ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

ধর্মপাশায় ওসি কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


কে এম শহীদুল, সুনামগঞ্জ  photo কে এম শহীদুল, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ২৯-৭-২০২৬ দুপুর ৪:২২

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্যা কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। 
‎আজ বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র হলরুমে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
‎এ সময় লিখিত বক্তব্যে নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্যাহ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিমিয়ে আসামীদের পক্ষে মামলার চার্জশিট দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী হত্যাকান্ডের পর ন্যায় বিচারের আশায় আমি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত ডালি ও অলির নাম কেটে দিলে তিনি মামলা নিবেন বলে জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় এমপির নির্দেশে মামলা নিলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি ১১ জন আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ আসামীর নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন। আমি এ মামলাটি পুনঃতদন্তের দাবী জানাই। যারা আমার ছোট ছোট ৪ টা সন্তানকে এতিম করেছে বর্তমান সরকারসহ প্রশাসনের কাছে আমি এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবী করছি।
‎সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বড় ভাই আলামিনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভূক্তভোগী মোছাঃ রুপা আক্তার  বলেন গত ০৭ই জুন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও পথিমধ্যে চাচাতো বোনকে হেনস্থা করার প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্য দিবালোকে আমার স্বামী (নাসিমকে) নির্মমভাবে হত্যা করে একই গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ডালি গংরা। হত্যাকান্ডের ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হলেও মূল আসামী ডালি ও অলি গংরা রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে।
‎এদিকে ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামীদের পক্ষে কাজ করার বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। হত্যা মামলায় ১১ জন আসামী এজহারভুক্ত থাকলেও মোটা অঙ্কের আর্থিক মুনাফার বিনিময়ে একটা হত্যা মামলার মূল আসামীসহ ০৯ জন আসামীর নাম এজহার থেকে বাদ দিয়ে কতিথ ওই ওসি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন। তাই স্বামী হত্যার কোন বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা না দেখায় আমি ন্যায় বিচারের আশায় আপনাদের শরনাপন্ন হয়েছি।
‎এছাড়াও তিনি আরও বলেন দীর্ঘ বছরের সামাজিক বিরোধের জেরে সুনই গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ডালি ও আনু আমার অবিবাহিত ননদকে একা পেয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শণসহ বিভিন্নভাবে শ্লীলতাহানির চেষ্ঠা করে। আমার স্বামী নাসিম এর হত্যাকান্ডের দুই দিন আগে আমার দেবর জসিমের মোটর সাইকেল আটকিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি কবর খুড়ে রাখার হুমকি দেয় আসামী অলি। ০৬ই জুন ডালি গংরা আমার ভাসুরসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার চেষ্ঠায় আক্রমন করে। পরের দিন ০৭জুন ডালি ও আনু গংদের সাথে কথা কাটা-কাটির জেরে আমার স্বামীকে কিল, ঘুষি, লাথি ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে হত্যা করে আসামীরা।
‎হত্যাকান্ডের ঘটনার পর আমার স্বামী হত্যার বিচারের আশায় ধর্মপাশা থানায় মামলা করতে গেলে দায়িত্বরত ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা মেহেদী হাসান ডালি গংদের নাম শুনেই মামলা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি আমাকে ডালি ও অলির নাম বাদ দিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। এমনকি তাদের নাম কেটে দিতে বড় অঙ্কের টাকার অফারও করেন। আমি কোনকিছুতে রাজি না হলে পরবর্তীতে স্থানীয় এমপি'র অনুরোধে ওসি মামলাটি গ্রহণ করলেও মামলায় আমাদের কোন রকম সহযোগিতা করছেন না বরং ওই ওসি আসামীপক্ষকে বিভিন্নভাবে সুবিধা দিচ্ছেন। এমনকি মামলার আয়ু জহিরুল
‎ইসলাম জোরপূর্বক একটি কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্ঠা করেন। আমি স্বাক্ষর না দিতে চাইলে তিনি আমাকে হেনস্তা করেন। এবং ওসি সাহেব মহিলা পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে আসার হুমকিও দেন। এবং বারবার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আমাকে চাপ দেন। এদিকে আসামীরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে আমাদেরকে প্রতিনিয়িত হুমকি দামকি দিয়ে আসছে।
‎বিগত সরকারের আমলেও দলের বিভিন্ন এমপি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে ছবি তোলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো আসামীরা। বর্তমানে খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি'র বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ছবি তোলে তাদের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করে এলাকায় দাফটের সাথে চলাফেরা করছে তারা। শিক্ষকতার মত মহান পেশায় নিয়োজিত থেকে নানা অপকর্ম করে বেড়ালেও তাদের ভয়ে মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পান না স্থানীয়রা। এদিকে ওসির সাথে আসামীদের পরিবারিক সম্পর্ক থাকায় ওসির পরামর্শে আমাদের নামে মিথ্যা একটি লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে আসামীরা। এতে আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
‎আমার স্বামী নাসিম একজন সামান্য চা বিক্রেতা ছিল। তাকে হারানোর পর আমি, আমার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন শোকে দিশেহারা। ছোট ছোট ৪ টা মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এদিকে প্রতিনিয়িত আসামীরা মামলা তুলে নিতে আমার পরিবারের মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবারের সকলের জান-মালের নিরাপত্তায় তাই আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি। সেই সাথে মূল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে আমার স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।#

Aminur / Aminur

হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ইয়াবা, চাইনিজ কুড়াল ও নগদ টাকাসহ মাদক কারবারি আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ চেষ্টায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির ‘তাল বেলাল’

বাউফলে অসচ্ছল ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান ও ঢেউটিন বিতরণ

আড়ানী পৌর এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ,আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

খাম্বার সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

ত্রিশালে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

খাল খনন শেষে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সাটুরিয়ার ইউএনও

বাঘার জনপদে নতুন উদ্যমে জেগে উঠল ‘স্বপ্নসারথি’ কিশোরীরা

ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ধর্মপাশায় ওসি কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মনপুরায় ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার, পলাতক আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা