সাভারে আল মুসলিম গ্রুপের সহস্রাধিক শ্রমিককে বিনা নোটিশে ছাটাই, শ্রমিকরা রাস্তায়
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজের মাঝেই সাভারের শিল্পাঞ্চলে নেমে এসেছে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ধারা উল্লেখ করে সাভারের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'আল মুসলিম গ্রুপ' তাদের তিনটি কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। মালিকপক্ষ থেকে তাদের পাওনাদি পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও শ্রমিকদের দাবি তাদের ন্যায্য পাওনা টাকা গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেননি এবং কোন নোটিশ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা পেমেন্ট করে ঈদের আগে ছাটাই করেছে। এতে করে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং ঈদের ছুটির পর আজ কারখানা খোলার সাথে সাথে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ও শ্রমিক নেতারা।
আল মুসলিম গ্রুপের মালিক শেখ মো. আব্দুল্লাহ মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি'র মনোনীত সংসদ সদস্য। এ গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, তাদের তিনটি কারখানায় শ্রমিক-কর্মকর্তাসহ ২৭ হাজার লোক কাজ করেন। এরমধ্যে এক হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কোম্পানির নিজস্ব একটি পলিসি থাকে, আমাদের কাজের অর্ডার কম এবং লোকবল বেশি থাকায় কোম্পানি নিয়ম অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়েছে।
ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লায় অবস্থিত একেএম নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানা থেকে এক হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকায় অবস্থিত প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার কারখানার ৫২৯ জন ও আশুলিয়ায় অবস্থিত আল মুসলিম অ্যাপারেলস কারখানার ৫৩ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা রয়েছে।
আল মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারা ব্যবহার করে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সাভার ও আশুলিয়ার তিনটি কারখানার মোট এক হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিকের নামে ছাঁটাইয়ের নোটিশ ইস্যু করা হয়।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের যাবতীয় আইনগত পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারিয়ে যাওয়া এ অঞ্চলের তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে হেমায়েতপুর আলমনগর ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তায়বির বলেন, আল মুসলিম গ্রুপের ছাটাইকৃত শ্রমিকরা সকালে একত্রিত হয়ে কারখানা মালিকের সাথে কথা বলে শ্রমিকরা যার যার বাড়ি চলে গেছে। এখন পরিস্থিতি সম্পুর্ন শান্ত আছে।
এদিকে, ঈদের ছুটি শেষে শনিবার সাভারের পোশাক কারখানাগুলো পুরোদমে খোলার কথা রয়েছে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না। ফলে শনিবার সকালে কারখানা খোলার পর চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আল মুসলিম গ্রুপের সামনে অবস্থানরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, ঈদের আনন্দের পরপরই আমাদের এভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে এটা ভাবিনি। পাওনা টাকা দিলেও এই বাজারে নতুন চাকরি পাওয়া অসম্ভব। আমরা আমাদের রুটি-রুজির অধিকার ফেরত চাই।
শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ২০ ধারায় এভাবে শ্রমিক ছাটাই করা অন্যায়, কোম্পানির স্বার্থে শ্রমিক আইন মেনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারলেও পুরাতনদের এভাবে ছাঁটাই করতে পারবে না।
এ শ্রমিক নেতা আরো বলেন, ঈদের ছুটির পর শনিবারে প্রথম কারখানা খুলছে। তাই ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সাথে এখনো আমাদের কোন যোগাযোগ হয়নি। অনেক শ্রমিক জানেওনা যে তারা ছাঁটাই হয়েছেন। শ্রমিকরা আমাদের কাছে সাহায্য চাইলে অবশ্যই আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো।
এমএসএম / এমএসএম
মেহেরপুরে সীমান্তে ৬ জনকে পুশইন করলো বিএসএফ, প্রতিরোধ বিজিবির
ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা
মুখ চেপে ধরে নারীকে বিলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩
কাশিয়ানীতে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
কচাকাটায় ৯ বছরের শিশুকে গলায় ফাঁস অবস্থায় উদ্ধার
পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শাহিন কে পদ থেকে অপসারণের ষড়যন্ত্র ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা
ভারত থেকে ফিরছেন ৯১ জেলে, কুতুবদিয়ার ৭৭ জনের অপেক্ষার অবসান
নেত্রকোণার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে এক কিশোরীকে ভারতে পাচারের সময় পাচারকারী আটক
ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবদলের জনপ্রিয় নেতা, মোশারফ
কুড়িগ্রামের ৪০০ বছরের কালের সাক্ষী চান্দামারী মসজিদ
বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই সলঙ্গায় রয়েল রূপালী হোটেলে তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর দই-মিষ্টি
পূর্বধলায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে মাঠে নবাগত ইউএনও