জাতীয়করণ প্রত্যাশী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের বুকফাটাকান্না, কবে কাটবে শনির দশা?
মানুষ মানুষের জন্য একথা এখন শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। মানুষ যখন বাঁচার আকুতি করে, সেই আকুতি শুনেও যখন কেউ এগিয়ে আসেনা, এমন সমাজকে আমরা কী করে মানবিক বলি? আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে কয়েকজন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কথাগুলো বলে কেঁদে দেয়। শিক্ষকরা বুকফাটা আর্তনাদে আরও বলেন, শিক্ষার উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করে আমরা কী দোষ করেছি? বাবার অঢেল অর্থ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে মামা-খালুর জোর না থাকায় মেধা আমাদের কোন যোগ্যতায় আসেনি! কোঠাপ্রথা আর দুর্নীতির কালো টাকায় মোটা অংকের ঘুষে সৈয়দ আবেদ আলীর প্রশ্নফাঁসে আমাদের কোথাও চাকরির ঠাঁই না হলেও আমরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠদান করে আসছি বছরের পর বছর ধরে।
সরকারি আমলাদের একাধিকবার ভাগ্য বদল হলেও আমাদের জন্য সরকারের কোষাগারে কোন বরাদ্দ হয়নি আজও। আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাঁটছে। যেখানে মানুষ দৈনন্দিন ভালো জীবনযাপনের সৌখিনতার স্বপ্ন দেখছেন, সেখানে আমরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একমুঠো তিনবেলা ভাতের জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করছি। বুকফাটাকান্না আমাদের নিত্যদিন সঙ্গী।
চোখে স্বপ্ন; কখন আসবে সু'দিন, জাতীয়করণের স্বপ্নে বুকে পাথর বেঁধে, পেটে খুধা নিয়েও লোকলজ্জার ভয়ে হাসিমুখে পাঠদান করে আসছি। আমাদের স্কুল জাতীয়করণ করা না হলে আমাদের বাঁচার কোন রাস্তা নেই। পরিবার, আত্মীয় স্বজন, সমাজ, রাষ্ট্র, সবার কাছেই আমরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বোঝা। উচ্চ শিক্ষা করাটাই যেনো আমাদের জন্য কাল হয়েছে। না পেয়েছি রাষ্ট্র দুর্নীতির কারণে কোন চাকরি, না পেরেছি সামাজিক নিন্দার ভয়ে বদলি দিতে। কোথায় যাব আমরা? সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি আমাদের স্কুলগুলো জাতীয়করণ করে আমাদের অবহেলিত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান।
আমাদের দেশে মানুষের জীবনের সমাদর হয় তখন যখন কেউ শেষ বিদায় নিয়ে পরপারে পাড়ি দেন। সমাজসেবী ও মানবতারফেরিওয়ালাদের তখন মৃত্যু লাশের জন্য নবপ্রেম উদয় হয়। দেশসেরা শত দানবীররা তখন লাশের পাশে এসে দাঁড়িয়ে কোটি টাকা দান করে হলেও মিডিয়ায় হাতেমতাই বনে যান।
কিন্তু যখন কোন জীবন্ত ক্ষুধার্ত মানুষ অনুনয় বিনয় করে একমুঠো ভাতের আকুতি করে, তখন তার পাশে আমরা ক'জন দাঁড়াই? একটা শিক্ষিত বেকার যখন হাজারো ভর্ত্-সনা চোখ বুঝে সহ্য করে আসার আলো নিয়ে সম্মানের সহিত বাঁচার আকুতি জানায়, তখন কী আমরা কেউ তার মনের কষ্ট অনুভব করি? এই যে ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষক পরিবারের মুখে একমুঠো অন্ন তুলে দিতে বছরের পর বছর বিনা পয়সায় পাঠদান করে আসছেন, একবারও কী আমরা তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি? কীভাবে কাঁটছে তাদের জীবন? অর্ধাহারে, অনাহারে থেকেও হাসিমুখে সবার সঙ্গে লজ্জা এড়িয়ে চলছে। তাদের মনে কত যন্ত্রণা, দু-চোখে কত স্বপ্ন? ক্ষণিকের মধ্যে সবকিছু গুড়েবালিতে পরিনত হয়! একটাই প্রশ্ন সবকিছু স্বপ্ন ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। কবে হবে জাতীয়করণ? কবে কাটবে এই শনিরদশা?
শিক্ষকদের এই চরম দুর্দশা কী কখনো দূরীভূত হবে? বিনা পয়সায় চাকুরী করায় পরিবার, সমাজ কোথাও তাদের বিন্দুমাত্র মূল্য নেই। চরম অবহেলিত জীবন নিয়ে লোকলজ্জাকে উপেক্ষা করে বারবার নিজেদের অধিকার আদায়ে মহাসড়কে আন্দোলনেও নেমে নিন্দিত হয়েছেন বহুবার । কোঠাবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সরকার পালাবদল হলেও হতভাগা অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষকদের এখনো একমুঠো ভাতের লড়াইয়ে কেন মহাসড়কে নামতে হবে? ৩০ হাজার কোণঠাসা শিক্ষকরা কার কাছে যাবে? কেন হবে এই বৈষম্য? বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষক পরিবার কী রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়? শিক্ষকদের নাভিশ্বাস জীবনে বাঁচার আকুতি কী রাষ্ট্রের কানে এখনো পৌঁছেনি? একযুগের বেশি সময় ধরে বিনামূল্যে পাঠদান করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণ করা মানবিক রাষ্ট্রের কাছে জরুরী নয় কী? দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ে আর রাস্তায় নামতে হবে না। দেশপ্রেমিক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কী তার মায়ের সেই অপূরনীয় আজ্ঞা পালন করে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করে চির অবহেলিত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াবেন? দাঁড়ালে চির কৃতজ্ঞ হবে শিক্ষকসমাজ! পরিশেষে বলবো রাষ্ট্র তুমি মানবিক হও! জাতীয়করণের ছোঁয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করা শিক্ষকদের জীবন বদলে দাও!
এমএসএম / এমএসএম
বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো দীর্ঘ হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
সাতক্ষীরায় গ্রাম পুলিশের অভিনব কায়দায় প্রবাসীর টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ
রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন
কাশিমপুর কারাগারে স্ত্রীর সাথে দেখা করতে এসে ইয়াবাসহ আটক ১
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে মারিশ্যা জোনের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আয়োজন
ভবদহ অধ্যুষিত মুক্তেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধ ধ্বসে গিয়ে নতুন করে ৫ গ্রাম প্লাবিত
লাকসামে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবশে
চরফ্যাশন-মনপুরাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে : নুরুল ইসলাম নয়ন
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা সহ্য করা হবে না: মাওলানা আমিনুল ইসলাম
পাসওয়ার্ড জটিলতায় বন্দি কুড়িগ্রাম হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা: কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম অচল, দুর্ভোগে রোগীরা
নাগেশ্বরী খাদ্যগুদামে বন্দি বানভাসীদের চাল, ফেরত গেছে টিসিবির চালও
পটিয়ায় ক্লার্ক নেতা তোহা হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম, মানববন্ধন