ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

খালিয়াজুরীতে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ, ফতুয়া গ্রামে মাদকবিরোধী সভা


মৃণাল কান্তি দেব, খালিয়াজুরী photo মৃণাল কান্তি দেব, খালিয়াজুরী
প্রকাশিত: ৩১-৮-২০২৬ দুপুর ৪:৫

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষা এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের ফতুয়া গ্রামে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ফতুয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে গ্রামের সচেতন মহলের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে পরিবার ও সমাজে অপরাধ, অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া, হাতিলা, বল্লী, ফতুয়া ও রানীচাপুরসহ কয়েকটি গ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফতুয়া গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তরুণদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকসংক্রান্ত তথ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ফতুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “গ্রামে কয়েকজন মাদকের ডিলার রয়েছে বলে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে একজন গ্রামবাসী হিসেবে নিজেকে অসহায় মনে হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই গ্রামের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সামাজিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাদের কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা বা সেবনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সম্মিলিতভাবে পুলিশকে জানানো হবে।

গ্রামের তরুণ মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, “মাদক প্রতিরোধে গ্রামের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের গ্রামে কেউ মাদক বিক্রি বা সেবন করলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে যাতে গ্রামে মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে। যারা মাদক বিক্রি, সেবন কিংবা মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও গ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুখলেছ মিয়া বলেন, “চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া, হারারকান্দি, রানীচাপুর ও ফতুয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে ফতুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক বিক্রি ও সেবন—দুটিকেই আমরা অপরাধ হিসেবে দেখছি।”
তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে ফতুয়া গ্রামের তিনটি মহল্লায় ১০ সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় তদারকি করবে। কারও বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি বা সেবনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি তিন মহল্লার সমন্বয়ে গঠিত আরও একটি ১০ সদস্যের কমিটিকে জানানো হবে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হবে। গত ২৪ আগস্ট ফতুয়া গ্রামের মতি মিয়া ও কাজলকে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ফতুয়া গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। হাওরাঞ্চলের অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, “খালিয়াজুরী থানার আওতাধীন প্রতিটি এলাকায় মাদক বিস্তার রোধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামবাসী এমন কোনো কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে নিজেরা আইন হাতে না তুলে পুলিশকে জানালে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে। মাদক প্রতিরোধে জনগণের এমন সামাজিক উদ্যোগকে পুলিশ সবসময় সহযোগিতা করবে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জান বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে এর সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও অন্যান্য অপরাধও বাড়তে পারে।
ফতুয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে গ্রামের মানুষের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। কারও বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।”
ইউএনও আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এর কুফল নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা, কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

এমএসএম / এমএসএম

পটুয়াখালীতে ১ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার মামলায় শামীমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

রাণীনগরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

তারাগঞ্জে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

বাকেরগঞ্জে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

২০ বছর ধরে অকেজো সুইচ গেইট

বাবুগঞ্জে স্কুলের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭ ল্যাপটপ চুরি, ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সন্দেহের তীর নৈশ প্রহরীর দিকে

বড়লেখায় অশ্রু সিক্ত জলে অবসরে গেলেন শিপ্রা রানী সেন

বিলাইছড়িতে সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন

কসমেটিকস বিক্রিতে অনিয়ম, যোগ্যতা ছাড়াই ত্বক নিয়ে পরামর্শ : জরিমানা ৫০ হাজার

পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

ঠাকুরগাঁওয়ের চার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাত্র একজনই উপসহকারী মেডিকেল অফিসার : ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা