ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের জালে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ মোস্তাক
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর। প্রযুক্তিনির্ভর এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেক প্রান্তিক, নিম্নআয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজ সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে আটকা পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ছায়া তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছিল। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম ও এএসআই আবু সাইদ সুজনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ একটি বিশেষ অভিযানিক দল গঠন করা হয়। এরপর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত (৭ জুন
২০২৬), রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের বীর বারুইটারি গ্রামের কাস্টমস মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কথিত ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত মো. মোস্তাক মিয়া (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আব্দুল মালেকের ছেলে এবং আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশ তাকে তার নিজস্ব বিকাশ এজেন্ট দোকান থেকে আটক করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মোস্তাক মিয়া বিকাশ ও নগদ এজেন্ট ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অন্তত ১০ থেকে ১১টি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের আর্থিক লেনদেন ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত সদস্যরা তার মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন করতেন। ফলে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার একটি বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন বলে পুলিশের ধারণা।গ্রেফতারের সময় মোস্তাক মিয়ার কাছ থেকে নগদ ২৯ হাজার টাকা, অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ডিভাইসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অপরাধবিরোধী কর্মসূচির আলোকে মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে যারা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে এবং সমাজকে বিপথগামী করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে আরও কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
এমএসএম / এমএসএম
তারাগঞ্জে একই দিনে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযান
জেলা ট্রেজারি পরিদর্শন ও ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার
চট্টগ্রাম বন একাডেমির পরিচালক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
ভূরুঙ্গামারীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
নাচোলে ১৭১তম ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত
উলিপুরে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ
৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার
সুনামগঞ্জে সিয়ামের চুরি হওয়া সিএনজি ১ মাসেও উদ্ধার হয়নি, পরিবারে হতাশা
বোদা পৌরসভার ৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
পাঁচবিবিতে মাদক নির্মূলে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি
রাজশাহীতে ‘Run for Padma’র সংবাদ সম্মেলন
কুড়িগ্রামে ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ
বিলাইছড়ি উপজেলায় নবাগত ইউএনও'র যোগদান
Link Copied