ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রায়পুরে অননুমোদিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের রমরমা বাণিজ্য


নাঈম হোসেন (রায়পুর) photo নাঈম হোসেন (রায়পুর)
প্রকাশিত: ৮-৯-২০২৬ দুপুর ১:৯

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হায়দরগঞ্জ বাজারের বাংলা বাজার এলাকায় ‘গ্রিন লাইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’', আমানউল্লাহ আনোয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল কলেজ ফাউন্ডেশন’, হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনের ‘নগর ক্লিনিক’,   উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে বাড়িতে  অননুমোদিত ক্লিনিক পরিচালনা করে গাইনি, প্রসূতি, মা ও শিশু রোগের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে সত্যতা পেলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ভূয়া চিকিৎসক সিনথিয়া দীনার বিরুদ্ধে।  এছাড়াও ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন খাশেরহাট বাজার প্রবেশ পথে মালতীয়া ফার্মেসী,  জিলানী ফার্মেসী এন্ড ড্রাগ হাউজের মালিক  ডিএমএফ সনদ দেখিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা।এছাড়াও  চিকিৎসাসেবার নামে বেনামে গড়ে উঠেছে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্যক্তিগত চেম্বার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কোথাও সাইনবোর্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার দীর্ঘ তালিকা, কোথাও আধুনিক প্যাথলজি ও ইমেজিং সুবিধার প্রচার কিন্তু বাস্তবে প্রয়োজনীয় জনবল, দক্ষ টেকনিশিয়ান ও অনুমোদন আছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে জনমনে নানা প্রশ্ন।

উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসার রমরমা বাণিজ্য।

হায়দারগঞ্জে  ‘গ্রিন লাইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডার এটিএম রাকিবুল ইসলাম নিজেই জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন তবে বর্তমানে কোন বৈধ কাগজপত্র হাতে নেই।

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক সহকারী জেসমিন আক্তারের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। তিনি জানান, প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে কাজ করছেন এবং চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে রোগীদের টিকিট লেখেন। তাঁর দাবি, আগের দিনও সেখানে রোগীর ভিড় ছিল এবং দুজন চিকিৎসক রোগী দেখেছেন।

প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত সুমন জানান, তিনি প্রায় এক মাস ধরে সেখানে আছেন। তবে প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন থাকলে তার আগেই রোগী দেখা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম কীভাবে চলছে? এই অনিয়মের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনভাবে যোগসাজশ নয় কী?

‘আমানউল্লাহ আনোয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল কলেজ ফাউন্ডেশন’। প্রচারপত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘এস-১৪৭৬৬/২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে এবং ঠিকানা দেওয়া হয়েছে হায়দরগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর।

প্রচারপত্রে ‘অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ’, ‘আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডায়াগনস্টিক সেন্টার’, ‘নির্ভুল ও দ্রুত রিপোর্ট’, ‘দক্ষ নার্সিং সেবা’সহ নানা ধরনের সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্যাথলজি বিভাগে CBC, ESR, Hb%, রক্তের সুগার, লিপিড প্রোফাইল, লিভার ও কিডনি ফাংশন, থাইরয়েড, ইউরিন-স্টুল, হরমোন, সেরোলজি-ইমিউনোলজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। ইমেজিং ও কার্ডিয়াক বিভাগে ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ECG এবং সুবিধা চালু সাপেক্ষে ইকোকার্ডিওগ্রামের কথাও প্রচার করা হয়েছে।

তবে এই প্রচারপত্রে উল্লেখিত রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি কোন কর্তৃপক্ষের এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকলেই ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অনুমোদন প্রমাণিত হয় কী প্রশ্ন অভিযোগকারীদের?

হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনের ‘নগর ক্লিনিক’ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। সেখানে রোগী দেখা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

রায়পুরে অননুমোদিত চিকিৎসাসেবার অভিযোগের আরেকটি আলোচিত ঘটনা সিনথিয়া দীনাকে ঘিরে। উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে একটি অননুমোদিত ক্লিনিক পরিচালনা করে গাইনি, প্রসূতি, মা ও শিশু রোগের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর ক্লিনিকের সাইনবোর্ডে গর্ভকালীন চিকিৎসা, নরমাল ডেলিভারি, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা, ক্যাথেটার স্থাপন, সিজারের সেলাই কাটা, অক্সিজেন সেবা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার কথা উল্লেখ ছিল। অভিযোগের পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তদন্তে তিনি ডিএমএফ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সাইনবোর্ডে ‘চিকিৎসক’ পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি পাওয়া গেছে। কমিটি বিএমডিসির নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা। বরং এখনো ২ নং উত্তর চরবংশি খাশেরহাট  বাজার খলিফা ফার্মেসীতে বসে সেই ভূয়া চিকিৎসক সিনথিয়া দীনা দিব্যি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

এ ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু সাইনবোর্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার কথা লেখা থাকলেই কোনো ব্যক্তি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে যান না।

এছাড়াও ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন খাশেরহাট বাজারে মালতিয়া ফার্মেসি,  জিলানী ফার্মেসী  সহ একাধিক এমন ফার্মেসী রয়েছে যেখানে ফার্মেসীর মালিক নিজেরাই ভূয়া চিকিৎসক সেজে  রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবার নামে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার করছেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান না থাকলেও প্যাথলজি, ECG কিংবা অন্যান্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। কেউ কেউ নিজেদের মতো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাই রায়পুরের সচেতন নাগরিকদের দাবি, হায়দরগঞ্জসহ পুরো উপজেলার সব বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহ সকল ফার্মেসীতে  একযোগে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স, চিকিৎসকের BMDC নিবন্ধন, নার্স ও টেকনিশিয়ানের যোগ্যতা, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যাচাই করা হোক।

স্থানীয়দের প্রশ্ন কোন প্রতিষ্ঠান বৈধ, কোনটি অবৈধ, কোথায় নিবন্ধিত চিকিৎসক আছেন এবং কোথায় অনভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এসব তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে থাকার কথা। তাহলে নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করা হচ্ছে না কেন?

তাঁদের দাবি, চিকিৎসাসেবার নামে মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রায়পুরে স্বাস্থ্যসেবার এই চিত্রের প্রকৃত সত্য জানতে এখন প্রয়োজন প্রশাসনের একটি সমন্বিত অভিযান ও প্রকাশ্য লাইসেন্স যাচাই তালিকা। কোন প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত, কোনটির লাইসেন্স নবায়ন হয়নি এবং কোনটি অনুমোদন ছাড়াই চলছে তা প্রকাশ্যে এলে রোগীরাও বুঝতে পারবেন কোথায় নিরাপদে চিকিৎসা নেওয়া যায়।

তাই জনমনে প্রশ্ন একটাই চিকিৎসাসেবার নামে রমরমা ব্যবসা চলবে, নাকি এবার জবাবদিহির আওতায় আসবে এসব প্রতিষ্ঠান?

এবিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেহেদি হাসান কাউছার বলেন, "  ভূয়া চিকিৎসক সহ অনিবন্ধিত ক্লিনিক গুলোতে খুব শীঘ্র অভিযান পরিচালনা করা হবে। "

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ বাহারুল আলম বলেন, " রায়পুরে বর্তমানে কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে না থাকায় ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে।  তবে শীঘ্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করে অনিবন্ধিত ক্লিনিক এবং ভূয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিবো 

এমএসএম / এমএসএম

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার

লাকসামে সুরক্ষা সিটি’র বিনিয়োগকারী ও শেয়ার হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময়

বিলীনের পথের সারথি ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা

আত্রাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

উলিপুরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

রায়পুরে অননুমোদিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের রমরমা বাণিজ্য

শিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রত্যয়ে গোদাগাড়ীতে সাক্ষরতা দিবস পালিত

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

মনোহরগঞ্জ- লাকসাম সড়কে ব্রিজ নির্মাণ কাজে ধীরগতি বিকল্প পথ নড়বড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা

শৈলজারঞ্জন কেন্দ্রে নেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম , নষ্ট হচ্ছে ভবন

টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সেবা বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত : রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই

বরিশালে ‘সাহিত্য পাতা আষাঢ়' সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন

চন্দনাইশে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন কনফারেন্স’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন