রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়াতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা ২১ বছরের টুম্পা দাশ, চিকিৎসা অর্থ অভাবে বাঁচার আকুতি
রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা বাঙ্গালহালিয়া তে মাত্র ২১ বছর বয়স। এই বয়সে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল সুন্দর ভবিষ্যতের, পরিবারকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ হিপ জয়েন্টের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে রাঙামাটি রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ম্রুংদ্রং পাড়ার বাসিন্দা টুম্পা দাশের।
২০২৫ সাল থেকে দুরারোগ্য এই ব্যাধিতে ভুগছেন তিনি। দিন যত যাচ্ছে, ততই অবনতি হচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থার। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা তো দূরের কথা, নিজের দৈনন্দিন কাজও অন্যের সাহায্য ছাড়া করতে পারছেন না।
এই অসহায় পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে তাঁর মাত্র সাত মাস বয়সী কন্যাসন্তান। মাতৃত্বের সবচেয়ে সুন্দর সময়টি উপভোগ করার পরিবর্তে অসহ্য ব্যথা আর শারীরিক অক্ষমতার সঙ্গে লড়াই করছেন টুম্পা। নিজের সন্তানকে কোলে নেওয়া, আদর করা কিংবা ঠিকমতো যত্ন নেওয়ার মতো সাধারণ কাজও তাঁর কাছে আজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন মায়ের এই অসহায়ত্ব পরিবার ও স্বজনদেরও গভীরভাবে কাঁদিয়ে তুলছে পুরো পরিবারর্বগ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার শুরুতে সাধারণ চিকিৎসা নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য পরিবারটির নেই। সীমিত আয়ের এই পরিবার ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে যা ছিল তা ব্যয় করেছে। এখন অর্থের অভাবে কার্যত চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে টুম্পা দাশ সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখন নির্ভর করছে সমাজের মানবিক মানুষের সহায়তার উপর।
টুম্পা দাশ বলেন, আমি ২০২৫ সাল থেকে এই রোগে ভুগছি। প্রতিদিন অসহ্য ব্যথা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। ঠিকভাবে হাঁটতে পারি না, নিজের কাজ নিজে করতে পারি না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে আমার সাত মাসের ছোট মেয়েটার দিকে তাকালে। ওকে কোলে নিতে চাই, আদর করতে চাই, কিন্তু শরীর সায় দেয় না। একজন মা হয়ে নিজের সন্তানকে ঠিকভাবে যত্ন নিতে না পারার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।"
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের পরিবারের সেই সামর্থ্য নেই। তাই দেশ-বিদেশের সকল হৃদয়বান মানুষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনের কাছে আমার বিনীত আবেদন—আপনারা আমাকে একটু সাহায্য করুন। আমি সুস্থ হয়ে আমার ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চাই। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া/আশীর্বাদ কামনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, টুম্পা দাশ একজন সংগ্রামী তরুণী। অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, দানশীল প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন মায়ের সুস্থতা মানে শুধু একটি জীবনকে বাঁচানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি নিষ্পাপ ফুটফুটে সাত মাসের শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার । তাই টুম্পা দাশের চিকিৎসায় সমাজের সকলের মানবিক সহযোগিতা এখন হাত বাড়ানোর বিনয়ের সাথে সময়ের দাবি।
এমএসএম / এমএসএম
জিয়ানগরে আ’লীগ কর্মীর হাতে প্রধান শিক্ষককে উপর মারধরের অভিযোগ
অপরাধ দমনে বিশেষ অবদান, সম্মাননা পেলেন ধুনটের ওসি আতিকুল ইসলাম
ঘোড়াঘাটে ১৯৮পিচ ইয়াবাসহ ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার: দুই জেলের কারাদণ্ড, বিশাল জাল ধ্বংস
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে চায়ের দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
জুড়ীতে দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশের বিশেষ মহড়া ও চেকপোস্ট কার্যক্রম
কমলগঞ্জে ১ হাজার ৮০ জন চা শ্রমিকের মাঝে ধনা বাউরির বস্ত্র বিতরণ
চিতলমারীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্র, সন্ধান চায় পরিবার
কুমিল্লা সীমান্তে মাদক উদ্ধারে গিয়ে ভারতীয়দের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য
পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষনা
দুর্গাপূজা ঘিরে স্বস্তি, সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
রাজশাহীতে দৈনিক বার্তার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন