ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

মূল্যবান জিনিস নয়, নারীদের ওপর আঘাত করাই ছিল তার 'নেশা


নওগাঁ জেলা পূর্ব প্রতিনিধি  photo নওগাঁ জেলা পূর্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩-৬-২০২৬ দুপুর ১:৯

ঘুরে ঘুরে পুরুষ না থাকা বাসা-বাড়িতে টার্গেট করত। এরপর রাত ১২ থেকে ৪টার মধ্যে বাড়িতে ঢুকে নারীদের মাথায় হান্ডেল বা বাঁশ দিয়ে রক্তপাতের ভয়ে আঘাত করত। তবে সে নিত না মূল্যবান জিনিস বা নগদ টাকা। 

এভাবেই গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তার হাতে নওগাঁ জেলায় ১১জন নারী হামলার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে প্রাণ হারাতে হয়েছে কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবাকে। মূলত চুরির উদ্দেশ্যে নারীকে আঘাত করায় ছিল তার নেশা। 

এমনই গা-শিউরানো এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পৃুলিশ। 

মাত্র ২৭ বছরের সিরিয়াল ওই কিলারের নাম গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলমক। তিনি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট গ্রামের হইবর রহমান ওরফে হবিবরের ছেলে। যুবক গোলামকে দেখে বোঝায় উপায় নেই তার ভয়ংকরের মাত্রা। 

গত ৬মাসে জেলার ধামইরহাট, বদলগাছি ও পত্নীতলায় ১২জন নারীদেরকে ধারাবাহিকভাবে টিউবওয়েলের হান্ডেল ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় ভাবিয়ে তোলে জেলা পুলিশকে। একের পর এক একই ধরনের নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অপরাধীকে ধরতে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন।

শুরু হয় ক্লুলেস অপরাধের সন্ধানের তোড়জোড়। অবশেষে গত বুধবার (১০জুন) ভোরে গাজীপুর জেলার বাসন থানার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদ এর বরাদ দিয়ে গায়ের লোম শিহরিত হওয়ার মতো অবস্থার বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ১১জুন রাত সাড়ে ৮টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। 
 
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন- গত ৬ মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা করে বাড়ির সামান্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে গত ১৮জানুয়ারি রাতে জেলার ধামইরহাট থানার নানাইচ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকে হাসান আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবার ঘরে ঢুকে মাথায় টিউবওয়েল এর হাতল(হ্যান্ডেল) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আঘাতের ফলে উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

একই দিনে অপরাধী আরও পৃথক দুই বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমদের মাথায় মারত্মকভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ আসামী সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
 
গত ৭ফেব্রুয়ারু সন্ধ্যা ৭ টায় একই থানার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমকে মাথায় বাঁশ দিয়ে মেরে গুরুত্বর আঘাত করে। এরপর এলাকায় একই রাতে আরও তিন বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভোদোকে টিউবওয়েল এর হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। 
 
গত ৭ মে জেলার বদলগাছী থানার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় রাতে দেয়াল টপকিয়ে তিন বাড়িতে প্রবেশ করে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাক প্রতিবন্ধি বৃষ্টি (২০) কে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়।
 
সর্বশেষ গত ৪জুন জেলার পত্নীতলা থানার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে রোজি আক্তার (৩৭) এবং অপর একটি বাড়ির জানালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুন (২২)কে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।
 
জেলার ৩টি থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য ছিলো না।
 
পুলিশ ‍সুপার আরও বলেন- পরে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিষয়টি সনাক্ত করে। মোর্শেদের অপরাধ সংঘটনের ধরন ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও সাইকোপ্যাথিক। একা থাকা বা নারীপ্রধান বাড়িগুলোকে টার্গেট করত। এরপর দেয়াল টপকে বা জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত নারীদের কপাল ও মাথায় টিউবওয়েলের হান্ডেল, লোহার শাবল বা বাঁশ দিয়ে সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যেত।
চুরির উদ্দেশ্য থাকলেও নারীদের মাথায় একটি আঘাত করাই ছিল তার অপরাধের মূল নেশা। আর মূলত সে একাই এসব অপরাধ করে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াতো। এ কারণে তথ্য উদঘাটন করা কঠিন ছিলো। 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইউনিটের সদস্যরা ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেন। জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলা থেকে একই ধরনের অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীর মূল প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়।

পরে আধুনিক জেলা পুলিশ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কয়েক দিনের প্রচেষ্টায় বুধবার গাজীপুর জেলার বাসন থানার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এসপি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অন্তত ১৭-১৮ জন নারীর ওপর নৃশংস হামলার কথা স্বীকার করেছে, যাদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। বর্তমানে নওগাঁর বিভিন্ন থানায় এ-সংক্রান্ত হত্যাসহ মোট চারটি মামলা রুজু রয়েছে। দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ নির্মূলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই এসপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, ডিবির ওসি হাসিবুজ্জান হাবিব, সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান, ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান সহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।

এমএসএম / এমএসএম

‎মামলা চলমান, তবুও থামেনি হুমকিঃ জামিনে মুক্ত আসামিদের ভয়ে আতঙ্কে বৃদ্ধ বাদী, নিরাপত্তা চায় পরিবার

কেশবপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আকস্মিক মিছিলের ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে মামলা

দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে মান্দায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শালিখায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ" কর্মসূচির উদ্বোধন

সাতক্ষীরা সদরে চেয়ারম্যান মফিজুলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

পত্নীতলায় নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

আলী নগর স্কুলের মার্কেটে দেয়াল নির্মাণ, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে গ্রামবাসীর হামলা ৩ শতাধিকের বিরুদ্ধে মামলা

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তাকারী এক অভিযুক্ত আটক : সিএমপি কমিশনার

‘ভুয়া চিকিৎসকের’ রমরমা বাণিজ্য: মাত্র ৫০ টাকার ভিজিটে চিকিৎসার নামে প্রতারণা,ভুয়া ডাক্তার ইকবাল কবিরের মুখোশ উন্মোচন

বরগুনার সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি,বস্তি কালু গণপিটুনিতে নিহত

কসবা-আখাউড়াকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা কবীর আহমেদ ভূইয়ার

বাসযোগ্য নগর গড়তে ঢাকা’র ওপর চাপ কমান