ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

রাতে ঘুম নেই, দিনে কাজ নেই—ফ্রিল্যান্সিং থেকে খামার, সর্বত্র বিপর্যয়


রবিউল ইসলাম রবি,  ধুনট  photo রবিউল ইসলাম রবি, ধুনট
প্রকাশিত: ১১-৮-২০২৬ বিকাল ৫:৪০
রাত ৪টায় বিদ্যুৎ চলে গেছে, ফিরেছে সকাল ১০টায়। কোথাও দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও থাকছে মাত্র ২০–৩০ মিনিট। আবার দিনের বিভিন্ন সময়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার জনজীবন।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং, পোলট্রি খামারসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রায় সব কার্যক্রমেই নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন যাবে—তার কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই।
ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় ২২১টি গ্রামের প্রায় ৯৪ হাজার ১০ জন গ্রাহক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু অনেক সময় সরবরাহ মিলছে এর অর্ধেকেরও কম। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ধুনটে দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি ছিল প্রায় অর্ধেক। এই ঘাটতির চাপই পড়ছে গ্রাহকদের ওপর লোডশেডিং হিসেবে।
‘রাতে বাচ্চা নিয়ে ঘুমাতে পারি না’
কালেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা লিখন মণ্ডল বলেন, ‘রাত ৪টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গিয়ে সকাল ১০টার দিকে এসেছে। প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাসহ বয়স্কদের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।’
চৌকিবাড়ী, মথুরাপুর ও গোপালনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও ২০–৩০ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে। চিকাশী, কালেরপাড়া ও ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নেও একই চিত্র বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে লোডশেডিং ব্যাপক বেড়েছে। ১০ মিনিট কারেন্ট থাকলে এক ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। রাতে সমস্যাটা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এর প্রভাব পরদিনের কর্মজীবনেও পড়ছে।’
বিদ্যুৎ না থাকায় ঝুঁকিতে ফ্রিল্যান্সিং
লোডশেডিংয়ের কারণে মথুরাপুরের প্রায় ২০০ ফ্রিল্যান্সার পড়েছেন বড় বিপাকে। সেখানে ১৫টি আইটি ফার্মের অধীনে তারা কাজ করেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ সময়মতো সরবরাহ করতে পারছেন না অনেকে।
ফ্রিল্যান্সার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিং আমাদের জন্য শুধু ভোগান্তি নয়, সরাসরি আর্থিক ক্ষতির কারণ। সময়মতো কাজ ডেলিভারি দিতে না পারলে বিদেশি ক্লায়েন্ট হারানো, অর্ডার বাতিল ও অর্থ ফেরতের ঝুঁকি থাকে।’
খামারে মরছে মুরগি
লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পোলট্রি খামারেও। চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপী গ্রামের খামারি আবু তালেব বলেন, ‘লোডশেডিংয়ে মুরগি নিয়ে খুব বিপদে আছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি মুরগি মারা গেছে।’
খামারিদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে খামারে প্রয়োজনীয় বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মুরগি অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে।
পড়াশোনা ও ব্যবসায়ও ধস
লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে গ্রামের শিক্ষার্থীরা। অনেক পরিবারের জেনারেটর বা আইপিএস কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাদের।
একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্টুডিও, স্টেশনারি দোকান, রেস্টুরেন্ট, লাইব্রেরি, চালকল ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক কাজই বন্ধ রাখতে হয়; এতে সময় ও আয়—দুটিই নষ্ট হচ্ছে।
অফিসেও ক্ষোভ, জবাব নেই
ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিএম মো. কামাল পাশার কক্ষে বসে থাকা অবস্থাতেই একের পর এক গ্রাহক এসে লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। এতে পরিস্থিতির তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. কামাল পাশা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই কষ্ট শুধু ধুনটে নয়, সারা দেশেই বিদ্যুতের কিছুটা সংকট চলছে। মানুষ ফোন করে, অফিসে এসে তাদের যন্ত্রণার কথা জানাচ্ছে।’
তিনি জানান, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দেশের ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৭১টি বিভিন্ন কারণে অচল রয়েছে। আবার কিছু কেন্দ্র সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করছে। জাতীয় পর্যায়ের এই সংকটের প্রভাব ধুনটের মতো মফস্বল এলাকাতেও পড়েছে বলে জানান তিনি।
‘গ্রামেই কেন বেশি লোডশেডিং?’
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন উপজেলাবাসী। তাদের প্রশ্ন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও পৌর এলাকায় তুলনামূলকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে গ্রামীণ জনপদে কেন বারবার দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হবে?
গ্রাহকদের অভিযোগ, সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা যেন চাপানো হচ্ছে গ্রামের মানুষের ওপর। কখন বিদ্যুৎ যাবে, কখন আসবে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সময়সূচিও নেই। ফলে মানুষ কাজের পরিকল্পনা করতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে না, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
উপজেলাবাসীর দাবি, জাতীয় বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য লোডশেডিং সূচি, গ্রাম-শহরের মধ্যে ন্যায্য বিদ্যুৎ বণ্টন এবং গ্রাহকদের অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লোডশেডিং শুধু জনদুর্ভোগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ধুনটের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এমএসএম / এমএসএম

টাঙ্গাইলে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে রেফারেল পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় ব্লাস্টের নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মোঃ হাসিবুল হাছানের পাশে দাড়ালেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা

বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালের সামনে অগ্নিকান্ড এ্যাম্বুলেন্সসহ ৮ টি মটরসাইকেল পুড়ে ভস্মিভুত

রায়গঞ্জে রাস্তায় সন্তান প্রসব, দুই মিডওয়াইফকে শোকজের পর তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ

রাতে ঘুম নেই, দিনে কাজ নেই—ফ্রিল্যান্সিং থেকে খামার, সর্বত্র বিপর্যয়

নেত্রকোণা মদনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ প্রস্ততিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

বাহেরচর ক্ষুদ্রকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন কমিটি গঠন

ধুনটে দুই প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, ২১ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

বোদায় ১৬ শিক্ষক কর্মচারীর মাদ্রাসায় ৭ পরীক্ষার্থী, পাশ করেছে ১জন

২য় বাংলাদেশ রেমিট্যান্টস’ রিকগনিশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেয়েছেন দাউদকান্দির বাবুল খন্দকার

এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মোহাম্মদ সাইয়েদ হোসেন বাবু

পেকুয়ায় উজানটিয়া যুব উন্নয়ন একতা ক্লাবের কমিটি অনুমোদন

রাজারহাটে সরকারি গুদামের বদলে অটো রাইস মিলে ধান সংগ্রহের অভিযোগ