ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ধান শেষ বন্যায়, মাছ ধরতে না পেরে হল ঋণের বোঝা, গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রাণ গেল জেলের


মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি photo মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯-৭-২০২৬ বিকাল ৬:৭

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বন্যায় ফসলহানি, ঋণের কিস্তির চাপ, মাছ ধরতে না পারা এবং পুলিশের মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্ট্রোকে বিকাশ মিয়া (৪৯) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলার মাঘান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিকাশ মিয়ার স্ত্রী সনজিতা আক্তার। এসময় বিকাশের বাবা আহম্মেদ সাইরেলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

এরআগে গত শুক্রবার বিকালে পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় আত্মীয়র বাড়িতে পলাতক থাকা অবস্থায় স্ট্রোকে মৃত্যু হয় বিকাশ মিয়ার।

বিকাশ মিয়া মোহনগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের কুড়েরপাড় গ্রামের আহম্মেদ সাইরেলের ছেলে।

বিকাশের স্ত্রী সনজিতা বলেন, হাওরে ৫ একর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ করেছিলেন বিকাশ। ধান চাষ করতে গিয়ে অনেক ঋণ করেছে। পরে আবার ঋণ করে জাল কিনেছিল আমার স্বামী। কিন্তু হাওরে অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পারায় ঋণ শোধ করতে পারেনি। তারপর জাল জব্দ করে পুলিশ ১১৬৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। মামলার পর পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। সংসার চালানো, ঋণের চাপ আর গ্রেপ্তারের ভয়-সব মিলিয়ে মানসিক চাপে সে স্ট্রোক করেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব জানি না। হাওরে মাছ ধরার অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি স্বামীর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলেও হাওরে মাছ ধরতে না দেওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে হাওরে পাঁচ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন বিকাশ মিয়া। তবে আকস্মিক বন্যায় চার একর জমির ধান তলিয়ে যায়। মাত্র এক একর জমির ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হন। চাষাবাদ ও পরে মাছ ধরার জন্য জাল কিনতে এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হতো প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্ষা মৌসুমে বড় ছেলে, কলেজপড়ুয়া দিদারকে সঙ্গে নিয়ে হাওরে মাছ ধরে ঋণ শোধ ও সংসারের খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল বিকাশের। কিন্তু স্থানীয়ভাবে হাওরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি মাছ ধরতে পারেননি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ২৮ জুন পর্যন্ত থাকলেও ডিঙাপোতা হাওরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পেটের তাগিদে কেউ কেউ গোপনে মাছ ধরতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়ছেন।

গত ১১ জুলাই হাওরে মাছ ধরতে গেলে বিকাশ মিয়াসহ কয়েকজন জেলের খনা জাল জব্দ করে পুলিশ। পরে স্থানীয় জেলেরা থানা থেকে জব্দ করা জাল নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ১৩ জুলাই ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় বিকাশের ভাতিজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গত ১৪ জুলাই বিকাশ মিয়া পাশের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে গত শুক্রবার বিকালে  তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয় জেলে মো. ওসমান গনি বলেন, “মামলার পর গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকায় অনেক পুরুষ বাড়িতে নেই। সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা মাছ ধরিনি। এখন স্থানীয়ভাবে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।”

আরেক জেলে মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের দুর্দশার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা উচিত। আরও কিছুদিন পর পানি কমে গেলে মাছ জলমহালে চলে যাবে। তখন লাভ হবে ইজারাদারের, কিন্তু জেলেরা না খেয়ে থাকবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরে ৭৫ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনাগুলো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে স্থানীয়ভাবে আহ্বান জানানো হয়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৮ জুন শেষ হয়েছে। ফলে তারা বৈধভাবে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা ও বাগবিতন্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “বিকাশ মিয়ার মৃত্যুর খবর আমার জানা নেই। মামলার পর মামুন ও জাকির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর ওই এলাকায় পুলিশ আর কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ২৮ জুনের পর থেকে মাছ ধরায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এবংদেশীয় মাছের বিস্তার বাড়াতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

নেত্রকোণায় নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বোদায় ৫,৮৯০ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ বিতরণ হলো প্রায় ৩০ হাজার গাছের চারা

এলজিইডির উদ্যোগে মাগুরায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় ১৯ জন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) লটারি ২০২৬-এর ড্র অনুষ্ঠিত: ফলাফল প্রকাশ

উৎসে কর কর্তনে নজরদারি বাড়াল এনবিআর

মধুখালীতে রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন স্পেন

বাগেরহাটের মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু

জুড়ীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা জোরদারকরণে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্বোধন

আদমদীঘিতে সার ডিলারে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা গুদাম সিলগালা

নওগাঁর বর্ষাইলে জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের খাল পাড়ে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

ধান শেষ বন্যায়, মাছ ধরতে না পেরে হল ঋণের বোঝা, গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রাণ গেল জেলের

পেকুয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