ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

এস ডি সুব্রত

রবীন্দ্রনাথের চীন সফর : বিতর্ক ও প্রাপ্তি


চাকরি ডেস্ক photo চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩-৮-২০২৬ রাত ৮:১

নোবেলজয়ী  বাঙালি লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৪ এবং ১৯২৮ সালে দুইবার চীনে ভ্রমন করেছিলেন১৯২৪ সালের প্রথম সফরে তিনি ৪৯দিন  অবস্থান করেনতিনি সাংহাই ভ্রমণ করেন এবং তাঁর বেশিরভাগ সময় পেইপিং-এ কাটান  পেইপিং শহরে তিনি বেশ কয়েকটি প্রকাশ্য বক্তৃতা দেনএই ভ্রমণটিকে রবীন্দ্রনাথ বেশ গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলেই মনে হয়১৯২৪ সালের ১২ এপ্রিল প্রথম চীনের মাটিতে পা রাখেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  এক উত্তাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলপরিবর্তিত  পরিস্থিতিতে একরকম দ্বিধা কাজ করেছিল তাঁর প্রথম বক্তৃতাতেই: আপনাদের ধর্ম এবং প্রথা সম্পর্কে এত বিরোধী মতামতের কথা আমি পড়েছি যে ভাবছিলাম এঁরা আমাকে কিসের জন্য আমন্ত্রণ করেছেন, এঁদের কল্যাণের জন্য কোন্ বাণী বহন করে নিয়ে যাওয়া আমার কর্তব্যরবীন্দ্রনাথ মূলত শুনিয়েছিলেন শান্তির কথা, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের কথা আর দার্শনিক ভাবাবাদের কথাকিন্তু বিনা বিতর্কে তাঁর কথাগুলো চীনে গৃহীত হয়নি সেদিনদেখা  দিয়েছিল  ভীষণ প্রতিক্রিয়াএমনকি প্রতিরোধওপেইপিং বক্তৃতামালার দ্বিতীয় দিনে ছাত্রেরা হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে বিলি করল রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে যেখানে লেখা ছিল --  "আমাদের কৃষি চাষীর ক্ষুধা নিবারণে অক্ষম, আমাদের শিল্প কুটির শিল্প মাত্র, আমাদের নৌকা, আমাদের যান বাহন দিনে কয়েক মাইলের বেশি যেতে অসমর্থ, ... আমাদের পথঘাট আমাদের শৌচাগার, আমাদের রন্ধনশালা পৃথিবীর চোখে হাস্যকরঅথচ রবীন্দ্রনাথ বস্তুসভ্যতার আধিক্যের জন্য আমাদের তিরস্কার করছেনতাই আমরা তাঁর প্রতিবাদ করতে বাধ্যরবীন্দ্রনাথ বলছেন ব্রহ্মের কথা আত্মার মুক্তির কথাএই অকর্মণ্য তত্ত্বের বিরুদ্ধে আমাদের আপত্তি’" বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বক্তৃতা মঞ্চে উপস্থিত তরুণদের মধ্যে সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন তরুণ মাও সে তুংতারা তখন  বিপ্লবী এবং  শ্রেণিসংগ্রামের প্রতি প্রবল বিশ্বাস ছিল তাদের হৃদয় গহীনেরবীন্দ্রনাথ সেই বিশ্বাস ছাড়িয়ে যেতে পারেননিতরুণ বিপ্লবীরা আশঙ্কা করেছিলেন, এটা আয়োজকদেরই ষড়যন্ত্র আর তাদের হয়েই দালালি করছেন রবীন্দ্রনাথ! তারা রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে বলেছিল পরাধীন দেশের দাস ফিরে যাওআমরা দর্শন চাই না, বস্তুবাদ চাইতখন চীনের পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের  বক্তব্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি হয়েছে, সব লেখা রবীন্দ্রনাথের চোখ এড়ায়নিতিনি পড়েছেন, প্রতিক্রিয়া হিসেবে বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত করেছেনএমনকি বক্তৃতা করার সময় প্রবল বিক্ষোভের মুখে বক্তৃতা দানে ইস্তফা প্রদানও করতে হয়েছিল কখনো কখনো১৯২৪ সালের ৮ই মেরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পেইপিং-এ তাঁর ৬৪তম জন্মদিন পালন করেনসেখানে তাঁর বন্ধুরা