্যটন আবাসন সুবিধা গড়ে উঠেছে। পর্যটননির্ভর এই খাতকে ঘিরে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদের আগেই শতভাগ বুকিং পূর্ণ হবে বলে তারা আশা করছেন।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, শহরের হোটেল-রিসোর্টে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং রাধানগর এলাকার রিসোর্ট ও কটেজে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, আগাম বুকিংয়ে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পূর্ণ হবে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের জন্য রিসোর্টগুলো বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।
প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার আরোফিন হোসাইন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে। তবে এবার প্রত্যাশিত সাড়া কিছুটা কম পাওয়া গেলেও ঈদের আগে শতভাগ বুকিংয়ের আশা রয়েছে।
লেমন গার্ডেন রিসোর্টের মালিক সেলিম মিয়া বলেন, রাধানগর ও ডলুবাড়ি এলাকার প্রায় সব রিসোর্টেই আগাম বুকিং শুরু হয়েছে এবং পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, এবার ট্যুর গাইডদের বুকিং কিছুটা কম। বিদেশি পর্যটক আগমনও কমেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহর ও পর্যটন স্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।

এমএসএম / এমএসএম

গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শালিখায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নড়াগাতীতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের

চাঁদপুরে খাল দূষণ ও ভরাট করায় দুই রাইস মিল মালিকের জরিমানা

ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নতুন উদ্যমে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই বংশের সংঘর্ষ, আহত ১৪

তারাগঞ্জে দায়সারা ভাবে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত,কৃষকদের ক্ষোভ

চট্টগ্রাম ​কাস্টমস হাউসে ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকির ধুম

মোহনগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

কুড়িগ্রামে জেলা টাউন ক্লাবে আধুনিক ডিজিটাল প্রজেক্টর উদ্বোধন

গোদাগাড়ীতে ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্টুডেন্ট ফোরামের দ্বি-মাসিক স্টাডি সার্কেল অনুষ্ঠিত

এসিল্যান্ডের ড্রাইভার থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য

কুমিল্লায় গোল্ডেন লাইফ ইনসুরেন্সের আল-ফালাহ্ ইসলামী জীবন বীমা প্রকল্পের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হলো রেডি টু কুক ফিস