ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

শালবন বিহার: বাংলার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক


কুবি প্রতিনিধি photo কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬-৬-২০২৬ দুপুর ১২:৩৩

বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম গৌরবময় নিদর্শন শালবন বিহার। প্রায় বারো শতাব্দী পুরোনো এই প্রত্নস্থল শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং বাংলার সমৃদ্ধ বৌদ্ধ সভ্যতা, জ্ঞানচর্চা ও স্থাপত্যকলার এক জীবন্ত সাক্ষ্য। একসময় এটি ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধর্মীয় ও শিক্ষাগত কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। কালের বিবর্তনে আজ এটি পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন আকর্ষণে।

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বিহারের পাশেই রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রী ভবদেব এ বিহার নির্মাণ করেন। সে সময় এটি ‘ভবদেব মহাবিহার’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে বিহারের চারপাশে বিস্তৃত শাল ও গজারি বনের কারণে এর নামকরণ করা হয় ‘শালবন বিহার’।

প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় জানা যায়, বিহারটি মোট ছয় দফা নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে। এর কেন্দ্রীয় মন্দির অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত হলেও নবম ও দশম শতাব্দীতে এর ব্যাপক সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়।

প্রায় ৩৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত আয়তাকার এই বিহারের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৮ মিটার এবং প্রাচীরের পুরুত্ব প্রায় ৫ মিটার। এখানে রয়েছে মোট ১১৫টি কক্ষ, যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস, অধ্যয়ন ও ধর্মচর্চা করতেন। প্রতিটি কক্ষে ছিল কুলুঙ্গি, যেখানে প্রদীপ কিংবা ধর্মীয় মূর্তি স্থাপন করা হতো। বিহারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মন্দির ছাড়াও রয়েছে প্রহরীকক্ষ, সভাকক্ষ এবং ভিক্ষুদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ।

খননকাজে শালবন বিহার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮টি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য টেরাকোটা ফলক, সিলমোহর এবং ব্রোঞ্জ ও মাটির তৈরি বিভিন্ন মূর্তি। এসব নিদর্শন বর্তমানে ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করছে।

শালবন বিহার কেবল ধর্মীয় উপাসনার স্থান ছিল না; এটি ছিল তৎকালীন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রও। এখানে ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, সাহিত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ ছিল। ফলে বিহারটি সমগ্র অঞ্চলে জ্ঞানচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটার নান্দনিক অলংকরণ, পাল যুগের নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শালবন বিহার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার লাখের বেশি পর্যটক শালবন বিহার পরিদর্শনে আসেন।

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। তাই এর সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

শালবন বিহার শুধু একটি প্রত্নস্থল নয়; এটি বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অতীত, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও এটি আজও আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

Aminur / Aminur

শালবন বিহার: বাংলার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় WUB-এর অগ্রণী ভূমিকা

ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটের পতন

১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে "সুপার এল নিনো": ২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর

কিয়ারা আদভানির ত্বক কেন এত উজ্জ্বল? কারণ জেনে নিন

গ্রীষ্মের ছাতা বাছাই করার আগে জেনে নিন

এই কুলফি মালাই...

কৃষকের ভাগ্য বদলাতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে নামলেন তারেক রহমান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর

স্মার্টফোনের নেশায় শৈশব বিপন্ন: ‘ডিজিটাল মাদকে’ বুঁদ শিশু থেকে অভিভাবক

র‍্যাগিং নয়, সম্মানই হোক ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি

ফ্রিজের বরফ জমা মাছ-মাংস দ্রুত নরম করার কৌশল

পূর্ণিমা রাতে লঞ্চভ্রমণ: নদী, জোছনা ও নিঃসঙ্গতার ত্রিভুজপ্রেম