ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

সিডিএ’র এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন ডিসেম্বরে, মামলা জটিলতা অন্তরায়!


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ২৫-৭-২০২৬ দুপুর ৪:২০

নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে চট্টগ্রামের একমাত্র এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটি উদ্বোধন করবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। ডিসেম্বরে উদ্বোধনের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্টরা। মূল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আগেই শেষ হয়েছে, এখন র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। তবে উচ্চ আদালতের একটি ’স্টে অর্ডার’ যথাসময়ে কাজ শেষ হওয়ার পথে অন্তরায় হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান। এই প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, ২০১৭ সালে অনুমোদন হওয়া ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ (চট্টগ্রাম ওয়াসা টু সী বিচ) ও ৫৪ ফুট প্রস্থ ৪ লেইন বিশিষ্ট চট্টগ্রামের একমাত্র আধুনিক এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ কাজ আরো আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগ্রবাদ এলাকায় র‌্যাম্পের জন্য বাংলাদেশ বেতারের ২.১৭ শতক জমি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েন, টাইগারপাস এলাকায় র‌্যাম্প নামাতে রেলের মালিকানাধিন কিছু গাছ কাটার বিষয়ে বিরোধ ও দামপাড়ায় সিডিএ এভিনিউ এলাকায় ব্লুসম গার্ডেন নামের একটি ভবনের উচ্চ আদালতের রিট পিটিশন এবং ’স্টে অর্ডার’ অনেকটা বিলম্বিত করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতারের জমি ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ এর কারণে দামপাড়া এলাকার র‌্যাম্প নির্মাণ কাজে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে যথাসময়ে কাজ শেষ করার জন্য মামলা জটিলতা নিরসণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক অর্থাৎ চট্টগ্রামের একমাত্র এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধনের আশা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মোতাবেক আমরা সকল জটিলতা নিরসণে কাজ করছি। আশা করছি সব ঠিক থাকলে যথাসময়ে কাজ শেষ করে উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করতে পারব।   
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের মূল উড়ালসড়কের কাজ আগেই শেষ হয়েছে, ভূমি জটিলতায় র‌্যাম্পের কাজ ঠিকমতো করা যায়নি। তবু বর্তমানে ৯টি র‌্যাম্পের ৪টির কাজ প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শেষ, বাকী ৫টির কাজ দ্রুত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে আধুনিক মানের সেন্সর সমৃদ্ধ প্রায় ১৮০০ লাইট লাগানো হচ্ছে, যা ৭ বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছে কোম্পানী। প্রায় ২০০টি আছে গার্ডার জয়েন্ট। কন্সট্রাকশন কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাজের মানের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও যাতে কোন সমস্যা না হয় সেজন্য ঠিকাদারকে সবসময় চাপে রাখা হচ্ছে। ইতিহাসে এবারই প্রথম টোটাল প্রকল্পের ১০ শতাংশ রিডেনশন মানি ৭ বছরের জন্য জমা রাখা হচ্ছে। যা ৫ বছর পর অর্ধেক এবং এর ২ বছর পর বাকি অর্ধেক ফেরৎ দেওয়া হবে। এরমধ্যে কাজের ত্রুটি বা নষ্ট হলে সেখান থেকে টাকা কাটা হবে। 
সংশ্লিষ্টদের মতে এই এক্সপ্রেসওয়েটি পুরোপুরি চালু হলে শাহ আমানত সেতু থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেডের আওতায় চলে আসবে। শাহ আমানত সেতু থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ ছয় লেনের একটি রোড নির্মাণ করেছে। এতে সড়কে বিরতিহীনভাবে গাড়ি চলাচল করতে পারে। আর সেই রোড বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার হয়ে  আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যুক্ত হয়েছে। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দিয়ে সরাসরি চলে যাওয়া যাবে পতেঙ্গা সৈকত হয়ে টানেল দিয়ে নদীর ওপারে কিংবা ঢাকামুখী আউটার রিং রোডে যুক্ত হওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও  শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন চেয়ারম্যান মহোদয়। ডিসেম্বরেই এটি উদ্বোধনের কথা জানিয়েছেন তিনি। আমরা সেই মোতাবেক কাজ করছি। মূল সড়কের কাজ শেষ, ৯টি র‌্যাম্পের ৪টির কাজ ৯০ শতাংশ শেষ, এখন ৫টির নির্মাণের কাজ চলছে। ব্লুসম গার্ডেনের মালিক সৈয়দ জিয়াদ রহমানের একটি মামলায় ’স্টে অর্ডার’ থাকায় দামপাড়ায় একটি র‌্যাম্পের কাজে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি আইনি জটিলতা শেষ করে যথাসময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব। ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সর্বশেষ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। এরমধ্যে ঠিকাদারের ৩৫শ কোটি, ল্যান্ড, কনসালটেন্ট, গাড়ি ক্রয় ও ইকুইপমেন্ট ট্রান্সফার বাবদ ব্যয় সাড়ে ৬শ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। 
উল্লেখ্য, এক্সপ্রেসওয়েটির নাম প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর নামে “মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী সিডিএ উড়ালসড়ক” নামে নামকরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় শুরু করে এবং একইসাথে এক্সপ্রেসওয়ের নাম বদলে চট্টগ্রামে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরামের নামে নামকরণ করা হয় “শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক”।
২০১৭ সালের ১১ জুলাই এই প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ম্যাক্স এবং চিনের র‌্যাংকন যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এর নির্মাণ কাজ করছে।

এমএসএম / এমএসএম

টাঙ্গাইলে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শরণখোলায় আমগাছে মিললো দিনমজুরের ঝুলন্ত লাশ

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে অভয়নগরে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি বাসনো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ধামরাইয়ে দুই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

চাপাইনবাবগঞ্জে ৫ উপজেলায় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন।

ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামন। শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, কর্তৃপক্ষ নীরব

‎দলীয় সমর্থনে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিলেন রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশী ইসমাইল বিন মনির

কোনাবাড়ীতে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করায় ১০ জেলে আটক, জাল ও ইলিশ জব্দ

রাজারহাটে পৃথক অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার

দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকটে আত্রাইয়ের শুঁটকি পল্লীতে নেই প্রাণচাঞ্চল্যতা

টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা