বেনাপোল বন্দরের আলোচিত কর্মকর্তা রনি’র বদলি
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে গড়েউঠা সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ওয়্যারহাউস সুপারিনটেনডেন্ট আশিকুর রহমান-রনিকে বদলি করছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পরিচালক প্রশাসন শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে হিলি স্থলবন্দরে বদলির আদেশ দেন। তবে এ বদলির আদেশের পরপরই এ আদেশ বাতিল করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি চক্র।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের শুধু বদলি শৃঙ্খলা ফেরাতে পারবে না। দেশের স্বার্থে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ ক্রকসহ জড়িত ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে স্থলবন্দরের কর্মকর্তাদের অবস্থান ১ বছরের বেশি সময় অতিক্রম হলে বদলির আওতায় আনতে হবে।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আমদানি হয়ে আসা পণ্য চালানগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পূর্বে বন্দর স্কেলে ট্রাকসহ পণ্যের গ্রোস ওজন নিশ্চিত করা হয়। পণ্য আনলোড হওয়ার পরে আবার খালি ট্রাক ওজন করে পণ্যের নিট ওজন নিশ্চিত করে ওজন স্লিপ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে কয়েকটি পণ্য চালানে গড়মিল হলে বন্দরকে চিঠি দেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বন্দর ও কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল আমদানিকারক রোকেয়া ট্রেডার্স ভারত থেকে ডাব্লু-বি-২৩-এফ-৮১৪২ গাড়িতে আঙ্গুর আমদানি করে যার ম্যানুফেস্ট নাম্বর ৬০১-২০২৬-০০১-০০২৫৮৩৩/০৪, তারিখ: ২৫/০৪/২০২৬ইং। আর এই পণ্য চালনটি ছাড় করণের দায়িত্ব ছিলো বেনাপোলের বহুল আলোচিত আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া উজ্জল বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট উৎস শিপিং লাইন্স। ট্রাকটির ওজন কারসাজিতে ৫৭০ কেজি বেশি দেখানো হয়। খালি ট্রাকটির ওজন ছিলো ১৩হাজার ৩১০ কেজি অথচ কার সাজির মাধ্যমে স্লিপ দেওয়া হয় ১৩ হাজার ৮৮০ কেজি। ফলে ৫৭০ কেজি বেশি দেখানো হয়। শুল্ক ফাঁকির হিসাব মতে এই ট্রাক আগামী ৩ মাসে বন্দরে যে কোন পণ্য চালান নিয়ে মুভমেন্ট করবে সেখানে এই (ওজন কারসাজির) স্লিপ ব্যবহার করা হবে। সে ক্ষেত্রে ৫৭০ কেজিতে আঙ্গুরে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া উচ্চ শুল্ক যুক্ত পণ্য হলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিবে। এর পরপরই ওজন স্কেলে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বন্দর তবে এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি সে তদন্ত।
কস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উঠে আসে বন্দরের ৫ নম্বর ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই সময়ে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন দেখানো হয়েছে। পণ্য তালিকায় ট্রাকটির খালি ওজন ৪ হাজার ৮৮০ কেজি এবং অন্যটিতে ৪ হাজার ৯২০ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে। ২৫ জুন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সে চালানটি আটক করে এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তবে এ বিষয়ে কাস্টমস আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য একই শেডের বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে সেগুলো খালাস করে নিয়ে যায়। আর এ কাজে বন্দরের শেড ইনচার্জরা সরাসরি জড়িত থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, বেনাপোল বন্দরের পচনশীল পণ্যর মাঠে ওজন কারসাজিতে ট্রাক প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা রফাদফায় শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারনে, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থ বছরে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।
শুল্ক ফাঁকি অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বেনাপোল বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে গড়ে উঠা ওজন কারসাজির শুল্ক ফাঁকির সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্দরে আগত চিহ্নিত ভারতীয় শুল্ক ফাঁকির একাধিকবার প্রবেশকৃত ট্রাক গুলোর হিস্টরি বের করে নতুন করে (ওজন) দিলেই বেরিয়ে আসবে ওজন কারচুপির সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ ও অসাধু কর্মকর্তাদের কারসাজির হিসাব। এছাড়া বন্দরের সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করলে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য চালানের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ মার্চ বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে ৬ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান জব্দ করা হয়। রহস্যজনকভাবে বন্দরের জিম্মায় রাখা শুল্ক ফাঁকির সেই চালান গায়েব হয়ে গেছে (উচ্চ শুল্কযুক্ত) দামি ভারতীয় পণ্য। তার বদলে সেখানে রাখা হয় অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিস সহ অন্যান্য সামগ্রী।
অভিযোগ রয়েছে,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম-১ এবং বন্দরের আশিকুর রহমান রনি একই এলাকার হওয়ায় যৌথ প্যাকেজে স্কেল ওজনে কারচুপি ও জাল নথিপত্র তৈরি করে পণ্য খালাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কাস্টমসের ৬ কোটি টাকার আটক পণ্য চালান পাচারের সাথে তারা পরস্পর জড়িত। তাছাড়া রিয়াদ এজেন্সির কর্মচারি রুহুল কুদ্দুস অরফে আনোয়ারের যোগসাজসে ৬০ লাখ টাকা রফাদফায় এ পণ্য চালান সরানো হয়। এই ঘটনায় গত ৯ (জুন) কাস্টমস বাদি হয়ে ১০ জনের নামে মামলা করে। যার মামলা নং-০৯, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারায়- ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৫/৩৪।
এ বিষয়ে ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্ড আশিকুর রহমান রনি জানান, আমি পচনশীল পণ্যর স্কেলে অতিরিক্ত হিসাবে দায়িত্ব পালনকরি। তাছাড়া (ওজন পরিমাপক যন্ত্র) কারসাজির বিষয়টি যান্ত্রিক ত্রুটি।
এদিকে আশিকুর রহমান রনির বদলির আদেশ ঠেকাতে শুল্ক ফাঁকি চক্র তদবির বাণিজ্যে উঠেপড়ে লেগেছে। ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্ড আশিকুর রহমান রনির বদলির আদেশ বাতিল করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রাণালয়ে লবিং চালাচ্ছে। অপরদিকে রনি বদলির আদেশ বাতিল হবে বলে বন্দর এলাকায় জোর গলায় জাহির করছে।
এমএসএম / এমএসএম
রায়পুরে অননুমোদিত ‘গ্রিনলাইফ’ ডায়গনস্টিকঃ চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার অভিযোগ
হাওরাঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার দাবি: নাহিদ ইসলাম
ছাত্রাবাসে মিললো শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ময়লার ডাম্পিং স্থানান্তরের দাবিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন সোসাইটির মানববন্ধন
কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু
বাগেরহাটের অবৈধ মাদক অধ্যুষিত লাকায় ছুরিকাঘাতে আইনজীবী খুন
রাশেদুজ্জামান তাওহীদ কে প্রধান করে কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপি'র ৫ সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটি গঠন
পার্টনার ফিল্ড স্কুলের তথ্য দিতে গড়িমসি কৃষি কর্মকর্তার; প্রদর্শনীর নায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত কৃষকরা
বেনাপোল বন্দরের আলোচিত কর্মকর্তা রনি’র বদলি
ধুনটে বারান্দা থেকে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ
ম্যাঙ্গো লাভার "মুরাদ"র অফিস কক্ষে তরুণী'কে ধর্ষণ চেষ্টা