ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঐতিহ্যের 'হাউজি' খেলার ঠাঁই শুধু স্মৃতির ক্যানভাসে


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০-৯-২০২৬ দুপুর ৪:৭

একসময়ে জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা শহরের গন্ডি পার হয়ে মফস্বলেও হাউজি খেলার ব্যপক প্রচলন ছিল। তখন ফাঁকা মাঠে পেন্ডেল সাজিয়ে ধুমধাম করে আয়োজন করা হতো ঐতিহ্যবাহী ‘হাউজি’ খেলা। অথচ বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী হাউজি খেলা আজ স্মৃতির ক্যানভাসে নিয়েছে ঠাঁই।

নব্বই দশকে প্রতিটি এলাকায় এই খেলার ব্যপক প্রচলন ছিল ও জনপ্রিয় একটি খেলা ছিল। তখন শীতের শুরুতে শুকনো মৌসুমে খোলা মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে খেলার পেন্ডেল সাজিয়ে হাউজি খেলার আয়োজন করতেন আয়োজকরা। বিভিন্ন এলাকার হাউজি খেলামোদী খেলোয়াড়দের অবগতির জন্য প্রচারের জন্য মাইকিং করে দাওয়াত দেওয়া হতো। বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে মাইকে সঞ্চালকের মধুর কন্ঠে বেজে উঠত 'হ্যালো.হ্যালো.হ্যালো..হাউজি..হাউজি...হাউজি....ক্রিড়ামোদী ভাইয়েরা আপনাদের জন্য এক ধামাকা খবর!' 'হ্যাঁ ভাই! একদম ঠিক শুনেছেন। ভাগ্য বদলের এক মহা.. সুযোগ।' হেলায় হাতছাড়া করবেন না। 'অল্প টাকায় টিকিট কেটে আপনিও হয়ে যেতে পারেন আজকের দিনের সেরা ভাগ্যবান বিজয়ী।' তাই, আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আজই আপনার ভাগ্য পরীক্ষার জন্য টিকিট সংগ্রহ করুন।' নিজে আসুন এবং বন্ধুদের সাথে নিয়ে মেতে উঠুন আনন্দের এই মহোৎসবে। তাছাড়া প্রচার মাইকিং এ আরও উচ্চারিত হতো 'আসুন ভাই আসুন, ভাগ্য পরীক্ষা করুন' বা 'কপাল যার ভালো, সে জ্বালাবে বিজয়ের আলো!'

এছাড়াও বাম্পার রাউন্ড শেষে আরও রয়েছে- 'বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বাংলাদেশের সনামধন্য যাত্রা অপেরার শিল্পীদের অভিনীত মনোমুগ্ধকর যাত্রা পালা।' অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিড়ে এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারনে ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আজ হারিয়ে গেছ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হাউজি খেলাটি শুধুই কাল্পনিক।

খেলার তথ্যসূত্রে জানা যায়, খেলাটি মূলতএকটি সংখ্যা মেলানোর খেলা। খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট নম্বরযুক্ত টিকিট বা কার্ড দেওয়া হয়। একজন সঞ্চালক এলোমেলোভাবে বা ড্র থেকে নম্বর ডাকেন। টিকিটের সাথে নম্বর মিলে গেলে তা কেটে বা দাগ দিয়ে কেটে ফেলতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে লাইন বা ফুল হাউস মেলাতে পারলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কয়েকজন হাউজি খেলার ভক্তদের সাথে কথা বললে তারা ফেলে আসা অতীতের স্মৃতিচারণ করে আবেগ মেশানো কন্ঠে সকালের সময়কে বলেন, স্মৃতির ঝাঁপি খুলতেই আমাদের সবার আগে যে জিনিসটি মনে ক্যনভাসে ভেসে উঠছে, মনেপড়ে যায়, হাউজি খেলার সেই জাদুকরী রাতগুলো। যা আমাদের স্মৃতিতে আজও অমলিন। হাউজির পেন্ডলে কলারদের বিভিন্ন ছন্দে নাম্বারের সিরিয়ালের ডাক যেমন- 'আততায়ীর গুলিতে নিহত লিয়াকত আলী খান, কাটেন দেখি-ফাইভ এন্ড ওয়ান ফিফটি ওয়ান', 'বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল, কাটেন দেখি- সিক্স এন্ড টু', 'হাজবেন্ড এন্ড ওয়াইফ কাটেন দেখি সিক্স এন্ড ফাইভ', 'মুরগি চোর; নক অ্যাট দ্য ডোর কাটেন দেখি নাম্বার ফোর', মটকা মটকি কাটেন দেখি 8 এন্ড 8 এইট এইট, সাথী হারা সারথি, কাটেন দেখি সেভেন জিরো সেভেনটি, হাঁস সাথে একটি বাঁশ কাটেন দেখি টু এন্ড ওয়ন টুয়েন্টি ওয়ান এমন অনেক মজাদার কল করে থাকেন।

কথা হয় একসময়ের হাউজি খেলার ভক্ত নুরুলদীন, সামল মিয়া, জয়ন্ত দাসের সাথে  তিনি বলেন, একসময়ে শীতকাল এলেই হৃদয়ের আনন্দ উদযাপনের জন্য এই খেলাটি ছাড়া আমাদের আনন্দ যেন পূর্ণতাই পেত না। হাউজি খেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে আজও মনের ভেতর একটা অন্যরকম উত্তেজনা টের পাই।

তারা আরও বলেন, আমারা কয়েকজন বন্ধু মিলে হাউজি খেলতে যেদাম, তখন পকেটের জমানো টাকা দিয়ে কে কয়টা টিকিট কিনবে? তা নিয়ে চলত জম্পেশ প্রতিযোগিতা। বেশি টিকিট মানেই জেতার সুযোগ বেশি। এই সরল বিশ্বাসে আমরা অনেকেই একসাথে ৩-৪টা টিকিট নিয়ে বসে যেতাম। যখনই ঘোষক মাইক্রোফোনে বলতেন—"টান টান উত্তেজনা, খেলা শুরু হতে যাচ্ছে, অমনি পুরো প্যান্ডেল জুড়ে নেমে আসত এক অদ্ভুত নীরবতা। সবার চোখ আটকে থাকতো ওই ছোট ছোট কাগজের যখনই হাউজ কলারের সেই চেনা সুর। ঘোষকদের নম্বর ডাকার স্টাইল ছিল দেখার মতো। সবার চোখ আটকে থাকত ওই ছোট ছোট কাগজের নম্বরগুলোর ওপর। কিছুক্ষণের মধ্যে মাইকে বেজে উঠতো- ঘোষকের সেই চেনা সুর, ঘোষকদের নম্বর ডাকার স্টাইল ছিল দেখার মতো।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বলেন, নব্বই এর দশকে বারহাট্টা সিকেপি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠেসহ বিভিন্ন এলাকায় জমজমাট হাউজি খেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর পর থেকে খেলাটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব, ইন্টারনেট আসক্তি, আর্থিক লেনদেনের প্রভাব- যা অনেক অঞ্চলে জুয়া হিসেবে বিবেচিত ফলে আইনি কড়াকড়ির মুখে পড়ে। ফলে প্রশাসনিক ভাবে খেলাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

বাকেরগঞ্জে কাবাব এর নামে কি খাচ্ছেন আপনি এবং আপনার ফ্যামিলি

মান্দায় সড়ক সংস্কারের মান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি ধুনটে স্কাউটদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

হাতিয়া তমরদ্দি ইউনিয়নে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান

ধামইরহাটে সর্বদলীয় নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ ওয়াদুদের দাফন সম্পন্ন

রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে জিয়ানগরে গাছের চারা বিতরণ

রিফিল ছাড়াই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, কর্মকর্তা বদলি

রাজশাহীতে জুয়েলারি দোকানে চাঞ্চল্যকর চুরি: চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, ২৬ ভরি স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার

পিরোজপুরে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশু মুক্ত উপজেলা ঘোষণা

পেকুয়ায় ইউসুফ আলী হত্যা মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিবচরে শিক্ষার্থীদের সাথে ওসির মতবিনিময় সভা

ঐতিহ্যের 'হাউজি' খেলার ঠাঁই শুধু স্মৃতির ক্যানভাসে

গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান