ঘড়ি না দেখে নির্ভুল সময় বলে দেন আশুলিয়ার জন্মান্ধ কাঞ্চন
মানুষের জীবনে সময় বড় মূল্যবান। কেউ সময় ধরে এগিয়ে যায়, কেউ সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়। আর কেউ কেউ নিজের কষ্টকেই সময়ের সাথে মিশিয়ে বেঁচে থাকেন নীরবে।
এমনই এক মানুষ কাঞ্চন। জন্ম ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। জন্মের পর থেকেই চোখে দেখেন না তিনি। পৃথিবীর রং, আকাশের নীল, মানুষের মুখের হাসি, কোনো কিছুই কখনও দেখা হয়নি তার। তবু জীবন থেমে থাকেনি। অন্ধকার নিয়েই তিনি শিখেছেন পথ চলতে।
বর্তমানে তার কর্মক্ষেত্র আশুলিয়া ও সাভার এলাকা। প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে চলে তার জীবন। কখনও বাজারের মোড়, কখনও বাসস্ট্যান্ড, কখনও কারখানার সামনে, লাঠি হাতে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান কাঞ্চন। কণ্ঠে থাকে বিনীত আবেদন, আর মনে থাকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
দৃষ্টি নেই, কিন্তু দিক চিনে চলেন তিনি। চোখ নেই, কিন্তু মানুষের পদশব্দ চিনে নেন। আর এই মানুষটির রয়েছে এক বিস্ময়কর ক্ষমতা, ঘড়ি না দেখে সময় বলে দিতে পারেন নির্ভুলভাবে। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। যখন তখন, যেখানে সেখানে তাকে জিজ্ঞেস করুন সময় কত, কয়েক মুহুর্ত থেমে তিনি বলে দেন সঠিক সময়। হাতে ঘড়ি নেই, মোবাইল নেই, দেয়াল ঘড়িও দেখেন না। তবু যেন সময় তার মনের ভেতর কথা বলে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, প্রথমে তারা বিশ্বাস করেননি। পরে পরীক্ষা করে দেখেছেন, কাঞ্চনের বলা সময় অনেক ক্ষেত্রেই মিলে যায় একেবারে হুবহু। কেউ কেউ এটাকে আল্লাহর দান বলেন, কেউ বলেন দীর্ঘ অভ্যাস, আবার কেউ বলেন এটা মানুষের মস্তিষ্কের এক বিস্ময়কর ক্ষমতা।
কিন্তু বিস্ময়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ কষ্টের জীবন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের মতো করে প্রস্তুত হন কাঞ্চন। তারপর বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। রোদ, বৃষ্টি, ধুলা, যানজট, কিছুই থামাতে পারে না তাকে। কারণ দিন শেষে কিছু টাকা না হলে চুলা জ্বলে না। পেটের ক্ষুধা তো অলৌকিক শক্তি মানে না।
অনেক সময় মানুষ তাকে সাহায্য করে। আবার অনেক সময় উপহাসও শুনতে হয়। কেউ সময় জিজ্ঞেস করে মজা নেয়, কেউ তার অন্ধত্বকে তুচ্ছ করে। কিন্তু কাঞ্চন নীরব থাকেন। কারণ জীবন তাকে শিখিয়েছে, সব কষ্টের উত্তর কথায় নয়, সহ্যশক্তিতে দিতে হয়।
একজন জন্মগত অন্ধ মানুষের জন্য প্রতিটি রাস্তা একেকটি যুদ্ধক্ষেত্র। রাস্তা পার হওয়া, যানবাহনের শব্দ বোঝা, মানুষের ভিড় ঠেলে এগোনো, সবই তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবু থেমে নেই কাঞ্চন।
তার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস হয়তো এটাই, তিনি কখনও নিজের মুখ দেখেননি, মায়ের মুখ দেখেননি, সূর্যোদয় দেখেননি। কিন্তু সময়কে তিনি অনুভব করেন। যেন পৃথিবী তাকে চোখের আলো না দিলেও, সময় বোঝার এক অদ্ভুত ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে।
সমাজের চোখে তিনি হয়তো একজন ভিক্ষুক। কিন্তু বাস্তবে তিনি সংগ্রামের আরেক নাম। প্রতিদিন হার না মানা এক মানুষের নাম কাঞ্চন। তার জীবনের গল্প আমাদের শেখায়, দৃষ্টি না থাকলেও মানুষ পথ খুঁজে নিতে পারে। আলো না থাকলেও মানুষ বাঁচার শক্তি খুঁজে নেয়।
কাঞ্চন সময় বলতে পারেন, কিন্তু তার নিজের জীবনের সময় কবে বদলাবে, সেই উত্তর হয়তো আজও অজানা। চোখে আলো নেই, তবু সময়ের হিসাব রাখেন তিনি, আর সমাজ কি রাখছে তার জীবনের হিসাব?
Aminur / Aminur
চন্দনাইশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বার্ষিকী’ উপলক্ষে জামায়াতের গনমিছিল ও আলোচনা সভা
শেরপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ
রাণীনগরে সুনামধন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে বিপাকে শিক্ষার্থীরা
বিলাইছড়িতে বিএফডিসি'র অভিযানে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও জাল আটক
রাজাখালীতে সামাজিক বিপ্লবের উদ্যোগ চারা বিতরণ
ঘড়ি না দেখে নির্ভুল সময় বলে দেন আশুলিয়ার জন্মান্ধ কাঞ্চন
ধামইরহাটে জমিতে গিয়ে বাদি-বিবাদিকে জমি বুঝে দিলেন নওগাঁ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট মোঃ মোনাদিল হক
রৌমারীতে খালের পানি থেকে নারীর লাশ উদ্ধার
সান্তাহারে ভেজাল আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ, কারখানা সিলগালা
যশোরে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ৭ ঘণ্টা পর ফিরলেন অপহৃত নারী
ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন
টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার