ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

১৫ দিনের সংস্কারে কি বদলাবে গবি ক্যান্টিন?


মাহিদুজ্জামান সিয়াম, গবি photo মাহিদুজ্জামান সিয়াম, গবি
প্রকাশিত: ৬-১০-২০২৬ দুপুর ৩:৩২

খাবারের মান ও পরিমাণে অসঙ্গতি, উচ্চমূল্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপনার নানা অনিয়ম যেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনের দৈনন্দিন চিত্র। শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি, বিক্ষোভ ও প্রশাসনের আশ্বাসের মধ্য দিয়ে বারবার বদলেছে মালিক, বদলায়নি ক্যান্টিন। সর্বশেষ নানা অনিয়ম ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে ক্যান্টিন তালাবদ্ধ হওয়ার পর এবার ১৫ দিনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে, নাকি সাময়িক স্বস্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতকাজের জন্য ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যান্টিন বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে উপযুক্ত সময়ে পুনরায় ক্যান্টিনের কার্যক্রম চালু করা হবে।

তবে ক্যান্টিনের সমস্যার সূত্রপাত কয়েক বছর আগের। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে খাবারের মান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং খাবারের দাম ও পরিমাণে সামঞ্জস্যের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষরসহ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের অভিযোগে ক্যান্টিনের সামনে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। একপর্যায়ে ক্যান্টিন তালাবদ্ধ করা হয়। তখন ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়। পরিবর্তন হয় মালিকানা।

এরপরও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে ক্যান্টিনের রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। খাবারে পোকামাকড়, প্লাস্টিক ও মুরগির পালক পাওয়ার অভিযোগের পরও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সর্বশেষ গকসু নেতাদের পরিদর্শনে কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার একই রেফ্রিজারেটরে রাখা, বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের নোংরা পরিবেশের অভিযোগ সামনে আসে। আবারও পরিবর্তন হয় ক্যান্টিনের মালিকানা।

তবে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হয়নি। আবারও ওঠে উচ্চমূল্যে অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন খাবার পরিবেশনের অভিযোগ। এ ঘটনায় মালিক ও ছাত্র সংসদের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও ওঠে। পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যান্টিন তালাবদ্ধ করেন গকসুর নেতারা। এরপর উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় ক্যান্টিন সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে ১৫ দিনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, শুধু সংস্কার করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? তাঁদের মতে, অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি খাবারের মান, মূল্য ও পরিমাণে সামঞ্জস্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে আগের চিত্রই ফিরে আসতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যান্টিনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া হোসাইন চাঁদনী বলেন, ‘প্রশাসন সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। শুধু সংস্কারের নাম করে দিন পার করলেই হবে না, কাজের কাজ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই আসল বিষয়। ১৫ দিনের সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি প্রশাসনের উচিত দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। তিনটি সমস্যার সমাধান খুবই জরুরি, খাবারের মান ও নিরাপত্তা, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা এবং নিয়মিত তদারকি করা।’

ক্যান্টিনে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী কদর সরকার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমার আসা চার বছর হতে চলল। কিন্তু ক্যান্টিন নিয়ে ক্যাম্পাসে বছরে একবার হলেও আন্দোলন হবে না, এটা অবাক করার বিষয়। বারবার একই অভিযোগ, তারপর মালিকানা পরিবর্তন, কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক, তারপর আবার সমস্যা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন নিয়ে এত সমস্যা থাকে, জানতাম না। ১৫ দিনের সংস্কার কার্যক্রম যদি দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটাতে পারে, তাহলে তো ভালো। কিন্তু কতটা পারবে, সেটিই দেখার বিষয়। সমস্যা সমাধানে নিয়মিত তদারকি জরুরি।’

সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদূল দেওয়ান বলেন, ‘ক্যান্টিনের সিলিংয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। সংস্কারের অংশ হিসেবে সিলিং পরিবর্তন, ফ্লোরে টাইলস বসানো এবং ভেতরে-বাইরে রং করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। ক্যান্টিনের পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবক বা অতিথিদের সেখানে নিতে পারেন না।

‘সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যান্টিন পরিচালনাকারীকে যাচাই-বাছাই করেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।’

নতুন ক্যান্টিন নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন ক্যান্টিন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট-সংকট এবং নারী শিক্ষার্থীদের হল নির্মাণকাজ শুরুর কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পুরোনো ক্যান্টিন সংস্কার করেই শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।’

দীর্ঘ কয়েক বছরের অভিযোগ ও ব্যর্থ চেষ্টার পর ১৫ দিনের সংস্কার কার্যক্রম ক্যান্টিনের চেহারা কতটা বদলায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। সংস্কার শেষে ক্যান্টিনের দরজা খুলবে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির দরজাও এবার বন্ধ হবে কি না, সেটিই শিক্ষার্থীদের বড় চিন্তার বিষয়।

এমএসএম / এমএসএম

কুবিতে শিক্ষাছুটি শেষে যোগ না দেওয়ায় ৬ শিক্ষকের পদ শূন্য

১৫ দিনের সংস্কারে কি বদলাবে গবি ক্যান্টিন?

গোপালগঞ্জে এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা, প্রধান অতিথি গোবিপ্রবি উপাচার্য

জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন গোবিপ্রবি উপাচার্য

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে রায়গঞ্জে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

‘রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হোক’: অপ্রতিমের বাবা

ইউজিসির গবেষণা অর্থায়ন নির্দেশিকার বৈষম্যমূলক বিধান প্রত্যাহারের দাবিতে পাবিপ্রবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

ডিআইইউ ইংলিশ ক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি রনি সম্পাদক মাহমুদুল

‎কুবির রসায়ন বিভাগের ৪১ শিক্ষার্থীকে বিসিকের ৫ দিনব্যাপী শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষার্থী সংগঠনের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

গকসুর ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্যান্টিন মালিকের চাঁদাবাজির অভিযোগ

‎দাবি আদায় না হলে অনশন, সিন্ডিকেটের দিনেও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিতে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে তালা, অবরুদ্ধ শিক্ষক