আমিও অপরাধী
পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষ সবসময় নির্দোষ হতে চায়। আমরা প্রত্যেকে চাই, অন্যরা আমাদের ভালো মানুষ হিসেবে জানুক, সৎ নাগরিক হিসেবে সম্মান করুক। কিন্তু কখনো কি নিজের অন্তরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছি, আমি কি সত্যিই নির্দোষ? সমাজে ঘটে চলা অন্যায়, দুর্নীতি, অবিচার, বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস, ঘুষ, মিথ্যা, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার, খাদ্যে ভেজাল, নারী ও শিশু নির্যাতন, সড়ক দখল, নদী দখল, পাহাড় কাটা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের জন্য শুধু যারা সরাসরি এসব অপরাধ করে তারাই কি দায়ী? নাকি আমিও কোনো না কোনোভাবে সেই দায়ের অংশীদার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বিবেক বারবার একটি কথাই বলে আমিও অপরাধী।
আমি হয়তো কোনো ঘুষ নেইনি, কোনো মানুষের জমি দখল করিনি, কারও অধিকার ছিনিয়ে খাইনি। কিন্তু যখন এসব অন্যায় আমার চোখের সামনে ঘটেছে, আর আমি নিরব থেকেছি, তখন আমার নিরবতা কি অপরাধকে শক্তিশালী করেনি? অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না দেখিয়ে, নিজের নিরাপত্তার অজুহাতে চুপ করে থাকা কি অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়? একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব শুধু নিজের জীবন সুন্দরভাবে পরিচালনা করা নয়; বরং সমাজের কল্যাণে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ থাকে না।
আজ আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মানুষ কমে যাচ্ছে। সবাই জানে কোথায় ঘুষ চলে, কোথায় কমিশন বাণিজ্য হয়, কোথায় নিয়োগে অনিয়ম হয়, কোথায় সরকারি অর্থ লুট হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ মনে করে, ”এসব আমার বিষয় নয়।” এই উদাসীনতাই দুর্নীতিবাজদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ অপরাধীরা শুধু নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকে না; তারা টিকে থাকে সৎ মানুষের নিরবতার ওপর। তাই সমাজে যখন দুর্নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শুধু দুর্নীতিবাজ নয়, নীরব দর্শকরাও ইতিহাসের বিচারে দায়ী হয়ে যায়।
একটি শহর যখন জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়, তখন আমরা প্রশাসনকে দোষ দেই। কিন্তু নালায় প্লাস্টিক কে ফেলেছিল? রাস্তার পাশে ময়লা কে ফেলে এসেছিল? ড্রেন দখল করে দোকান কে বানিয়েছিল? পাহাড় কেটে বাড়ি কে নির্মাণ করেছিল? আমরা যদি নিজের ভুলগুলো স্বীকার না করি, তাহলে শুধু সরকার বা প্রশাসনকে দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নাগরিক দায়িত্বহীনতা অনেক সময় প্রশাসনিক ব্যর্থতার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
রাস্তা দখল করে দোকান বসানো অন্যায়। কিন্তু সেই দোকান থেকে আমরাই আবার কম দামে পণ্য কিনি। ফুটপাত দখলকে গালি দেই, অথচ সুবিধার জন্য সেই ফুটপাতের দোকানেই ভিড় করি। অবৈধ স্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করি, কিন্তু নিজের প্রয়োজনে নিয়ম ভেঙে একটি বারান্দা বাড়িয়ে নিতে দ্বিধা করি না। এই দ্বৈত চরিত্র সমাজকে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে তোলে। আমরা অন্যের অপরাধ দেখি, নিজের অপরাধ দেখতে চাই না।
খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করি। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী যখন লাভের আশায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করেন, তখন তিনি ভুলে যান যে সেই খাবার তার নিজের সন্তানও খেতে পারে। আবার একজন ক্রেতা যখন খুব কম দামে ভালো পণ্য পাওয়ার অবাস্তব আশা করেন, তখন অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য সুযোগ তৈরি হয়। সততার বাজার তৈরি না করে শুধু অসততাকে দোষ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ আমাদের জীবনের বড় অংশ। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পড়ে। আমরা যাচাই না করেই খবর শেয়ার করি, কারও সম্মানহানি করি, গুজব ছড়াই, বিদ্বেষ ছড়াই। পরে যখন সেই খবরটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন আর কেউ দায় নিতে চায় না। অথচ একটি শেয়ারও কখনো কখনো একটি পরিবার ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই গুজব ছড়ানো শুধু প্রযুক্তিগত ভুল নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। আর সেই অপরাধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে আমিও দায়মুক্ত নই, যদি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করি।
পরিবেশ ধ্বংসের জন্য আমরা শিল্পকারখানাকে দোষ দেই। কিন্তু প্রতিদিন অপ্রয়োজনে প্লাস্টিক ব্যবহার করি, গাছ কাটার প্রতিবাদ করি না, নদীতে আবর্জনা ফেলি, পানি অপচয় করি, বিদ্যুৎ অপচয় করি। আমরা ভাবি, আমার একার কারণে কি হবে? অথচ কোটি মানুষের এই একই চিন্তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। পৃথিবীর আজকের অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি; অসংখ্য ছোট ছোট দায়িত্বহীনতার ফলেই আজ এই সংকট।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করি। কিন্তু পরিবারে যখন একটি ছেলে শিশুকে শেখানো হয় যে মেয়েরা দুর্বল, অথবা একটি মেয়েকে শেখানো হয় অন্যায় সহ্য করাই তার ধর্ম, তখন ভবিষ্যতের অপরাধের বীজ বপন করা হয়। একজন শিশুর নৈতিক শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হয়। সেই শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতের অপরাধের দায় থেকেও আমরা মুক্ত নই।
আইন অমান্য করার সংস্কৃতি আমাদের সমাজে ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, কর ফাঁকি দেওয়া, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা, এসবকে আমরা ছোটখাটো অপরাধ বলে মনে করি। কিন্তু বড় অপরাধের জন্ম হয় এই ছোট অপরাধগুলোর মধ্য থেকেই। যে সমাজ ছোট অন্যায়কে ক্ষমা করে, সেই সমাজ একদিন বড় অন্যায়ের কাছে পরাজিত হয়।
আমরা প্রায়ই বলি, দেশটা ভালো না। কিন্তু দেশ কি কোনো বিমূর্ত সত্তা? দেশ মানে তো আমি, আপনি, আমাদের পরিবার, আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না করি, তাহলে দেশ পরিবর্তনের দাবি কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকবে। একজন নাগরিক হিসেবে আমি যদি দায়িত্ব পালন না করি, তাহলে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিয়ে অভিযোগ করার নৈতিক অধিকারও আমার দুর্বল হয়ে পড়ে।
আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, নৈতিক। অর্থের অভাব পূরণ করা সম্ভব, কিন্তু বিবেকের অভাব পূরণ করা কঠিন। একজন মানুষ যখন নিজের বিবেকের সঙ্গে আপস করে, তখন সমাজের পতন শুরু হয়। আর সমাজের পতনের জন্য শুধু বড় অপরাধীরাই দায়ী নয়; দায়ী সেই সব মানুষও, যারা জানার পরও চুপ থেকেছে, দেখার পরও দেখেনি, বলার সুযোগ পেয়েও বলেনি।
তাই আজ নিজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ নই। সমাজের প্রতিটি ব্যর্থতার মধ্যে আমারও কিছু না কিছু দায় আছে। আমি হয়তো অন্যায় করিনি, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় দাঁড়াইনি। আমি হয়তো দুর্নীতি করিনি, কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট সোচ্চার হইনি। আমি হয়তো পরিবেশ ধ্বংস করিনি, কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় যথেষ্ট কাজও করিনি। আমি হয়তো অপরাধী নই আইনের চোখে, কিন্তু বিবেকের আদালতে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত নই।
এই উপলব্ধিই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। কারণ যে মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে, সেই মানুষই সমাজকে বদলানোর শক্তি রাখে। আমরা যদি প্রত্যেকে একবার করে বলি, ”আমিও অপরাধী, তাই আমি নিজেকে বদলাব” তাহলে সমাজও বদলাতে শুরু করবে। পরিবর্তন কখনো রাষ্ট্র দিয়ে শুরু হয় না; পরিবর্তন শুরু হয় একজন মানুষের বিবেক থেকে।
নিজেকে অপরাধী বলা সহজ নয়। মানুষ স্বভাবতই নিজের ভুল আড়াল করতে চায়। আমরা নিজের ব্যর্থতার জন্য পরিস্থিতিকে দায়ী করি, অন্যের ভুলকে বড় করে দেখি, কিন্তু নিজের দায়কে ছোট করে দেখি। অথচ একটি জাতির নৈতিক শক্তি নির্ভর করে তার মানুষের আত্মসমালোচনার ওপর। যে জাতি নিজের ভুল স্বীকার করতে শেখে, সেই জাতিই একদিন উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। আর যে জাতি সব দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেয়, সে জাতি বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে।
আজ আমাদের সমাজে দুর্নীতি যেন একটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। চাকরি পেতে তদবির, বদলি পেতে প্রভাব, কাজ করাতে ঘুষ, টেন্ডার পেতে কমিশন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, কর ফাঁকি এসব ঘটনা এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে অনেকেই এগুলোকে আর অপরাধ বলেই মনে করেন না। কিন্তু দুর্নীতি শুধু অর্থের ক্ষতি করে না; এটি মানুষের নৈতিকতা, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিশ্বাসকে ধ্বংস করে। একজন মেধাবী যুবক যখন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পায় না, তখন তার মনে রাষ্ট্রের প্রতি যে ক্ষোভ জন্ম নেয়, তার দায়ও আমাদের সবার।
আমি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে অন্যায় দেখে চুপ থাকি, তাহলে সেই অন্যায়ের একটি অংশ আমার কাঁধেও এসে পড়ে। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা মানে অন্যায়কে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়া। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অত্যাচারীর শক্তি যতটা নয়, তার চেয়েও বেশি শক্তি পায় সাধারণ মানুষের নিরবতা থেকে।
আমরা প্রায়ই দেখি, রাস্তার পাশে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে ওঠে। প্রথমে একটি ছোট দোকান, তারপর আরেকটি, তারপর পুরো ফুটপাত। মানুষ চলার জায়গা হারায়। যানজট বাড়ে, দুর্ঘটনা ঘটে। তখন আমরা প্রশাসনকে দোষ দিই। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রথম অবৈধ দোকানটি করেছিল, যে প্রতিবেশী তা দেখেও কিছু বলেনি, যে ক্রেতা প্রতিদিন সেই দোকান থেকে কেনাকাটা করেছে, তারা কি সম্পূর্ণ নির্দোষ? সমাজের প্রতিটি অবৈধ কাজের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীর একটি দীর্ঘ তালিকা থাকে।
একটি গাছ কাটতে কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু সেই গাছ বড় হতে লাগে বহু বছর। একটি পাহাড় ধ্বংস করতে লাগে কয়েকটি এক্সেভেটর, কিন্তু প্রকৃতির সেই ক্ষত পূরণ হতে লাগে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। নদী দখল, খাল ভরাট, জলাশয় নষ্ট করা, বন উজাড় করা, এসব শুধু পরিবেশের বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার হরণের অপরাধ। আমরা যদি আজ প্রকৃতিকে ধ্বংস করি, তাহলে আগামী দিনের শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না।
শিক্ষা আজ অনেক ক্ষেত্রে সনদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। আমরা সন্তানকে ভালো ফল করতে শেখাই, কিন্তু সবসময় ভালো মানুষ হতে শেখাই না। নম্বরের জন্য চাপ দেই, কিন্তু সততার মূল্য শেখাতে ভুলে যাই। ফলে সমাজে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নৈতিক মানুষের সংখ্যা সবসময় বাড়ে না। একজন শিক্ষিত দুর্নীতিবাজ একজন অশিক্ষিত দুর্নীতিবাজের চেয়েও ভয়ংকর, কারণ সে তার জ্ঞানকে অন্যায়ের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
আমাদের পরিবারেও অনেক ভুল শিক্ষা দেওয়া হয়। শিশু যদি দেখে তার বাবা ট্রাফিক আইন ভাঙছেন, বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিচ্ছেন, কর ফাঁকি দিচ্ছেন বা মিথ্যা বলে সুবিধা নিচ্ছেন, তাহলে সে বুঝে যায়, সফল হওয়ার জন্য সততা অপরিহার্য নয়। এই শিক্ষা কোনো বই থেকে আসে না, আসে বাস্তব জীবন থেকে। তাই আগামী প্রজন্মের চরিত্র গঠনের দায়ও আমাদের।
আমরা প্রায়ই বলি, “একজন মানুষ বদলালে কি হবে?” কিন্তু ইতিহাস বলে, সব বড় পরিবর্তনের শুরু একজন মানুষ থেকেই। একজন মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আরেকজন সাহস পায়, তারপর আরও অনেকে। সমাজ পরিবর্তনের আগুন কখনো জনসমুদ্র দিয়ে শুরু হয় না; শুরু হয় একটি বিবেকবান হৃদয় থেকে।
গণমাধ্যম, লেখক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, প্রত্যেকেরই সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। কেউ যদি নিজের দায়িত্ব সৎভাবে পালন না করেন, তাহলে সমাজের কোথাও না কোথাও একটি ফাঁক তৈরি হয়। আর সেই ফাঁক দিয়েই প্রবেশ করে অন্যায়, দুর্নীতি ও অব্যবস্থা।
আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে, যোগাযোগ সহজ হয়েছে, জ্ঞানের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ কি একইভাবে বেড়েছে? যদি না বেড়ে থাকে, তাহলে উন্নয়ন কেবল কংক্রিটের দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকবে; মানবিক উন্নয়ন হবে না।
আমি যখন একজন অসহায় মানুষকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেই, তখন মানবতার কাছে আমি দায়ী। আমি যখন কোনো নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভয় পাই, তখন বিবেকের কাছে আমি দায়ী। আমি যখন সমাজের সমস্যা নিয়ে শুধু আড্ডা দেই কিন্তু কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নেই না, তখন ভবিষ্যতের কাছেও আমি দায়ী।
তাই আজ আমি নিজের দিকে আঙুল তুলতে চাই। অন্যকে দোষারোপ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে চাই-আমি কি করেছি? আমি কি আমার নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছি? আমি কি সত্য কথা বলেছি? আমি কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি? আমি কি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছি? আমি কি আমার সন্তানকে একজন সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দ্বিধাহীনভাবে “হ্যাঁ” না হয়, তাহলে আমারও দায় আছে।
এই দায় স্বীকার করা দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং এটি একজন সচেতন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ আত্মসমালোচনাই আত্মশুদ্ধির পথ খুলে দেয়। যে মানুষ নিজের ভুল দেখতে পারে, সে-ই সমাজের ভুল সংশোধনের সাহস রাখে।
আজ তাই আমি কাউকে অভিযুক্ত করার আগে নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। বিচারকের আসনে বসাই নিজের বিবেককে। আর সেই বিবেকের রায় স্পষ্ট সমাজের সব অন্যায়ের জন্য আমি একা দায়ী নই, কিন্তু আমি সম্পূর্ণ নির্দোষও নই।
মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিবেক। এই বিবেকই বলে দেয় কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়। কিন্তু যখন আমরা বারবার নিজের বিবেককে উপেক্ষা করি, তখন অন্যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। একসময় আমরা এমন অবস্থায় পৌঁছে যাই, যেখানে অপরাধ দেখে আর বিস্মিত হই না। সংবাদপত্রে দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণ, প্রতারণা, পরিবেশ ধ্বংস কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের খবর পড়ে আমরা কয়েক মুহূর্ত আলোচনা করি, তারপর আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। যেন এসব আমাদের জীবনের অংশ নয়। অথচ একটি সভ্য সমাজে অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতাও একটি ভয়ংকর অন্যায়।
আমরা প্রায়ই বলি “দেশের মানুষ ভালো নয়।” কিন্তু দেশের মানুষ কারা? আমরা সবাই মিলেই তো দেশ। আমি যদি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন না করি, আপনি যদি আইনকে সম্মান না করেন, অন্য কেউ যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে, আর আরেকজন যদি সবকিছু জেনেও নিরব থাকে, তাহলে এই সমাজ ভালো হবে কিভাবে? তাই সমাজের প্রতিটি সংকটের ভেতরে আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু দায় লুকিয়ে আছে।
রাষ্ট্র কখনো একা দুর্নীতিগ্রস্ত হয় না। রাষ্ট্রকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে মানুষ। আবার রাষ্ট্রকে সৎ ও শক্তিশালীও করে মানুষ। একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তা যেমন হাজার মানুষের জীবন বদলে দিতে পারেন, তেমনি একজন অসৎ কর্মকর্তা হাজার মানুষের অধিকার নষ্ট করতে পারেন। কিন্তু সেই অসৎ মানুষটিকে যদি সমাজ বারবার সম্মান দেয়, তাকে যদি সামাজিক অনুষ্ঠানে মাথায় তুলে রাখে, তার অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলে, তাহলে সেই অপরাধের দায় শুধু তার নয়, সমাজেরও।
আমরা সন্তানদের বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাই, কিন্তু খুব কম মানুষই তাদের ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেই। অথচ বড় হওয়ার চেয়ে ভালো হওয়া অনেক বেশি জরুরি। একজন সৎ রিকশাচালক সমাজের জন্য একজন অসৎ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। কারণ সমাজ টিকে থাকে সততার ওপর, পদমর্যাদার ওপর নয়।
আজ মানুষ অর্থের পেছনে ছুটছে, কিন্তু মূল্যবোধকে পিছনে ফেলে যাচ্ছে। অর্থ প্রয়োজন, উন্নয়ন প্রয়োজন, আধুনিকতা প্রয়োজন কিন্তু এগুলোর কোনোটিই নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না। যে উন্নয়ন মানুষের বিবেককে হত্যা করে, যে উন্নয়ন পরিবেশকে ধ্বংস করে, যে উন্নয়ন বৈষম্য বাড়ায়, সেই উন্নয়ন কখনো প্রকৃত উন্নয়ন নয়।
আমরা যদি সত্যিই একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই, তাহলে পরিবর্তনের শুরু হতে হবে নিজের ভেতর থেকে। আমি ঘুষ দেব না, নেব না। আমি মিথ্যা বলব না। আমি ট্রাফিক আইন মানব। আমি রাস্তা বা নালা দখল করব না। আমি গাছ লাগাব। আমি কর ফাঁকি দেব না। আমি গুজব ছড়াব না। আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্তত নিজের কণ্ঠ তুলব। এই ছোট ছোট অঙ্গীকারগুলোই একদিন একটি বড় জাতীয় পরিবর্তনের ভিত্তি হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, একজন মানুষের প্রতিবাদে কিছুই বদলায় না। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। পৃথিবীর প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল অল্প কয়েকজন বিবেকবান মানুষের হাত ধরে। তারা সংখ্যায় কম ছিলেন, কিন্তু নৈতিক শক্তিতে ছিলেন অদম্য। তাই নিজের দায়িত্ব পালনকে কখনো ছোট করে দেখা উচিত নয়।
আমি জানি, আমি একা পৃথিবীর সব অন্যায় বন্ধ করতে পারব না। আমি একা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে পারব না। আমি একা সমাজ বদলে দিতে পারব না। কিন্তু আমি অন্তত নিজের বিবেককে বাঁচিয়ে রাখতে পারি। আমি এমন একজন মানুষ হতে পারি, যার কারণে অন্য একজন মানুষ সততার অনুপ্রেরণা পায়। সমাজের পরিবর্তন সেখান থেকেই শুরু হয়।
আজ যদি আমরা সবাই অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের দিকে একবার তাকাই, তাহলে হয়তো বুঝতে পারব, সমস্যার একটি অংশ আমিও। আর যখন আমি উপলব্ধি করব যে সমস্যার অংশ আমি, তখনই আমি সমাধানের অংশও হতে পারব। আত্মসমালোচনা মানুষকে ছোট করে না; বরং আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।
তাই আজ আমার এই স্বীকারোক্তি কোনো আত্মগ্লানি নয়, কোনো হতাশার ভাষাও নয়। এটি একটি নতুন শুরুর অঙ্গীকার। আমি বলতে চাই-আমি যদি কখনো নীরব থেকে অন্যায়কে শক্তি দিয়ে থাকি, আমি যদি কখনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে থাকি, আমি যদি কখনো সত্য বলার সাহস হারিয়ে থাকি, যদি কখনো নিজের স্বার্থকে সমাজের স্বার্থের ওপরে স্থান দিয়ে থাকি, তবে তার জন্য আমি দায় স্বীকার করছি।
কারণ আমি বিশ্বাস করি, অপরাধ স্বীকার করার মধ্যেই সংশোধনের প্রথম পদক্ষেপ লুকিয়ে থাকে। যে মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে না, সে কখনো পরিবর্তিত হতে পারে না। কিন্তু যে মানুষ নিজের ভুলের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, সে শুধু নিজেকেই নয়, সমাজকেও বদলে দিতে পারে।
তাই আসুন, আমরা আর শুধু বলি না “ওরা অপরাধী।” বরং সাহস করে বলি“আমিও অপরাধী, যদি আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরব থাকি। আমিও অপরাধী, যদি আমি দায়িত্ব পালন না করি। আমিও অপরাধী, যদি আমি সত্য জেনেও মুখ বন্ধ রাখি।”
এই স্বীকারোক্তিই হোক আমাদের নতুন যাত্রার শুরু। এমন একটি সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, যেখানে সততা হবে শক্তি, ন্যায় হবে পথের দিশা, মানবতা হবে পরিচয় এবং দায়িত্ববোধ হবে প্রতিটি নাগরিকের অলংকার।
সেদিন হয়তো আমাদের আর বলতে হবে না“আমিও অপরাধী।” সেদিন আমরা গর্ব করে বলতে পারব“আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি; তাই একটি সুন্দর সমাজ গঠনে আমিও অংশীদার।”
এই সমাজে বাস করে শুধু অন্যের ভুল দেখলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং একজন সচেতন নাগরিকের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় তখনই, যখন তিনি নিজের অবস্থানটিও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করেন। আমরা প্রায়ই বলি”দেশে আইন নেই”, “ন্যায়বিচার নেই”, “দুর্নীতি বেড়ে গেছে”, “মানুষের বিবেক হারিয়ে গেছে”। কিন্তু এসব কথার মাঝেও একটি প্রশ্ন অনুচ্চারিত থেকে যায়, আমি নিজে কি আমার দায়িত্ব পালন করছি?
একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি কেবল সংবিধান, আইন কিংবা প্রশাসনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি তার নাগরিকের চরিত্র। নাগরিক যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়, তবে সবচেয়ে ভালো আইনও কার্যকর হয় না। আবার নাগরিক যদি সৎ ও দায়িত্বশীল হয়, তবে সীমিত সম্পদ নিয়েও একটি দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
আজ আমাদের সমাজে আরেকটি ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যায়, আমরা নৈতিকতার চেয়ে সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেই। যে ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে ধনী হয়েছে, তাকেই সফল মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। তার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করি না। ফলে সমাজে একটি ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, সততার চেয়ে অসততা লাভজনক। এই চিন্তাধারা একটি জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োজন, কিন্তু আইনের চেয়েও বেশি প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। যে সমাজ দুর্নীতিবাজকে সম্মান দেয় না, অসৎ ব্যক্তিকে নেতৃত্বের আসনে বসায় না, অন্যায়কারীর সঙ্গে আপস করে না, সেই সমাজে দুর্নীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। কিন্তু আমরা অনেক সময় উল্টো কাজ করি। অসৎ ব্যক্তির ক্ষমতার কাছে মাথা নত করি, তার অবৈধ অর্থের জৌলুস দেখে মুগ্ধ হই। তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
