খালিয়াজুরীতে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ, ফতুয়া গ্রামে মাদকবিরোধী সভা
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষা এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের ফতুয়া গ্রামে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ফতুয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে গ্রামের সচেতন মহলের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে পরিবার ও সমাজে অপরাধ, অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া, হাতিলা, বল্লী, ফতুয়া ও রানীচাপুরসহ কয়েকটি গ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফতুয়া গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তরুণদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকসংক্রান্ত তথ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ফতুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “গ্রামে কয়েকজন মাদকের ডিলার রয়েছে বলে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে একজন গ্রামবাসী হিসেবে নিজেকে অসহায় মনে হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই গ্রামের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সামাজিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাদের কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা বা সেবনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সম্মিলিতভাবে পুলিশকে জানানো হবে।
গ্রামের তরুণ মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, “মাদক প্রতিরোধে গ্রামের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের গ্রামে কেউ মাদক বিক্রি বা সেবন করলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে যাতে গ্রামে মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে। যারা মাদক বিক্রি, সেবন কিংবা মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও গ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুখলেছ মিয়া বলেন, “চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া, হারারকান্দি, রানীচাপুর ও ফতুয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে ফতুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক বিক্রি ও সেবন—দুটিকেই আমরা অপরাধ হিসেবে দেখছি।”
তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে ফতুয়া গ্রামের তিনটি মহল্লায় ১০ সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় তদারকি করবে। কারও বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি বা সেবনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি তিন মহল্লার সমন্বয়ে গঠিত আরও একটি ১০ সদস্যের কমিটিকে জানানো হবে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হবে। গত ২৪ আগস্ট ফতুয়া গ্রামের মতি মিয়া ও কাজলকে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ফতুয়া গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। হাওরাঞ্চলের অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, “খালিয়াজুরী থানার আওতাধীন প্রতিটি এলাকায় মাদক বিস্তার রোধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামবাসী এমন কোনো কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে নিজেরা আইন হাতে না তুলে পুলিশকে জানালে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে। মাদক প্রতিরোধে জনগণের এমন সামাজিক উদ্যোগকে পুলিশ সবসময় সহযোগিতা করবে।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জান বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে এর সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও অন্যান্য অপরাধও বাড়তে পারে।
ফতুয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে গ্রামের মানুষের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। কারও বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।”
ইউএনও আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এর কুফল নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা, কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
এমএসএম / এমএসএম
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ
নির্মাণসামগ্রীর চড়া দামে স্থবির উন্নয়নকাজ
দুদকের মামলায় টেকনাফের আব্দুর রহিমের ৩ বছরের কারাদণ্ড
পঞ্চগড় পৌরসভায় ২৭টি ডাস্টবিন বিতরণ
কুড়িগ্রামে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
টুঙ্গিপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান, গাঁজা-ইয়াবা সেবনে দুজনের কারাদণ্ড
২৬ মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামী চকরিয়ার নবীর হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার
মনপুরা লঞ্চঘাটে পুলিশের অভিযান, ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দুই যুবক
যশোর দশমহাবিদ্যা মন্দিরে ইসকনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ: নিয়ামতপুরের এসিল্যান্ড রেজাউল করিমকে প্রত্যাহার
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে জন্ম থেকেই ১৩ বছর বয়স জুয়েলের হার্টে ছিদ্র-চিকিৎসার অভাবে থমকে আছে জীবন
খালিয়াজুরীর হত্যা মামলায় দুই আসামি ময়মনসিংহে আটক