একত্রিত হয়ে একটি উদযাপনের আয়োজন করেনমূল অনুষ্ঠান ছিল তাঁর নাটক চিত্রা’-র ইংরেজি ভাষায় মঞ্চায়নলিন চ্যাং-মিনের কন্যা মিস লিন হুই-ইং চিত্রার-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেনসেই সফরকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য সবচেয়ে দুঃখের মুহূর্ত ছিল যখন চীনের বামপন্থী যুবকেরা তাঁর বক্তৃতার বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়তারা বক্তৃতা কক্ষগুলোতে প্রচারপত্র বিলি করেছিলরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে কবি সাহিত্যিকদের একটা অংশ উদ্বেল হলেও তরুণ সমাজ তাঁকে কিন্তু সাদরে গ্রহণ করেনিবরং বিভিন্ন শহরে তাঁর বক্তৃতার অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল ক্ষুব্ধ বামপন্থী চীনা তরুণের দলপরবর্তী সময় চীন রবীন্দ্রনাথের প্রথম সফরের সেই অশ্রদ্ধা শুধরে নিয়ে তাঁকে বিপুল সমাদর দেখাতে কার্পণ্য করেনি ১৯২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রবীন্দ্রনাথ চীন সফরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করার পর থেকেই চীনা বুদ্ধিজীবীদের একটা অংশ তার তীব্র বিরোধিতা করতে শুরু করেনতাঁদের যুক্তি ছিল, রবীন্দ্রনাথের কবিতার মোহে অন্ধ হয়ে চীনা যুবসমাজ কঠোর বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেরবীন্দ্রনাথ যে 'প্রাচ্য'-এর ধারণা প্রচার করছিলেন সারা বিশ্বে, তার সঙ্গেও সহমত ছিল না চীনের বহু মানুষকিন্তু ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর থেকেই ইংরেজি অনুবাদে তাঁর সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হন চীনের তরুণ সমাজএবং তার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেই মুগ্ধতার ঘোর কাটেনি চীনের শিক্ষিত সমাজের একটা বড় অংশের  বিরোধীতা ও বিক্ষোভের মধ্যেও বিশ্বকবিকে যাঁরা চীনে বরণ করে নিয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন অ-বামপন্থী শিক্ষাবিদ ও কবি হু শি২০২০ সালের মার্চ মাসে তাঁর একটি পুরোনো লেখা প্রকাশিত হয়েছে তাইওয়ান টুডে পত্রিকায়সেখানে তিনি লিখেছেন, পেইপিং শহরের একটি হলে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা চলাকালীন বিক্ষোভ দেখায় অতিবাম ছাত্ররাসেই ক্ষোভের মুখে বিমর্ষ কবিকে সান্ত্বনা দিয়ে হু শি বলেন, 'ছাত্রদের যেমন প্রতিবাদের স্বাধীনতা আছে, তেমনই আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতাও কেউ কেড়ে নিতে পারবে না' ওই সফরেই চীনা ছাত্রছাত্রীরা তাঁর চিত্রা নাটকটি অভিনয় করে দেখালে মুগ্ধ হয়ে যান কবিবস্তুত, ১৯২৪ সালের সফরের সেই তিক্ততা পরবর্তী সময়ে মনে রাখেনি চীন বা রবীন্দ্রনাথ কেউইবরং শান্তিনিকেতনে ক্রমেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীনা অধ্যাপক ও ছাত্রদের ভূমিকা, চীন ভবনের প্রাসঙ্গিকতারবীন্দ্রনাথের বিপুল জনপ্রিয়তাকে অস্বীকার করে না আজকের প্রবল পরাক্রান্ত চীন সরকারওকবির ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৬ সালে ৩৩ খণ্ডে তাঁর সম্পূর্ণ রচনাবলী চীনা ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেছে চীনআদর্শগত কারণে বামপন্থী চীনা বুদ্ধিজীবী ও ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করলেও তাঁর গুরুত্বকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা তারা দেখায়নিগত শতাব্দীর কুড়ির