`নজরুল জাতীয় জীবনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা—সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নজরুল একাডেমির সভাপতি মসউদ মান্নান''
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ ও বরণের লক্ষ্যে বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং ‘নজরুল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ কর্নারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্য, গবেষণা, সংগীত, আবৃত্তি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ গুণীজনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নজরুল একাডেমির সভাপতি মসউদ মান্নান। আলোচক ছিলেন মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম কাদের এবং লেখক ও অনুবাদক মাহবুবুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. সন্তোষ ঢালী। স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আরিফ নজরুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী ফারজানা করিম অর্পিতা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মসউদ মান্নান বলেন, নজরুল জাতীয় জীবনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা। তার সাহিত্য শুধু পাঠের বিষয় নয়, তার মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নজরুলচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণাভিত্তিকভাবে আরো বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচক গোলাম কাদের বলেন, নজরুলের সাহিত্য অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর। সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নজরুলের জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলকে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেখক ও অনুবাদক মাহবুবুল হক বলেন, নজরুলের সাহিত্য বহুমাত্রিক। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও অনুবাদসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। তার ভাষা যেমন দ্রোহের, তেমনি প্রেম ও মানবতারও। নজরুলকে কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের পাঠ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন অধ্যাপক ড. রসময় কীর্তনীয়া ও ড. তপন বাগচী।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সন্তোষ ঢালী বলেন, নজরুল বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির এক অনির্বাণ শক্তি। তার সৃষ্টির মধ্যে থাকা মানবিকতা ও সাম্যের দর্শন সব সময়ই প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে নজরুলচর্চা আরো বিস্তৃত করা এবং নতুন লেখক-শিল্পীদের উৎসাহিত করা সাংস্কৃতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আরিফ নজরুল বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুণীজনদের মূল্যায়ন ও সম্মান জানাতে বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ‘নজরুল সাহিত্য পুরস্কার’ সেই প্রয়াসেরই একটি অংশ। গুণীজনদের স্বীকৃতি তাদের সৃষ্টিশীলতাকে আরো উৎসাহিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জনকে ‘নজরুল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়। লোক গবেষণায় শাহ সাইফুল আলম পান্নু, নজরুল গবেষণায় এম. আব্দুল কাইয়ুম, কবিতায় আলী আকবর বাবুল ও মাকসুদা আননাহাল, উপন্যাসে খায়রুন্নেসা রিমি, সঙ্গীতে সৈয়দ সাইফুল্লাহ রুমী, সমাজসেবায় মো. আবুল বাসার, সাহিত্যে নন্দিনী লুইজা, আবৃত্তিতে ফারজানা করিম অর্পিতা এবং কথাসাহিত্যে শাম্মী তুলতুল এ পুরস্কার লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কবি, লেখক, শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
শান্তা / শান্তা
`নজরুল জাতীয় জীবনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা—সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নজরুল একাডেমির সভাপতি মসউদ মান্নান''
‘দুঃখ ভাঙার রূপকথা’ সুলেখা আক্তার সান্তা
‘শরৎ এলো’
‘ঘুরে দাঁড়ানো’
‘ক্ষুধার্থের সমীকরণ’
‘ভাগ’
‘দায়িত্বের বৃক্ষ’ আলিফা তাবাচ্ছুম শিখা
`কিছু স্মৃতি শব্দ চায় না' মুহাম্মদ আকাশ মিয়া
প্রিয় রাসুল ( সা:)
“পাখির বাড়ি” সুলেখা আক্তার শান্তা
“বাইপাস” হিলারী হিটলার আভী
“ইলিশ” প্রদীপ সেন