ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

দুই বছরেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়নি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ


কুবি প্রতিনিধি photo কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫-৭-২০২৬ দুপুর ১:৫৯

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শহিদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা সামনের সারিতে ছিলেন। ১১ জুলাই আন্দোলনের সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই প্রথম পুলিশি হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় ২১-২৩ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। পরবর্তীতে আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল কাইয়ুম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে এখনো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হবে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রথম প্রতিরোধ দিবস ১১ জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১১ জুলাইকে ‘প্রথম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই মিনার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি উদ্যোগে একটি ‘প্রতিরোধ মিনার’ নির্মাণের কথাও জানান।

তবে ঘোষণার এক বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই স্থানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে না পড়ায় শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা স্বৈরাচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঈঁয়া বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আমরা গত বছর থেকে কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি। আমরা কয়েকটা ডিজাইনও জমা দিই এছাড়াও যখন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আসে তখন ওনার মন্ত্রণালয় থেকে ওনি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভ আরেকটা কোটবাড়ি বিশ্বরোডের স্মৃতিস্তম্ভ করার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কাজ না করার কারণে এটা বাস্তবায়ন হয় নাই।'

তিনি আরে বলেন, 'কোটবাড়ি বিশ্বরোডের স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আমরা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের সাথে অনেকবার বসেছিলাম। ডিজাইন, স্থান সবকিছু মোটামুটি সেটআপ হইছে এখন বর্তমান প্রশাসন যদি আরেকবার কথা বলে তাহলে হয়ে যাবে। এছাড়া ১১ জুলাই প্রতিরোধ দিবস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে পারে এটার জন্য জোর দাবি জানাই।'

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূঁইয়া বলেন, জুলাইয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ছিলো অনস্বীকার্য। সারাদেশের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পুলিশি আক্রমণ হয় এবং সেখান থেকেই প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়েছিলো ক্ষমতার থেকে জনতাই সবচেয়ে শক্তিশালী। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নিপীড়নের বিরোধিতা এবং ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা থেকে শুরু করে পরবর্তীতে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নামে তৈরী হওয়া হলের নাম পরিবর্তন, সবকিছুই ছিলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমরা চেয়েছিলাম সে স্মৃতিচিহ্ন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখতে। 

তিনি আরও বলেন, 'প্রশাসনের সাথে বহুবার আলাপ হয়েছে। তাদের আগ্রহ কম ছিলো বিধায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার ,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদদের শরণাপন্ন হই। উপদেষ্টা মহোদয় এটা করে দেয়ার আশ্বাস দেন এবং ১১ জুলাই ২০২৫ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের কাছ ছিলো সেটি সরকারের সাথে কথা বলে বাস্তবায়ন করা। কিন্তু তারা সেটা করেননি। জুলাইয়ের কারনে তারা চেয়ারে বসার সুযোগ পেয়েও জুলাইয়ের জন্য কিছুই করেননি। আমরা স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, স্মৃতিফলক না হওয়ার জন্য দায়ী তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের গাফিলতির জন্য এটা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা আশা করবো, জুলাইয়ের স্পিরিট নিয়ে আসা বর্তমান প্রশাসন এই স্মৃতিফলক বাস্তবায়ন করবে।'

ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী খান মোহাম্মদ নাঈম বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কুবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। জুলাই বাংলাদেশের মানুষের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন নিদর্শনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা জরুরি। আমরা আশাবাদী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করবে।।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যাপ্ত বাজেট পেলেই আমরা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করে দিব ।'

এমএসএম / এমএসএম

টানা ৩ বার ২% গবেষকের তালিকায়, সাবেক পাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন শেকৃবির ৭ শিক্ষার্থী

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় পাবিপ্রবির ৮ গবেষক

‎বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক মোহাম্মদ শফি উল্যাহ্

শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কুবিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মেলা

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩৪ নম্বর রুম থেকে জার্মানির বায়ার্নে দুই বন্ধু

‎নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত, ২৩ শিক্ষার্থী পেলেন বৃত্তি

কুবিতে শিক্ষাছুটি শেষে যোগ না দেওয়ায় ৬ শিক্ষকের পদ শূন্য

১৫ দিনের সংস্কারে কি বদলাবে গবি ক্যান্টিন?

গোপালগঞ্জে এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা, প্রধান অতিথি গোবিপ্রবি উপাচার্য

জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন গোবিপ্রবি উপাচার্য

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে রায়গঞ্জে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা