ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

হামাগুড়ি দিয়ে জুড়ীর মনার এইচএসসি পাশ: উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে দারিদ্র্যই বড় বাঁধা


মনিরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার  photo মনিরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ২১-৮-২০২৬ দুপুর ৩:৩৮

পা দুটো যেনো অচল, বাঁ হাতেও নেই শক্তি। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, হাঁটতেও পারেন না। তাই ডান হাত ও ডান পায়ের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়েই চলাফেরা মনা বেগমের (২০)। প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ এভাবেই পাড়ি দিয়ে বাসে উঠতেন, তারপর যেতেন কলেজে। রোদে পুড়েছেন, বৃষ্টিতে ভিজেছেন, শরীর ভেঙে পড়েছে তবুও থামেনি তার পড়াশোনা। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এবার এইচএসসি পাস করেছেন মনা। এখন তার স্বপ্ন ডিগ্রি পড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করা। কিন্তু পরিবারের অভাব আর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে সেই স্বপ্নই যেনো থমকে যাওয়ার উপক্রম।

মনা মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রত্না চা-বাগানের ফাঁড়ি এলাপুর বাগানের দিনমজুর হারিছ মিয়া ও আমিনা বেগমের মেয়ে। পাশের ফুলতলা ইউনিয়নের শাহ নিমাত্রা সাগরনাল-ফুলতলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ২ দশমিক ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠছেন মনা। বাঁ হাত, বাঁ পা ও কোমরে শক্তি না থাকায় নিজের পায়ে দাঁড়ানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। দৈনন্দিন চলাফেরার জন্য তাকে হামাগুড়ি দিতে হয়। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার শিক্ষার আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রতিদিনই ছিলো তার কঠিন সংগ্রাম। বাড়ি থেকে কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হতো গাড়িতে ওঠার জন্য। কলেজ শেষে ফেরার সময়ও একই পথ পাড়ি দিতে হতো। এতে অনেক সময় শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ত যে শ্বাস নিতে কষ্ট হতো বলে জানান মনা।
বর্তমানে ডিগ্রি (পাস) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু বই কেনা, ভর্তি ও যাতায়াতের খরচ জোগানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের। বাবা ও ছোট ভাই দিনমজুরি করে সংসার চালান। জরাজীর্ণ ঘরে মা-বাবা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে বসবাস তাদের।
মনা বেগম বলেন, জন্ম থেকেই আমি প্রতিবন্ধী। পায়ে হাঁটতে পারি না। হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করি। এভাবেই কষ্ট করে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছি। এখন ডিগ্রিতে ভর্তি হতে চাই। কিন্তু বই কেনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।
যাতায়াতের কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠতে হয়। ফেরার সময়ও একইভাবে আসতে হয়। এতে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় শ্বাস নিতে পারছি না।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মনা বলেন, আমি পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করতে চাই। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে কোনো চাকরি পাচ্ছি না। আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে আমি নিজের খরচ নিজে চালানোর চেষ্টা করবো।
সহজে চলাচলের জন্য একটি অটোরিকশা এবং পরিবারের জন্য একটি ভালো ঘরের আকাঙ্ক্ষাও জানিয়েছেন মনা। তার ভাষ্য, একটি অটোরিকশা থাকলে কলেজে যাতায়াতের কষ্ট অনেকটাই কমতো।
মনার মা আমিনা বেগম বলেন, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটারে ছোট থেকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছি, লেখাপড়া করিয়েছি। এখন অর্থের অভাবে আর পড়াতে পারছি না। মেয়েটার যদি একটা অটোরিকশা থাকত, তাহলে সে নিজে চলাফেরা করতে পারতো।
স্থানীয় বাসিন্দারাও মনার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাতের ওপর ভর দিয়ে মনার চলাচল সত্যিই কষ্টদায়ক। তার চলাচলের জন্য একটি অটোরিকশা থাকলে পড়াশোনাসহ দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হতো।
জুড়ীর সামসুদ্দিন আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন চাষা মনার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মনা আমার বিদ্যালয়ে পড়ার সময় খুব ভালো ছাত্রী ছিলো। লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিলো। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সে অনেক কষ্ট করে হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতো।

এমএসএম / এমএসএম

সিংড়ায় প্রশাসনের অভিযানে ৪ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

উখিয়ায় ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ারসহ ইয়াবা উদ্ধার, অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩

অভয়নগরে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র‌্যালি ও মহড়া

ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

উলিপুরে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

অসুস্থতার কথা বললেন অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন

সাপ্তাহিক দেশজনতার কথার উদ্যোগে 'মধূ শিক্ষা নিকেতনে' মেধাবীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরন

হাটহাজারীতে দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান এসএমপি কমিশনারের

রাজস্থলীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

জয়পুরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

আদমদীঘিতে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

লাকসামে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত