ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাদজা ও ছক্কাঝড় : জিম্বাবুয়েতে মার্শের গড়ে ওঠার গল্প


স্পোর্টস ডেস্ক  photo স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫-৯-২০২৬ দুপুর ৪:৩

হারারে স্পোর্টস ক্লাবের চেঞ্জিং রুমের ব্যালকনিতে জিম্বাবুয়ের একজন প্রবীণ ব্যক্তি ফারাই ‘হ্যাপি’ মাপোন্দেরার পাশে বসেছিলেন মিচেল মার্শ। মার্শের হাতে থাকা ফোনে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন তার পরিবারের অনেকেই। তাদের মধ্যে ছিলেন তার বাবা জিওফ মার্শ। জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচ হিসেবে জিওফের চাকরি মিচের ছোটবেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বছর মার্শ পরিবারকে হারারেতে নিয়ে এসেছিল।


হ্যাপি হারারের হাইল্যান্ড শহরতলিতে মার্শদের বাড়িতে কাজ করতেন। সেখানে ১০ বছরের মার্শ জিম্বাবুয়ের প্রধান খাদ্য ‘সাদজা’ (ভুট্টার আটার তৈরি খাবার) খেতেন তার ও অন্যান্য গৃহকর্মীদের সঙ্গে, যারা নিজেদের শহর পার্থ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশের জীবনের সঙ্গে পরিবারটিকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিলেন। ‘আমার দিনের অধিকাংশ সময়ই তার সঙ্গে কাটত’, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ডটকম-কে বলেছিলেন মার্শ। তিনি বলে গেলেন ‘আমি ঘরে খেতে চাইতাম না। আমি তার সাথেই রাতে খেতে চলে যেতাম। তিনি আমার শৈশবের এক বড় অংশ ছিলেন।’

প্রায় ২৫ বছর পর এখনও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে কাজ করা হ্যাপি বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের সঙ্গে দেখা করার আশায় শনিবারে হারারের প্রধান ক্রিকেট মাঠে এসেছিলেন। কিন্তু মার্শ তখন কাছের একটি জিমে অনুশীলনের জন্য গিয়েছিলেন। পরে যখন মার্শ জানতে পারেন যে তিনি দেখা করার সুযোগ মিস করেছেন, তখন তিনি মন খারাপ করেছিলেন। কারণ তিনি নিজেও শহরে থাকার সময় হ্যাপিকে অবাক করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।


সোমবারে হ্যাপি যখন আবার ফিরে এলেন, মার্শ তাকে দেখতে পান এবং দলের ভিউয়িং এরিয়ার নিচে দুজনে এক উষ্ণ ও দীর্ঘ আলিঙ্গন করেন। হ্যাপির চেনা সেই চঞ্চল, একগুঁয়ে ছোট ছেলেটি এখন তার চেয়েও লম্বা। মার্শ তাকে উপরে ভিডিও কলের জন্য নিয়ে যান, সেখানে তার বোন মেলিসা ও মা মিশেলও যুক্ত ছিলেন। জিম্বাবুয়েতে থাকার সময় শারীরিক শাস্তির ভয়ে মা মিশেলই বাচ্চাদের স্কুলে না পাঠিয়ে বাড়িতেই লেখাপড়া করানোর ব্যাপারে জোর দিয়েছিলেন। হ্যাপি রসিকতা করে বলেন যে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে জিওফের তিন বছরের কোচিংয়ের মেয়াদের তুলনায় তার মাথায় এখন চুল বেশ কমে গেছে। মার্শ বলছিলেন, ‘সবাই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল।’


জিম্বাবুয়েতে মার্শ পরিবারের অবস্থানের সময় ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় বড় ভাই শন মার্শের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ার ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। তখন মিচ হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতেন, তার বাবার সহকারী কোচ কেভিন কারানের ছোট ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। সেগুলো কী অসাধারণ সব ম্যাচই না ছিল! টম, বেন এবং স্যাম কারান সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। টম ও স্যাম ইংল্যান্ডের হয়ে এবং বেন জিম্বাবুয়ের জার্সিতে। ওপেনার বেন চলতি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্য স্বাগতিকদের ওয়ানডে স্কোয়াডেও রয়েছেন।

মার্শের প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সিকান্দার রাজা রসিকতা করে বলেছিলেন যে মার্শ ‘প্রায় স্থানীয় একজন মানুষের মতোই।’ আর মার্শও স্বীকার করেছেন, ‘একটা সময় আমি আসলেই জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলতে চেয়েছিলাম।’ কিন্তু চলতি সপ্তাহের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মার্শের ১০০তম ওয়ানডে। এটি তার ক্যারিয়ারের নতুন এক মাইলফলক, যে ক্যারিয়ার তাকে দুই সাদা বলের ফরম্যাটেই বিশ্বকাপ জয় এবং দেশে-বিদেশে অ্যাশেজে সেঞ্চুরির স্বাদ দিয়েছে।

২০০৪ সালে রবার্ট মুগাবে সরকারের ভূমি মালিকানা সংস্কারের আওতায় মোজাম্বিক সীমান্তের কাছে রুসাপেতে নিজেদের ফার্ম থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর কারান পরিবার কিছু সময়ের জন্য মার্শদের সঙ্গে বসবাস করেছিল। কেভিন বাস্তবে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, যেখানে তিনি ২৭ রান করার পাশাপাশি অ্যালান বর্ডারকে আউট করেছিলেন। সাবেক আন্তর্জাতিক ব্যাটার হিসেবে জিওফের নিজের অর্জনসহ, সেই কারান-মার্শ যৌথ বাড়িটির ঝুলিতে সাবেক ও ভবিষ্যতের মিলিয়ে মোট ৬৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা জমা হয়েছিল, যা দিন দিন বাড়ছে।


জিওফ মার্শের মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই কেভিন কারান জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ে তরুণ মিচ মার্শের ক্যারিয়ারের রূপরেখা তৈরি করে যেতে থাকে। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগে ২১তম জন্মদিন বাড়াবাড়ি উদযাপনের জন্য শনের সঙ্গে শাস্তির মুখোমুখি হন। এর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ২০১৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে অধিনায়ক জর্জ বেইলি তাকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটিকে সঠিক প্রমাণ করেন মার্শ। ছক্কার ঝড় তুলে ৮৯ রান করেন তিনি। যেটা তার পঞ্চম ওয়ানডেতে প্রথম আন্তর্জাতিক হাফ সেঞ্চুরি। এক সপ্তাহ পর তিনি আরও ৭টি ছক্কা মেরে অপরাজিত ৮৬ রান করেন। এল্টন চিগুম্বুরার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ের সেই সফরে মার্শের উত্থানই ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক। মার্শ, রাজা এবং জিম্বাবুয়ের বর্ষীয়ান খেলোয়াড় ব্রেন্ডন টেলরই হলেন সেই ২০১৪ সিরিজের একমাত্র খেলোয়াড় যারা ২০২৬ সালের এই পুনর্মিলনী সিরিজেও খেলছেন।

‘ওই সিরিজের কয়েকটি ম্যাচে তিনে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলাম, যা চমৎকার ছিল,’ সাংবাদিকদের বলেছিলেন মার্শ। এই সিরিজটিই তাকে পরের বছর দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছিল। ‘সত্যি বলতে, সফরটি এত আগের কথা যে স্পষ্টভাবে মনে করা কঠিন। তবে আমি এটুকু জানি যে একজন উঠতি তরুণ হিসেবে আমার দুটি দুর্দান্ত ইনিংস ছিল এবং সেই দলের অংশ হওয়াটা দারুণ অভিজ্ঞতার ছিল।’

বর্তমান ৫০ ওভারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হিসেবে মার্শ নিজেকে কুপার কনলি, জোয়েল ডেভিস ও অলি পিকের মতো তরুণদের জন্য এক নতুন ও পুরনো প্রজন্মের মধ্যে সেতু তৈরি করার দায়িত্ব বোধ করেন। এই তরুণ তিন ক্রিকেটার ঠিক তেমন এক ক্যারিয়ারের পর্যায়ে আছেন, যে পর্যায়ে ২০১৪ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে মার্শ নিজে ছিলেন—যা ছিল জিম্বাবুয়ের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ওয়ানডে সফর।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের অনেকেরই দায়িত্ব রয়েছে যেন এই তরুণরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেট খেলাটা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারে।’ মার্শ বলে গেলেন, ‘সময় খুব দ্রুত চলে যায়। ভাবতেই অবাক লাগে যে আমি এখন এই দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড়—আমি কেবল তাদের জন্য এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে তারা শিখতে পারে, নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। আমরা যা করার সুযোগ পাই তার জন্য আমরা সত্যিই ভাগ্যবান; এমন জায়গায় আসা, সফর করা এবং সবাই একসাথে থাকা। আশা করি তারা চমৎকার সময় কাটাবে, ঠিক যেমনটা আমি কাটিয়েছিলাম।’


২০০৪ সালে হারারে থেকে পার্থে ফিরে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়া মার্শের সাথে রাইলি প্যাটিসন নামের এক জিম্বাবুয়ান ছেলের দেখা হয়, যার পরিবারও অস্ট্রেলিয়া চলে এসেছিল। জিম্বাবুয়েতে তাদের একে অপরের সাথে পরিচয় ছিল না। তাই ভারত মহাসাগরের অপর পাড়ে ওয়েসলি কলেজের অষ্টম শ্রেণির প্রথম দিনেই একই পটভূমির এই দুই ছেলের দেখা হওয়াটা যেন ছিল এক ভাগ্য নির্ধারিত ঘটনা।

তারপর থেকেই মার্শ ও প্যাটিসন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া দল হারারেতে নামার পরের দিনই পুরো দল এবং সাপোর্ট স্টাফরা শহরের উপকণ্ঠে প্যাটিসনের পরিবার লিজ নেওয়া ফার্মে ঘুরতে যায়। পড়ন্ত আফ্রিকান সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে মার্শ হয়তো ভাবছিলেন, পৃথিবীর এই অঞ্চলটি তার জীবনের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

aliul / aliul

ব্রুনোকে ধরে রাখতে নতুন চুক্তি নিয়ে প্রস্তুত ম্যানইউ

২০২৮ ও ২০২৯ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা

টেন্ডুলকারকে টপকে অনন্য মাইলফলকে ব্রেন্ডন টেলর

সাদজা ও ছক্কাঝড় : জিম্বাবুয়েতে মার্শের গড়ে ওঠার গল্প

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিপ্রকাশ, বাংলাদেশের খেলা কবে?

ইমরানের জন্য মানবিক আবেদন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়কের চিঠি

বিসিবির নতুন টুর্নামেন্টের ম্যাচ হচ্ছে না খুলনায়

ফর্ম পুনরুদ্ধারে নতুন মিশনে বাবর আজম

চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সার শিরোপা সম্ভাবনা নিয়ে রদ্রির বাস্তববাদী মন্তব্য

বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচের দায়িত্বে তালহা জুবায়ের

টেস্ট ক্রিকেটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হৃদয়, জানালেন কোচ

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কোনো ক্রিকেটারকে বাদ দিতে বলেননি তদন্ত কমিটির প্রধান

বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ খেলতে চায় নেপাল