এস ডি সুব্রত
‘নজরুল বর্ষ: কেবল একটি বর্ষপঞ্জি নয় মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আন্দোলন’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের গর্ব ও প্রেরণার উৎস। তিনি যে শুধু মাত্র বিদ্রোহের বার্তা দিয়েছেন তাই নয়, আমাদের জাতীয় জীবনের অনেক দিক আমাদের আবেগ ও চাওয়া পাওয়া তার লেখায় প্রকাশিত হয়েছে যা বর্তমানে খুবই প্রাসঙ্গিক। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার কবিতা ছিল আমাদের প্রতিদিনের প্রেরণা। একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মিত হয় তার ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং সে জাতির লেখক ও মনীষীদের আদর্শ ও তাঁদের লেখনীর উপর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের এমন একজন মনীষী।
সমগ্র বাঙালি জাতির চেতনাকে যুগে যুগে আলোকিত করেছে। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত সত্যের বজ্রধ্বনি ও বিদ্রোহের যে আগুন তা আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস জোগায় আমাদের। নজরুল বর্তমানের প্রেরণা এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।
নজরুল কেবল বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য কবি নন; তিনি ছিলেন অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক অমিত সাহসের নাম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২ জুলাই ২০২৬ সালে এর বছরব্যাপী কর্মসূচি ও লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব সরকারি দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতা আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নজরুল বর্ষের মূল অনুষ্ঠানমালা ও কর্মপরিকল্পনার প্রধান দিকসমূহের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সময়সূচি হলো - ৩১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন। নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় এবং নজরুলসংগীত ভিত্তিক একক নৃত্য। প্রাথমিক পর্যায় আবৃত্তির বিষয় - ‘ভোর হলো’, ‘খোকার সাধ’, ‘খুকি ও কাঠবিড়ালী’, ‘মোসাহেব’ ও ‘লিচু চোর’। মাধ্যমিক ও কারিগরি পর্যায়: ‘সংকল্প’, ‘কাণ্ডারি’ ইত্যাদি। জেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক গতিপ্রবাহ আরও জোরদার করা হবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও বিদ্রোহী চেতনা ছড়িয়ে দিতে ডকুমেন্টারি ও টিভিসি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যথাযথ মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে সব সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক পত্রে নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের অধীনস্থ অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সব দাপ্তরিক পত্রে নির্ধারিত ‘নজরুল বর্ষ’ লোগো ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে জাতির কর্ম ও চেতনায় সমুজ্জ্বল রাখার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে আরও অর্থবহ ও সমন্বিত করতে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক যোগাযোগে লোগো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক মহিমান্বিত নাম, যিনি কেবল বিদ্রোহের কবি নন, মানবতা, সাম্য, প্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মুক্তচিন্তারও এক অনন্য প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে তার সাহিত্যকর্ম, সংগীত এবং দর্শন কেবল আজ নয়, সবকালে সমভাবে প্রাসঙ্গিক। নজরুলকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরো কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হলে শুধু আনুষ্ঠানিক জন্মজয়ন্তী পালন, সেমিনার, প্রকাশনা, সংগীতায়োজন করলেই হবে না; প্রয়োজন মেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ। এ কারণেই ‘নজরুলবর্ষ ২০২৬-২৭’ আমাদের জন্য একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।
বেতার ও টেলিভিশন দীর্ঘদিন ধরে নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নাটক প্রচারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে এ দায়িত্ব আরো বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতভিত্তিক ধারাবাহিক অনুষ্ঠান, টকশো, প্রামাণ্যচিত্র এবং গবেষণাভিত্তিক অনুষ্ঠান, শিশুতোষ ম্যাগাজিন, নাটক নির্মাণ করা যেতে পারে। তার রচনা, গান ও ছোটগল্প অবলম্বনে নতুন নাটক, টেলিফিল্ম ও চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। নজরুল সংগীতের বিশুদ্ধ পরিবেশনা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অনুশীলন, শ্রম দিয়ে উৎকৃষ্ট প্রযোজনার অনুষ্ঠান প্রচার করা যেতে পারে। বেতার ও টেলিভিশনের আর্কাইভে সংরক্ষিত পুরোনো নজরুলসংগীত ও সাক্ষাৎকার ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করে অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও নজরুল বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র। তার জীবন, সাহিত্য সংগ্রাম, সাংবাদিকতা, সাম্যবাদী চিন্তা এবং সংগীতজীবন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের বায়োপিক নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্ম তার জীবনদর্শনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে নজরুলের গান ও কবিতা নিয়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আসর আয়োজন করলে তৃণমূল পর্যায়ে নজরুলচর্চা বিস্তৃত হবে। অন্যদিকে নজরুল একাডেমি ও জাতীয় কবি নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুল গবেষণার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করা, বিরল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা এবং এতে আন্তর্জাতিক গবেষকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে পারে। নজরুলের ইনস্টিটিউটের অন্যতম দায়িত্ব হলো কবির রচনা, গান, স্বরলিপি, বক্তৃতা ও স্মারকসমূহ সংরক্ষণ এবং গবেষণা কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করা। নজরুলকে কেবল পাঠ্যপুস্তকের কবিতা বা সংগীতচর্চা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কবির সামগ্রিক জীবনদর্শনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করতে হবে। স্কুল পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত প্রতিযোগিতা, দেয়ালপত্রিকা এবং রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। কলেজ পর্যায়ে নজরুল সাহিত্য পাঠচক্র, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সেমিনারের আয়োজন করা প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে। নজরুল গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণায় উৎসাহ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা জরুরি। বাংলা সাহিত্য, সংগীত, গণযোগাযোগ, ইতিহাস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগগুলোতে নজরুলের চিন্তাধারা নিয়ে আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা পরিচালিত হতে পারে। বিশেষ করে তার সাম্যবাদ, নারী অধিকার, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং ঔপনিবেশিক বিরোধী চেতনা নিয়ে গবেষণা বর্তমান বিশ্বেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
প্রতিটি জেলা গ্রন্থাগারে ‘নজরুল কর্নার’ স্থাপন করার প্রয়োজনও রয়েছে। সেখানে কবির রচনাবলি, গবেষণাগ্রন্থ, অডিও-ভিডিও সংগ্রহ এবং ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ করা যেতে পারে। গ্রন্থাগারগুলো নিয়মিত পাঠচক্র, বই আলোচনা এবং কর্মশালার আয়োজন করতে পারে। নতুন পাঠকদের জন্য সহজ ভাষায় নজরুল পরিচিতিমূলক প্রকাশনা প্রকাশ করাও জরুরি। লোকশিল্প জাদুঘরগুলোতে নজরুলের জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা যেতে পারে। তার ব্যবহৃত বস্তু, আলোকচিত্র, গান ও কবিতার ডিজিটাল প্রদর্শন দর্শকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করবে। ভার্চুয়াল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও গ্রহণ করা যেতে পারে, যাতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ নজরুলকে জানতে পারে। নজরুল স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো মেরামত, সম্প্রসারণ, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান কিংবা নজরুল স্মৃতি নিবাস হিসেবে ঘোষণা করাও জরুরি। নজরুলবর্ষকে সফল করতে সর্বস্তরের লেখক, শিল্পী এবং গবেষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লেখকদের নজরুলের জীবন, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, সংগীত ও দর্শন নিয়ে উচ্চমার্গীয় গবেষণা গ্রন্থ এবং প্রবন্ধ রচনা করা জরুরি। শিল্পীরা তার গান, কবিতা ও নাটককে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে। তবে মৌলিক সুর ও ভাবধারার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।
আমাদের যারা গবেষক আছেন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নজরুলের অপ্রকাশিত বা অপেক্ষাকৃত কম পঠিত বা আলোচিত হয়নি এমন রচনা খুঁজে বের করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার সাহিত্যকে পরিচিত করা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও প্রয়োজনে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ কার্যক্রম জোরদার করে বিশ্বপাঠকদের দরবারে ছড়িয়ে দেওয়াও জরুরি। বর্তমানে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতকে ডিজিটাল আর্কাইভে রূপান্তর, অনলাইন কোর্স চালু এবং বিশ্বব্যাপী গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও সময়ের দাবি।
বিভিন্ন দেশের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন দেশে নজরুলচর্চা বিস্তারে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা যেতে পারে। তার সাহিত্য যে মানবমুক্তি, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা বহন করে, তা বৈশ্বিক পরিসরে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। নজরুল নির্মিত চলচ্চিত্র, কবিকণ্ঠের গান ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করে সবার জন্য উম্মুক্ত করাও প্রয়োজন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
নজরুলবর্ষ কেবল একটি স্মারক আয়োজন নয় ।এটি হওয়া উচিত জাতীয় সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের এক মহৎ উদ্যোগ। বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, শিল্পকলা একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, জাদুঘর, লেখক, শিল্পী ও গবেষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নজরুলের আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার যে বাণী নজরুল আমাদের দিয়ে গেছেন, তা সর্বকালে প্রাসঙ্গিক।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় জুম প্ল্যাটফর্ম বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক দর্শন ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তার প্রভাব অপরিসীম।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।’ তিনি বলেন, ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে।’ তিনি কেবল একটি জাতির কবি নন; তিনি সমগ্র মানবতার কবি।
আজকের বিশ্ব যখন হিংসা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ও বিভাজনের নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন আরও অধিক প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির আহ্বান আজও আমাদের বিবেককে আলোড়িত করে। তাই ‘নজরুল বর্ষ’ কেবল একটি বর্ষপঞ্জির নাম নয়, এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আন্দোলন।
নজরুলবর্ষ হোক তার চেতনার জাগরণ এবং একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ের বর্ষ। মানুষের ন্যায়ভিত্তিক বিবেক ও বোধের বিকাশ সাধিত হোক। নজরুল বর্ষের পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মত প্রকাশ করেছেন।
শান্তা / শান্তা
‘নজরুল বর্ষ: কেবল একটি বর্ষপঞ্জি নয় মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আন্দোলন’
`নজরুল জাতীয় জীবনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা—সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নজরুল একাডেমির সভাপতি মসউদ মান্নান''
‘দুঃখ ভাঙার রূপকথা’ সুলেখা আক্তার সান্তা
‘শরৎ এলো’
‘ঘুরে দাঁড়ানো’
‘ক্ষুধার্থের সমীকরণ’
‘ভাগ’
‘দায়িত্বের বৃক্ষ’ আলিফা তাবাচ্ছুম শিখা
`কিছু স্মৃতি শব্দ চায় না' মুহাম্মদ আকাশ মিয়া
প্রিয় রাসুল ( সা:)
“পাখির বাড়ি” সুলেখা আক্তার শান্তা
“বাইপাস” হিলারী হিটলার আভী