ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সঙ্গী হারানোর বেদনায় নিথর দেহের পাশে কুকুরটি


কুবি প্রতিনিধি photo কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬-৯-২০২৬ দুপুর ৪:২

একসঙ্গে পথচলা, একই আঙিনায় ঘোরাফেরা, কখনো পাশাপাশি বসে থাকা, আবার কখনো ছুটে চলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাসে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যেত তিনটি কুকুরকে। তাদের সখ্যও ছিল বেশ পরিচিত। কিন্তু বুধবার দুপুরে হঠাৎ থেমে গেল তাদের একজনের পথচলা। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিথর হয়ে পড়ে রইল সে। আর তার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল সঙ্গীটি -অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে, যেন কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না, কেন আর উঠে দাঁড়াচ্ছে না তার সঙ্গী।

কিছুক্ষণ আগেও যে সঙ্গীটি ছিল পাশে, মুহূর্তের ব্যবধানে সে পড়ে রইল নিথর। আরেকটি কুকুর বারবার কাছে এসে তাকাচ্ছিল তার দিকে। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো কাছে গিয়ে যেন দেখছিল—সঙ্গীটি আবার উঠে দাঁড়াবে কি না। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হয়নি।

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এমন দৃশ্য দেখা গেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিআরটিসির একটি লাল বাসের ধাক্কায় কুকুরটির মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর প্রধান ফটকের পাশে পড়ে ছিল কুকুরটির নিথর দেহ। আশপাশে মানুষের ভিড়, যানবাহনের চলাচল -সবকিছুর মধ্যেও সঙ্গী কুকুরটি সরে যায়নি। দীর্ঘক্ষণ তাকে মৃত কুকুরটির পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

অবলা প্রাণীটি কথা বলতে পারে না। নিজের অনুভূতির ভাষাও প্রকাশ করতে পারে না। তবু তার আচরণে যেন স্পষ্ট ছিল হারানোর বেদনা। বারবার নিথর দেহটির দিকে তাকিয়ে থাকা, কাছে গিয়ে আবার ফিরে আসা—সবকিছু মিলিয়ে দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের মনে তৈরি করে আবেগঘন এক মুহূর্ত।

মনে হচ্ছিল, হয়তো সে অপেক্ষা করছে এই বুঝি তার সঙ্গীটি উঠে দাঁড়াবে, আবার আগের মতো তার সঙ্গে হাঁটবে, ছুটবে কিংবা খেলবে। কিন্তু সেই অপেক্ষার পরিণতি ছিল কেবলই নীরবতা।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিআরটিসির বাসটি ক্যাম্পাস থেকে কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ের উদ্দেশ্যে প্রধান ফটক দিয়ে বের হচ্ছিল। এ সময় একটি কুকুর বাসটির সামনে পড়ে গেলে বাসটি তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর কুকুরটি জোরে চিৎকার করে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসের চাকা কুকুরটির মাথার ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি কুকুর দীর্ঘক্ষণ সেই দেহের দিকে তাকিয়ে ছিল। আশপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও সঙ্গীকে ছেড়ে যায়নি সে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী শাহারিয়ার আহমেদ রামিম বলেন, “ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম। কুকুরটি বাসের নিচে পড়ে যাওয়ার পরও চালক গাড়ির গতি থামাননি। কুকুরটি বড় করে চিৎকার করছিল এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।”

কুকুরগুলোর পারস্পরিক সখ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি কুকুরগুলোকে চিনি। তিনটি কুকুর সবসময় একসঙ্গে থাকত। তারা একসঙ্গে ঘোরাফেরা ও খেলাধুলা করত।”

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা আরেক শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমেদ বলেন, “ক্যাম্পাস থেকে আস্তে-ধীরে গাড়ি বের না করে চালক বেপরোয়া গতিতে বের হন, এটা সবাই দেখে। চালককে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ বাসচালকের গতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকেই কুকুরটির মৃত্যুর পাশাপাশি তার সঙ্গীর নিঃশব্দ অপেক্ষার দৃশ্য নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন যাতায়াত করে। ব্যস্ত সেই পথের পাশেই পড়ে রইল একটি প্রাণের নিথর দেহ। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সঙ্গীটি যেন নির্বাক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে গেল -যে সঙ্গীটি প্রতিদিন পাশে ছিল, সে কেন আজ আর ফিরছে না?

কথা বলতে না পারা সেই প্রাণীর অপেক্ষার কোনো ভাষা নেই। তবু তার অপলক দৃষ্টি যেন মনে করিয়ে দিল - মায়া, সঙ্গ আর হারানোর অনুভূতি প্রকাশের জন্য সবসময় ভাষার প্রয়োজন হয় না।

এমএসএম / এমএসএম

অ্যাসাইনমেন্টের পণ্য নিয়ে এখন ব্যবসা করছেন কুবির তিন শিক্ষার্থী

সঙ্গী হারানোর বেদনায় নিথর দেহের পাশে কুকুরটি

কাশফুলের দোলায় কুবিতে শরতের আত্মপ্রকাশ

ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ করে ব্যাচমেটকে বিয়ে করলেন কুবি শিক্ষার্থী

করাতকলের জীবন

শরীরচর্চায় আইসোমেট্রিক ও মাইক্রো ওয়ার্কআউট

মন খারাপের দিনগুলোয় ত্বকের যত্ন যেভাবে নেবেন

শালবন বিহার: বাংলার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় WUB-এর অগ্রণী ভূমিকা

ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটের পতন

১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে "সুপার এল নিনো": ২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর

কিয়ারা আদভানির ত্বক কেন এত উজ্জ্বল? কারণ জেনে নিন

গ্রীষ্মের ছাতা বাছাই করার আগে জেনে নিন