আমি বিশ্বাস করি, একটি জাতির উন্নয়ন শুধু মাথাপিছু আয় দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয়, যখন একজন সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, যখন একজন সরকারি কর্মকর্তা জনগণের টাকাকে নিজের আমানত মনে করেন, যখন একজন ব্যবসায়ী ভেজালমুক্ত পণ্য বিক্রি করেন, যখন একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই নয়, নৈতিকতাও শেখান, যখন একজন সাংবাদিক সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকেন এবং যখন একজন নাগরিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে কথা বলেন।
আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে একটি করে অন্যায় কমাই, তাহলে সমাজ থেকে লক্ষ লক্ষ অন্যায় কমে যাবে। কারণ সমাজ কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়; সমাজ গড়ে ওঠে ব্যক্তি দিয়ে। ব্যক্তি বদলালে পরিবার বদলায়, পরিবার বদলালে সমাজ বদলায়, সমাজ বদলালেই রাষ্ট্র বদলায়।
তাই আজ আমার এই আত্মস্বীকারোক্তি কোনো পরাজয়ের ভাষা নয়। এটি দায়িত্ববোধের ভাষা। আমি বলতে চাই, যতদিন পর্যন্ত আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরব থাকব, ততদিন পর্যন্ত আমার বিবেক আমাকে নির্দোষ বলবে না। যতদিন পর্যন্ত আমি নিজের দায়িত্বকে অবহেলা করব, ততদিন পর্যন্ত সমাজের অবক্ষয়ের দায় থেকেও আমি মুক্ত নই।
আমাদের প্রয়োজন একটি নৈতিক জাগরণ, যেখানে মানুষ ভয় থেকে নয়, বিবেক থেকে আইন মানবে; শাস্তির ভয়ে নয়, মানবতার টানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। কারণ আইন সব জায়গায় পৌঁছাতে পারে না, কিন্তু বিবেক পৌঁছাতে পারে।
আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ার শপথ নেই যেখানে দুর্নীতিকে ঘৃণা করা হবে, সততাকে সম্মান করা হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরবতা ভাঙা হবে এবং প্রত্যেকে নিজের দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। সেই সমাজে হয়তো অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল হবে না, কিন্তু অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থান হবে সুস্পষ্ট।
আমার এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়, কাউকে অভিযুক্ত করাও নয়। উদ্দেশ্য শুধু, নিজেকে প্রশ্ন করা। কারণ সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর প্রশ্নটি অন্যকে নয়, নিজেকেই করতে হয়।
যেদিন আমরা প্রত্যেকে নিজের হৃদয়ে হাত রেখে বলতে পারব, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আমি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি, আমি নিরব দর্শক হয়ে থাকিনি” সেদিনই একটি নতুন সমাজের সূচনা হবে।
ততদিন পর্যন্ত আমার বিবেক আমাকে মনে করিয়ে দেবে সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের দায়ে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ নই। তাই আজও আমি বলি, আমিও অপরাধী।
তবে এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আশার আলো। কারণ যে মানুষ নিজের দায় স্বীকার করে, সেই মানুষই একদিন পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে পারে। আর যদি কোটি মানুষ একসঙ্গে এই উপলব্ধিতে জেগে ওঠে, তবে কোনো দুর্নীতি, কোনো অন্যায়, কোনো অবিচারই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে না।
একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তখন আর কেবল কল্পনা থাকবে না; তা বাস্তবতার পথে হাঁটতে শুরু করবে। আর সেই পথচলার প্রথম উচ্চারণ হবে ”অন্যের আগে আমি নিজেকে বদলাব”।
লেখক: কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, সভাপতি-রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।
এমএসএম / এমএসএম
আমিও অপরাধী
নিউইয়র্কে চতুর্থ রকল্যান্ড রিট্রিট ও বইমেলা অনুষ্ঠিত
“পাতার টাকা”
“মধুমাস”
“ঝুম ঝুম বৃষ্টি”
“আজ আকাশের মন ভালো নেই”
“নিরামিষ নেকড়ে”
“হৈমন্তীর ফুলসজ্জা”
“ব্যথিত কথামালা”
আমরাই ভবিষ্যৎ যোদ্ধা
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬ উদ্যাপন
তিস্তা নদী