দশকে চিনের প্রখ্যাত তাত্ত্বিক বামপন্থী গুয়ো মোরুও লিখেছিলেন, 'যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতার মায়াস্বর্গে আমাদের তরুণদের নেশায় আচ্ছন্ন করে দেন, তাঁকে আমরা স্বাগত জানাই নাকিন্তু যে রবীন্দ্রনাথ কৃষকের অধিকারের কথা বলেন, যিনি বলেন, 'একলা চলো রে', সেই রবীন্দ্রনাথকে আমরা দু'হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাতে চাই' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয়বার চীন সফর ছিল ১৯২৮ বা ১৯২৯ সালে১৯১৩ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন রবীন্দ্রনাথতার তিন বছর পর ১৯১৬ সালে জাপান ভ্রমণ করেন এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেভারত থেকে সমুদ্রপথে জাপান যাবার সময় হংকংয়ে যাত্রা বিরতি হয়প্রসঙ্গ জাপান নয়, চীনসেখানে কিছু চীনা শ্রমিকের দেখা পান রবীন্দ্রনাথচীনা শ্রমিকের কাজ করার শৃঙ্খলা ও উদ্যম দেখে তিনি অভিভূত হয়েছিলেনমেদহীন, নিরলসভাবে এভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় নাএ সম্পর্কে তিনি  লিখেছিলেন, “কাজের শক্তি, কাজের নৈপুণ্য এবং কাজের আনন্দকে এমন পুঞ্জীভূতভাবে দেখতে পেয়ে আমি মনে মনে বুঝতে পারলুম, এই বৃহৎ জাতির মধ্যে কতখানি ক্ষমতা সমস্ত দেশজুড়ে সঞ্চিত হচ্ছেচীনের এই শক্তি আছে বলেই আমেরিকা চীনকে ভয় করছে, কাজের উদ্যমে চীনকে সে জিততে পারে না, গায়ের জোরে তাকে ঠেকিয়ে রাখতে চায়রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কেও চীনাদের ধারণা ছিল উচ্চমার্গীয়  সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করার পর তার নাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিলচীন যেহেতু বিশ্বের বাইরে নয়, তাই তার নামখানা চীনেও পৌঁছেছে সগৌরবেইচীনারা, বিশেষ করে চীনা তরুণেরা, তার সম্পর্কে ছিল ব্যাপক আগ্রহীরবীন্দ্রনাথের যেকোনো লেখা হাতে এলেই তারা সেটা গোগ্রাসে গিলতে থাকেতবে ঝামেলাটা হয় ভাষা-গতবাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ বাংলায় সাহিত্য রচনা করতেন তারপর সেটা অনুবাদ হতো ইংরেজিতেইংরেজিতে অনুবাদ হলে সেই ইংরেজি থেকে সেটা অনুবাদ হতো চীনা ভাষায়অর্থাৎ তারা সব সময় মূল অনুবাদটা পেতেন না, তারা পেতেন অনুবাদের অনুবাদএতে করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো না কিংবা হয়নি এমন নয়অনেকক্ষেত্রেই অনেকে ভুল বুঝেছেন, অনেকে আবার ঠিকটা খুঁজে নিয়েছেনকেউ কেউ আবার ইংরেজি অনুবাদ পড়ে সন্তুষ্ট হবার চেষ্টা করেছেনতৎকালীন চীনা তরুণেরা জ্ঞানের অনুসন্ধান এবং চর্চা করতে শুরু করেছেসমন্বয় স্থাপন করেছে জ্ঞানস্পৃহা ও জ্ঞানচর্চার মধ্যেভাববাদের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে তারা তখন বস্তুবাদের ওপর ভর করে আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে বিভোর, কেননা তারা দেশের মানুষের বঞ্চনার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতনএবং সে বঞ্চনা দূর করার দায়িত্ব তরুণদেরইতারা পড়তে শুরু করেছে, লিখছে, যেকোনো বক্তব্য পেলে চলছে সে বক্তব্যের অতি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চলছে যাচাই এবং পরিশেষে গ্রহণ অথবা সরাসরি বর্জনতরুণেরা ১৯২১ সালে গড়ে তুলেছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টিচারিদিকে তখন প্রবল উত্তেজনা; প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে চলছে বিপ্লবের প্রস্তুতিএক বিপ্লবের প্রস্তুতিকালে চীন ভ্রমণ করেন রবীন্দ্রনাথ১৯২৪ সালের ১২ই এপ্রিল৪৯ দিনের এই ভ্রমণের প্রথম সপ্তাহের এক বক্তৃতার সারমর্ম ছিল, “ভাববাদকে ফিরিয়ে আনতে হবে, সে কারণে ধ্বংস করতে হবে বস্তুবাদকেএ কথা চীনের তরুণদের অজানা ছিলনা যে, কবি মাত্রই অবশ্যই একজন দার্শনিকতাই তার বক্তব্যের পেছনে কোন দর্শন নেই এমনটা ভাববার কোন অবকাশই ছিল নাশুরুতেই এমন বক্তব্য দেবার পর স্বাভাবিকভাবেই অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন তিনিচীন ভ্রমণে রবীন্দ্রনাথকে বেশ নাকাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই যেতে হয়েছিলরবীন্দ্রনাথ ছিলেন মূলত বাংলা ভাষার কবি, কিন্তু ভাষা-গত বিশাল পার্থক্যের কারণে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তেমন হয়ে ওঠেনিসমগ্র ভ্রমণে তিনি একবারের বেশি সাহিত্য নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাননি, তাই বার বার ফিরে যেতে হয়েছে মতাদর্শে  রবীন্দ্রনাথ শুধু যে ভাববাদের পক্ষে বলেছেন তা নয়, অনেক বক্তব্যে ভাববাদের বিরোধিতা করেছেন বটে, তবে একইসাথে বস্তুবাদেরও বিরোধিতা করেছেনচীন ভ্রমণের পূর্বে অন্য কোথাও রবীন্দ্রনাথ বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন নয়জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেও তাকে পড়তে হয়েছিল ঝামেলায়সেখানে তিনি তীব্র সমালোচনা করেছিলেন পুঁজিবাদী জাতীয়তাবাদেরজাপানিরাও কবিকে ছেড়ে কথা বলেনিপত্রিকায় লিখেছে, “রবীন্দ্রনাথ পরাজিত ও শৃঙ্খলিত জাতির কণ্ঠস্বর; তাঁকে গুরুত্ব না দিলেও চলবেআমেরিকানরা বলেছে, “রবীন্দ্রনাথের বাণী অসুস্থ ভাবালুতায় আচ্ছন্ন, তিনি মহৎ আমেরিকার যুবসমাজের মনে বিষ ছড়াবার তালে তালে আছেন, তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজনতবে চীন ভ্রমণ বোধহয় ছাপিয়ে গেছে অন্য সব বিড়ম্বনাকেবিরোধটা রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল না, ছিল তার মতাদর্শের প্রতিবক্তব্য চলাকালীন তাকে শুনতে হয়েছে, “পরাধীন দেশের চাকর ফিরে যাওআমরা দর্শন চাই নাচাই বস্তুবাদএতকিছুর পরেও রবীন্দ্রনাথের বাণী বিফলে যায়নি১৯১৬ সালেই তিনি চীন সম্পর্কে আগাম বার্তা প্রদান করেছিলেনবলেছিলেন বিজ্ঞানের সাহায্য যখন চীনাদের কর্মক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হবে তখন অসাধ্যকে সাধ্য করতে পারবে তারাঠিক তার কিছু বছর পরেই চীনে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিলচীন এগিয়ে গিয়েছিল মুক্তির পথেএমনকি এখনো তারা উন্নতির ধারা বজায় রেখেছে১৮৭২ সাল থেকে অর্থনীতিতে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রপ্রায় দেড়শ বছর পর তাদের হটিয়ে ২০১৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে শীর্ষস্থান দখল করে চীনসমাজতন্ত্র বা পুঁজিবাদ প্রশ্নের উত্তরও তারা দিচ্ছে সমান তালেবিগত তিন দশকের মধ্যেই চীনের প্রায় ৮০ কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার উপরে উঠে এসেছেভ্রমণকাহিনী লেখায় রবীন্দ্রনাথের জুড়ি নেই, তবুও চীন ভ্রমণ সম্পর্কে তেমন কিছুই লিখেননি বিশ্বকবিবোধহয় বিরক্তিই ছিল প্রধান কারণতবে এ কারণে রবীন্দ্রনাথের চীন ভ্রমণ ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়নিহারিয়ে যাবেওনা কোনদিন 

 

শান্তা / শান্তা