ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

বিসিবিতে বহাল তবিয়তে পাপনের মদদপুষ্ট দুর্নীতির বরপুত্র প্রধান নির্বাহী সুজন


ওমর ফারুক photo ওমর ফারুক
প্রকাশিত: ৬-৮-২০২৬ দুপুর ৩:৫৯

২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিসিবি সভাপতি পদ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান পাপন। তার পদত্যাগের পর বিসিবির কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দীন চৌধুরী সুজন। ২০১২ সাল থেকে অদ্যাবধি তার স্বাক্ষরেই বিসিবিতে অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। এত অনিয়ম ও দুর্নীতির পরও সুজনের অবস্থান নড়েনি। তাই ক্রিড়াঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে। জোর গুঞ্জন চলছে প্রধান নির্বাহী সুজনের খুঁটির জোর কোথায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে  নাজমুল হাসান পাপন, ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল যুগের অবসান হয়ে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তামিম ইকবাল। এসময়ের মধ্যে ৪ জন সভাপতি পরিবর্তন হলেও  অনিয়ম দুর্নীতির বরপুত্র, স্বৈরাচারের দোসর বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী  সুজন এখনো বীরদর্পে স্বপদে বহাল রয়েছেন । ১৪ বছর ধরে বিসিবি সভাপতিদের মনরক্ষা করে প্রিয়ভাজন হওয়া  সিইও সুজনকে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে  জাতীয় ক্রিড়া পরিষদে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন জামান নামের এক ক্রীড়ামোদি।

২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পেক্ষাপটে দেশে বদলে গেছে অনেক কিছু। বিদায় নিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। দেশ ছেড়েই পালিয়ে গেছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাসহ এমপি ও মন্ত্রীরা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি  সরকার রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বত্র নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছেন। 
দেশজুড়ে এতসব পরিবর্তন হলেও ব্যতিক্রম শুধু বিসিবি। এখানে আজো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে দুর্নীতির বরপুত্র বিসিবির সিইও সুজন।  ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রায় পুরোটা সময় বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের অনিয়ম দুর্নীতির সহযোগী ছিলেন সুজন। সুজনের ক্ষমতার উৎস কি? এ নিয়ে ক্রিড়া সংগঠক, ক্লাব প্রতিনিধি ও ক্রিড়া সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

দীর্ঘদিন ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে বহাল থাকায় নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিসিবির সকল দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারিতে তার স্বাক্ষর বিদ্যমান।
জানা গেছে, ২০১২ সালে বিসিবির তৎকালীন সিইও  মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। এর আগে তিনি বিসিবির মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সিইও হবার পরই তার দুর্নীতিতে হাতেখড়ি শুরু। লোভনীয় পদের মজা পেয়ে তা পাকাপোক্ত করার জন্য তৎকালীন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের আস্থাভাজন হতে, হেন কোন অপকর্ম নেই যা সুজন করেননি। 

পাপনের আশীর্বাদে ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সিইও হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়। পদ পেয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। বিসিবিকে দুধেল গাভীর মতো লুটেপুটে খেয়ে দেশে বিদেশে গড়ে তুলেছেন অগাধ সম্পদের পাহাড়। নিজ নামে, স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের নামে তার বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। যা দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন ক্রিড়া সংশ্লিষ্টরা।

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং বিসিবির  সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন পালিয়ে আত্মরক্ষা পেলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে স্বপদে টিকে আছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন।
 সূত্রে আরো জানা গেছে, অন্তবর্তী সরকারের ক্রিড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ  অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সিইও সুজনকে স্বপদে বহাল রেখেছেন। আসিফ মাহমুদ ও বিসিবির সিইও সুজন মিলেমিশে করেছেন নানা দুর্নীতি। আসিফ মাহমুূদ সিইও সুজনের সাথে সিন্ডিকেট করে অর্থের বিনিময়ে নিজের লোকজনকে অবৈধভাবে বিসিবিতে চাকরি দিয়েছেন। বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সিইও সুজন আসিফের অবৈধভাবে চাকরি দেয়া লোকদের বৈধতা দেন। 

সেসময় আসিফ মাহমুদকে খুশি করতে বিসিবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য ২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল বুলবুল ও সুজন। বিসিবির পিচের মাটি চুরিতেও সুজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে । স্টেডিয়ামের পিচ তৈরির জন্য বিসিবি মোট ২০ হাজার ঘনফুট (CFT) মাটি কিনেছিল। নতুন করে কাজ শুরুর সময় পরিমাপ করে দেখা যায়, সেখানে মাত্র ৭ হাজার ৫'শ ঘনফুট মাটি রয়েছে। বাকি ১২ হাজার ৫'শ থেকে ১৩ হাজার ঘনফুট মাটি উধাও হয়ে গেছে। মাটি লোপাটের কারণে ক্রিকেট বোর্ডের প্রায় ৩৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যার সাথে সরাসরি সুজন জড়িত।

এদিকে লুটপাটের সুবিধার জন্য বিসিবির সিএফও, এইচআর, সিইওসহ অনেকগুলো পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন সুজন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বোর্ডে একক আধিপত্য বিস্তার করে দুর্নীতিবাজ বোর্ড পরিচালকদের সাথে সখ্যতা রেখে অবাধে নানা দুর্নীতি চালিয়ে যান তিনি। সম্প্রতি বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ করলেও দুর্নীতির বরপুত্র ও ফ্যাসিবাদের দোসর প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি সুজন জামাই আদরে স্বপদে বহাল রয়েছেন।
 
বিসিবির শত-শত কর্মীর ব্যবস্থাপনা বিভাগ, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বেতন-ভাতা, ছুটি, শৃঙ্খলা দেখাশোনা করার দায়িত্ব এইচআরের। এ লোভনীয় পদটিও সুজনের দখলে। সিএফও বিসিবির আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। যেখানে বিসিবির হাজার কোটি টাকার হিসাব রয়েছে। সে পদেও কোন লোক নেই। বিসিবিতে তিনটি পদেই লুটের রাজত্ব কায়েম করেছেন সুজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কিছু না বলেই প্রেস কনফারেন্সে বলবেন বলে জানিয়েছেন।

এমএসএম / এমএসএম

শুরু হলো কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল

বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার সমালোচনায় মাতলেন গাভাস্কার

বাংলাদেশকে ১০০-তে ৮০ দিলেন হাসান মাহমুদ

লম্বা সময়ের চুক্তিতে সিটি ছেড়ে টটেনহ্যামে ব্রাজিল ফরোয়ার্ড

১৪৩১ কোটি টাকায় ম্যানচেস্টার সিটিতে মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি

স্টার্কের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল জানালেন শরিফুল

এবার বল হাতে ‘জাদু’ দেখালেন সূর্যবংশী

কাউন্টি খেলা হচ্ছে না শরিফুলের, ডাক পাচ্ছেন খালেদ

তুরস্কের ক্লাবেও লিভারপুলের সতীর্থকে পেলেন সালাহ

চেন্নাইয়ের মালিকানা কিনতে চেয়েছিলেন ধোনি, কিন্তু...

হঠাৎ বাফুফের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত!

নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দুশ্চিন্তায় জাভি

‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের ডাক দিলেন খেলোয়াড়রা