ঢাকা রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আলফাডাঙ্গায় পিআইও'র বিরুদ্ধে প্রকল্পের কাজের নানা অভিযোগ


শাহিদুল ইসলাম, আলফাডাঙ্গা photo শাহিদুল ইসলাম, আলফাডাঙ্গা
প্রকাশিত: ৬-৯-২০২৬ দুপুর ৪:৪০

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাগর হোসেন সৈকতকে ঘিরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, কাজের মান, তদারকি, প্রকল্পের সাইনবোর্ডে তথ্যের ঘাটতি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের উৎস নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমাণ কম হওয়ার অভিযোগ, কোথাও সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা ধসে পড়ার অভিযোগ, আবার কোথাও প্রকল্পের সাইনবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটিকেই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না। প্রকল্পগুলোর অনুমোদনপত্র, বরাদ্দ, মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, পরিদর্শন প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন।

আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়া গ্রামের উত্তরপাড়ায় মো. নজরুলের বাড়ি থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত ইটের রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পের সাইনবোর্ড অনুযায়ী, এটি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্প নম্বর-১৪। বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫১২ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ মহিলা সংরক্ষিত সদস্য কোহিনূর বেগম।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ কয়েকজনের অভিযোগ, পুরো কাজে এক হাজারের কিছু বেশি ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মাটি ভরাটের কাজও নামমাত্র করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
তাঁদের অভিযোগ, রাস্তার অভিমুখে ভাঙন ঠেকাতে পর্যাপ্ত মাটি দেওয়া হয়নি। ফলে সংস্কারের দেড় মাসের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাজের পরিমাণ ও মানের সঙ্গে বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮০ হাজার ৫১২ টাকার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ৯ নং পাড়া গ্রাম উত্তরপাড়া পাড়া গ্রাম মোঃ নজরুলের এর বাড়ি থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত ইটের রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন এর কাজের অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা পিআই ও কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত এর কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক আমাদের সময় এর উপজেলা সংবাদদাতাদের উপস্থিতিতে বলেন দৈনিক ইনকিলাব এর উপজেলা প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে বলেন আপনি মানুষের কথা বলেন কেন আপনি আপনার কথা বলেন।আপনি দেখেছেন আপনি ভাল ভাবে দেখে আসেন ওইখানে যান যে ওইখানে কি কাজ হয়েছে সেগুলো ভালোভাবে দেখে আমার কাছে জানতে চাইবেন। যে বা যারা আপনার কাছে অভিযোগ করেছেন তাদের কাছে একটি লিখিত নেন কারণ যখন একটি কনপ্লিকে যাবে সে কে যে অভিযোগ করে সেটাতো আমার জানার দরকার।সেকি চাঁদা চেয়ে পায় নাই নাকি সে সুবিধা চেয়ে পায় নাই এর জন্য আপনাকে ডাকতেছে অথবা আপেল মিয়াকে এর জন্য ডাকে।এ বিষয়ে আপেল সাহেব ও ২ থেকে একজন এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে এসেছে তাকে আমার যেটা বলার সেটা আমি বলে দিয়েছি।আপনার যদি কোন ইনকয়ারি থাকে ওখানে কাজ এক লক্ষ আশি হাজার টাকার ওখানে কি কি কাজ হয়েছে instrumental সবকিছু রয়েছে।
চরডাঙ্গাকিন্তু যে সাধারণ মানুষ আপনাকে ফোন দিয়ে বলতেছে কিন্তু তারা কেন কাজ চলাকালীন সময় আপনাদেরকে বলে নাই এখন কেন বলছে তাদের উদ্দেশ্যটা কি এখন আপনি আমার কাছে জবাবদিহিতা চাচ্ছেন সেটা আমি আপনাকে দিতে বাধ্য নই সেটা আমি আমার কর্তৃপক্ষকে দিতে পারি আমি আপনাকে কোন তথ্য দিব না। ওই যে অভিযোগ দিচ্ছে আমি তাদেরকেও কোন তথ্য দিব না।পরবর্তীতে সাংবাদিকদের অপমানের সরে বলেন আপনি যদি মনে করেন এ বিষয়ে লিখতে চান আপনি সুন্দর করে পেপারে লিখবেন আমার মানে পেপারে অনেক দিন কিছু আসে না আমার ইচ্ছা ভালো একটা পেপারে আমার বিষয়ে নিউজ আসুক এটা আমার ইচ্ছা আমি পাচ্ছি না।
অন্যদিকে সংস্কারের দুই মাসেই রাস্তা ধসে পড়ার অভিযোগ রয়েছে আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা চড় গ্রামেও সরকারি রাস্তা সংস্কার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে সংস্কার করা রাস্তার বিভিন্ন অংশ আবার ধসে পড়েছে। এর আগেও রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষা এলেই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ তাঁদের।
সরেজমিনে রাস্তার কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
এ প্রকল্পের সাইনবোর্ড নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো প্রকল্পের তথ্যের ওপর নতুন স্টিকার লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন স্টিকারটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অংশও ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের বিবরণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামে একটি কালভার্ট নির্মাণের কয়েকদিন এর মাথায় তীব্র ফাটল দেখা দিয়ে পরবর্তীতেই মধ্যবর্তী স্থানভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে সংস্কার না করে অন্য একটি প্রকল্প কাজের সময় মাটি দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পিআইসি সভাপতি জেসমিন নাহারের বক্তব্যেও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নারী হওয়ায় সব সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ তদারকি করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। পানির কারণেও তদারকিতে সমস্যা হয়েছিল বলে জানান তিনি।পরবর্তীতে উপজেলা থেকে পিআইও সাগর হোসেন সৈকতসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছিলেন বলেও জানান তিনি।
কাজের অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেসমিন নাহার বলেন, “আমি অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করতে পারি না কেননা যেটা হয়েছে সেটা তো মানুষ দেখছে।”
এ বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কতটা ছিল এবং কাজের গুণগত মান যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।

গোপালপুর ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামের ‘পানু মিয়ার বাড়ি থেকে অভিমুখী ইটের রাস্তা ও মাটি কাটা’ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পের সাইনবোর্ড অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এ প্রকল্পে ৪.৩০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র দুই-তিন দিন নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প শেষ করা হয়েছে। অল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে সামান্য ইট ব্যবহার এবং অল্প মাটি কাটার পর কাজ শেষ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এ ছাড়া প্রকল্পের সাইনবোর্ডটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। 

এদিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়িত একাধিক প্রকল্পের সাইনবোর্ড পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব সাইনবোর্ডে প্রকল্পের নাম উল্লেখ থাকলেও প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতির নাম, কাজ শুরুর তারিখ এবং কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ উল্লেখ নেই।
ফলে একটি প্রকল্পে সরকার কত টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা পিআইসি সভাপতির নাম কী, কখন কাজ শুরু হয়েছে এবং কখন কাজ শেষ হওয়ার কথা এসব মৌলিক তথ্য সাধারণ মানুষের পক্ষে সাইনবোর্ড দেখে জানা সম্ভব হচ্ছে না।
গোপালপুর ইউনিয়নের চান্দড়া শরিফুল সরদারের বাড়ি থেকে নবীর কাজীরবাড়ির অভিমুখে মাটির রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের সাইনবোর্ডে বরাদ্দের খাত হিসেবে ৪.৩০০ মেট্রিক টন লেখা থাকলেও সেটা চাল গম তা লেখা নেই । অর্থবছর ২০২৫-২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। তবে বরাদ্দের বরাদ্দের পরিমাণ এবং কাজ শুরুর ও শেষের তারিখ উল্লেখ নেই বলে দেখা গেছে।
অন্যদিকে ‘দিকনগর বাজার সংলগ্ন পাকা বেঞ্চ নির্মাণ’ প্রকল্পের সাইনবোর্ডেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেঞ্চটি গোপালপুর ইউনিয়নের বায়তুর রহমান জামে মসজিদের সামনে স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ‘দিকনগর বাজার’ নামে কোনো বাজারের অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ডে যদি বরাদ্দ, পিআইসি সভাপতি এবং কাজের শুরু ও শেষের তারিখই উল্লেখ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করবেন?
তাঁদের দাবি, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে আলফাডাঙ্গায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সাইনবোর্ড, বরাদ্দ, পিআইসি, মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হোক।
ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন
এর মধ্যে পিআইও সাগর হোসেন সৈকতের ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন ডিটেইলস রিপোর্টে ঢাকা মেট্রো-গা-৪৩-০৭৬৮ নম্বরের গাড়িটির নিবন্ধন তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ উল্লেখ রয়েছে। গাড়িটি ২০১৬ সালের তৈরি, ১৫০০ সিসি এবং পাঁচ আসনবিশিষ্ট। মালিকানার ধরন হিসেবে ‘PRIVATE’ উল্লেখ রয়েছে।
মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সাগর হোসেন সৈকতের নামও পাওয়া গেছে বলে প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালক দাবি করেছেন, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে গাড়িটি চালিয়ে আসছেন।
তবে এ বিষয়ে সাগর হোসেন সৈকতের বক্তব্য, গাড়িটি তাঁর নয়।
তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে বিআরটিএর পাওয়া তথ্যের পার্থক্য থাকায় গাড়িটির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং তিনি কোন ভিত্তিতে গাড়িটি ব্যবহার করছেন—এসব বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাগর হোসেন সৈকতকে ঘিরে আলফাডাঙ্গায় ওঠা বর্তমান অভিযোগগুলোর বাইরে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল খুলনার কয়রা উপজেলায় থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে কয়রা উপজেলায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির উপকারভোগীদের মজুরির টাকা নিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দৈনিক দেশ রূপান্তর ও জাগো নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জাগো নিউজের ১৮ জানুয়ারি ২০২১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়রা উপজেলার ২ হাজার ৫৩৩ জন উপকারভোগীর আট দিনের মজুরির ৪০ লাখ ৫২ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ ৩১ দিনে শেষ করার অভিযোগ করেন শ্রমিকরা এবং ‘নন-ওয়েজ’ ফান্ডের অর্থ ব্যয় না করার অভিযোগও ছিল।তৎকালীন পিআইও সাগর হোসেন সৈকত প্রতিবেদনে দাবি করেছিলেন, প্রকল্পে ৩৯ দিন কাজ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, কয়রায় নতুন যোগদানের পর অনেক কিছু বুঝতে তাঁর কিছুটা সময় লাগছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল হবে না বলে আশা করেছিলেন।প্রতিবেদনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাসের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়। তিনি জানিয়েছিলেন, পিআইওর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল এবং তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল।তবে ওই সংবাদ প্রতিবেদনকে চূড়ান্তভাবে আত্মসাৎ প্রমাণিত হয়েছে । পরবর্তীতে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, মামলা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, তা সরকারি নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত ২ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্রকল্পের প্রতিবেদনেও সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য
সবশেষে, এর আগে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের একটি কাবিটা প্রকল্পের অনিয়ম প্রতিবেদনের বিষয়টিও সামনে আসে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ের ওই প্রকল্পে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১৪ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এস এম ওয়াহিদুজ্জামান।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমাণ খুবই কম। রাস্তার প্রবেশমুখে মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার ইট ব্যবহার, পুরোনো ইটের ওপর সামান্য বালু দেওয়া এবং রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া প্রবেশমুখ থেকে উঠানো পুরোনো ইট বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছিল।
তবে পিআইও সাগর হোসেন সৈকত তখন বলেছিলেন, কাজটি এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং কাজের মধ্যে কিছু এলোমেলো থাকায় বিল দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেছিলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করবেন এবং কাজ সন্তোষজনক হলে তবেই বিল দেওয়া হবে।সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা শতভাগ সব জায়গার কাজ সবসময় পর্যবেক্ষণ করতে পারি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনেক সময় অনিয়মের বিষয়গুলো আমাদের নজরে আসে।”
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের এ ধরনের বিষয় সামনে আনার জন্য ধন্যবাদও জানান।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মানুষের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সমাজে অনেক সময় মানুষ মেম্বার বা চেয়ারম্যানদের দোষ বেশি দেয়।”
এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্ন মাঠপর্যায়ে কোনো সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম বা অসঙ্গতি চোখে পড়লে তা তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্বের অংশ। কোনো সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে যদি কর্তৃপক্ষের নজরে অনিয়ম আসে, তাহলে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরাই কি

তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, আলফাডাঙ্গায় সাগর হোসেন সৈকতের দায়িত্ব পালনকালে যেসব প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর প্রতিটির বরাদ্দপত্র, প্রকল্প অনুমোদন, পিআইসি গঠন, মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং বিল পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হোক।
একই সঙ্গে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর সাইনবোর্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য কেন নেই, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।গাড়ির মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং পুরোনো কর্মস্থল কয়রার ৪০ লাখ টাকার অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, তা অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তা পরিষ্কারভাবে জানার অধিকার রয়েছে। আর এই দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও নথিভিত্তিক জবাবদিহিতা।

এমএসএম / এমএসএম

সান্তাহারে স্টেশনের পাশে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

রাণীশংকৈলে ১২৭৫ পিস ট্যাপেনটাডলসহ গ্রেপ্তার- ২ পলাতক-১

দুমকিতে যুবদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

মান্দায় ১৮ লাখ টাকার কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, হেলে পড়ছে দেয়াল

রায়গঞ্জে সার বিক্রিতে অনিয়মে ৬ সাব ডিলারের বরাদ্দ বন্ধ ঘোষণা

মাদকাসক্ত যুবকের দেওয়া আগুনে পুড়ে এক রাতেই নিঃস্ব বহু পরিবার, যুবক গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে ৫৩ বিজিবির উদ্যোগে ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ

পরকীয়া সন্দেহে স্বামীর ‘নির্যাতনে’ স্ত্রীর মৃত্যু, দুই শিশুর মা হারানোর করুন আর্তিনাদ

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, জরিমানার পরও থামেনি বালু ব্যবসা

কাউনিয়ায় বিএনপির র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল, মুখরিত রাজপথ

ইছামতিতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান

মনপুরায় বরফ সংকটে মেঘনার ১৪ কেজি ওজনের পঁচা কোরাল সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি

মঠবাড়িয়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দেখিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