ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

হারিয়ে যাচ্ছে ভাদ্র মাসের তালের পিঠার স্বাদ


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৮-৮-২০২৬ দুপুর ৩:২৪

ষড়ঋতুর বাংলায় এখন চলছে ভাদ্র মাস আর ভাদ্র মাস এলেই শহর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই কদর বাড়ে পাকা তালের। একসময়ে সারাদেশের মতো বারহাট্টার জনপদেও ভাদ্র মাসে প্রচুর পাকা তাল পাওয়া যেতো তখন প্রতিটা ঘরে ঘরে তালে পিঠা বানানোর ধূম পড়ে যেতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে বছরব্যাপী যে পিঠা বানানোর সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তার মধ্যে ভাদ্রে তালের পিঠা বানানো একটি বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। বাংলা লোকসংস্কৃতিতে ভাদ্র মাসের পাকা তালের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের এক গভীর ও সুমধুর সম্পর্ক রয়েছে। ভাদ্র মাসের পাকা তাল নিয়ে গ্রামবাংলায় অনেক জনপ্রিয় লোকসংগীত প্রচলিত রয়েছে। হাসান মতিউর রহমান রচনায়- 'ভাদ্র মাসে তালের পিঠা, কার্তিক মাসে শসা মিঠা।' এছাড়াও ভাদ্র মাসের পাকা তাল নিয়ে গ্রামবাংলায় প্রচলিত অনেক লোকগান বা পল্লিগীতি রয়েছে- 'ভাদ্র মাসে গাছের তলায় ঝইরা পড়ে তাল, পাকা তালের মৌ-মৌ গন্ধে করে যে মাতাল।' ও 'তালের পিঠা বেজায় মিঠা খেতে ভারি মজা' এবং 'ভাদ্র-আশ্বিন মাসের তালের পিঠা, খায় যে রাজা-প্রজা' ইত্যাদি। তাছাড়া ভাদ্র মাসের তালের পিঠা নিয়েও জনপ্রিয় অনেক গ্রাম্য প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে- 'ভাদ্র মাসে তালের পিঠা, খাইতে লাগে জবর (খুব) মিঠা।' ও 'ভাদ্র মাসে গাছে গাছে পাকে দেখো তাল/তোমার সঙ্গে তালের পিঠা খাইনা কতকাল।' গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, ভাদ্র মাসের গরমে তাল পাকে। তাই সহজেই বোঝা যায় ভাদ্র মাসের সঙ্গে তালের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই ভাদ্র মাস থেকেই বাজারে উঠতে থাকে পাকা তাল। যা দিয়ে নানা রকম সুস্বাদু পিঠা বানানো হয়। বাঙালি সংস্কৃতিতে তালের পিঠা একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে এবং ভাদ্র মাস এই ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করার উপযুক্ত সময়।

সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাদ্র মাসের শুরুতেই এলাকার ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি বাজারে মিলছে পাকা তাল। কিন্তু তা অপ্রতুল নয়, দামও বেশি। বাজারে বড় সাইজের তাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মাঝারি ও ছোট সাইজের পাকা তাল আকৃতিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে তালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে ভোজন রসিক বাঙালিদের।

উপজেলা সদরের গড়মা গ্রামের তপন সরকার, নিতাই দাস, সাহতা এলাকার সোজা মিয়া, বাউসী এলাকার জজ মিয়া, ক্ষিতিশ দাসের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে জানান, জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই এখন শাঁসযুক্ত প্রায় সব তাল বিক্রি করে দেয়া হয় তাই পাকা তাল খাওয়ার সুযোগ খুব একটা হয় না। শাঁস ব্যবসায়ীরা পুরো গাছ ধরে ক্রয় করে নিয়ে যায়। এমন এক সময় ছিল তখন আমাদের এলাকায় প্রচুর তাল গাছ ছিল। তখন প্রতিটা গাছেই তাল পাকানো হতো। গাছ থেকে পাকা তাল মাটিতে পড়লে তা কুড়িয়ে একসাথে জমা করে নিজেরাও পিঠা বানিয়ে খেতাম আর কিছু তাল আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে পাঠানো হতো। কিন্তু এখন তালগাছের সংখ্যা কমেগেছে। তাছাড়া বর্তমানে বেশির ভাগ তালের বাগান মালিকরা গাছের তালগুলো কচি অবস্থাতেই বিক্রি করে দেন। তাই বাজারে এখন সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে পাকা তাল পাওয়া যায় না।

কথা হয় গৃহবধূ নন্দিতা সরকার ও সুস্মিতা দত্তের সাথে তারা বলেন, প্রতিবছর আমাদের বাড়িতে তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে খাই। এছাড়াও জন্মাষ্টমী, নন্দোৎসব এবং ভাদ্র মাসের শুক্লা নবমীতে 'তালনবমী' ব্রততে নানা ধরনের তালের পিঠা তৈরি করে করি। কিন্তু আমাদের এলাকায় তাল গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মতো বেশি করে পিঠা বানাতে পারিনা। এমন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তালের পিঠা খাওয়ার স্বাদ ভুলে যেতে হবে।

বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল ও কলেজ) বাংলা সাহিত্য বিষয়ের সহকারি অধ্যাপক ও সাংবাদিক বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে তিনি বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- 'তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/ সব গাছ ছাড়িয়ে/ উঁকি মারে আকাশে।' আর আকাশে উঁকি মারা তালগাছ প্রায় ৬০ ফুটের মতো উঁচু হতে পারে। আর সে কারণেই বহুদূর থেকেও সে গাছ দেখে বলা যায় বলেই কবি খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীনের ছড়ায় লিখেছেন- 'ওই দেখা যায় তালগাছ, ওই আমাদের গাঁ'। সব তালগাছেই যে তাল হবে, তা নয়। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি, 'পুরুষ' গাছে তাল ধরে না- সে গাছ থেকে শুধুই রস পাওয়া যায়। তাল হয় 'মাতরি' ('মাতৃ'র অপভ্রংশ) বা নারী গাছে।

তিনি আরও বলেন, আষাঢ় ও শ্রাবণ এ দুই মাস তাল খাওয়ার চল নেই। এ সময় তাল বড় হতে থাকে। এই বড় হতে থাকার সময় এর স্বাদ তিতা হয়। বর্ষা শেষ হয়ে শরতের প্রথমে ভাদ্রের প্রচণ্ড গরমে তাল পাকতে শুরু করে। মূলত তাল খাওয়া শুরু এ সময়েই। পাকা তাল গাছ থেকে খসে পড়ে। শরতের লিলুয়া বাতাসে পাকা তাল ধুপধাপ খসে পড়লে কাড়াকাড়ি করে তার দখল নেওয়া শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারই বটে। তবে ভাদ্রের তাল কুড়ানো শৈশব আজ শুধুই স্মৃতি। তার আশা, স্ব-উদ্যোগ বেশি বেশি তালগাছ লাগালে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি পল্লী গাঁয়ের ছেলে। গ্রামে আমার জন্ম, গ্রামেই কেটেছে আমার দুরন্ত শৈশব। একসময়ে আমাদের গ্রামে প্রচুর তালগাছ দেখা যেত। ভাদ্র মাস এলেই প্রতিটি ঘরে ঘরে তাল পিঠা বানানোর উৎসব চলতো। সারারাত ধরে তৈরি পিঠা বানিয়ে ভোরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়ার আনন্দ ছিল ভিন্ন মাত্রার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তালগাছ কমেগেছে, সেইসঙ্গে ম্লান হয়েছে ঐতিহ্যও। এখন আর তেমনভাবে চোখে পড়ে না তাল কুড়ানো, পিঠা বানানো ও তা বিলানোর দৃশ্য।

এমএসএম / এমএসএম

আদমদীঘিতে জমিতে ধান গাছ বিনষ্ট করার অভিযোগ

মোহনগঞ্জে ডিঙ্গাপোতা হাওরে কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধের দুই হাজার ব্লক লুট

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ

বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলি: অস্ত্রসহ আটক এক

পাঁচবিবিতে ২শ পিস ট্যাপেন্টাডল সহ যুবক আটক

সুনামগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্যসহ আটক-২

মাছ ধরতে ১ লাখ টাকা চাঁদা, ফের দাবি ২ লাখ: খালিয়াজুরীতে জেলেদের হয়রানির অভিযোগ

নতুন কমিটির উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মিরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের চিত্র

রেড ক্রিসেন্ট কুড়িগ্রাম ইউনিটের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত শামসুল-মোস্তফা প্যানেলের জয়

হারিয়ে যাচ্ছে ভাদ্র মাসের তালের পিঠার স্বাদ

ভূরুঙ্গামারীতে বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি শিপন ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার

টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের সরকারি বিভিন্ন মালামাল বিক্রির অভিযোগ

বড়লেখা সীমান্তে অস্র,গুলিসহ ভারতীয় নাগরিক আটক