ঢাকা বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

এক অনন্য মনীষী ড. এ. এইচ. এম. ইয়াহইয়া রহমান: শিক্ষকতা ও গবেষণায় বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি


ইবি প্রতিনিধি photo ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪-১১-২০২৬ দুপুর ১২:৪২

দেশের প্রখ্যাত ইসলামী শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট গবেষক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের সাবেক ডিন এবং জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. ইয়াহইয়া রহমান ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ক্ষণজন্মা মনীষী। শিক্ষকতা, উচ্চতর মৌলিক গবেষণা, গ্রন্থ রচনা ও সমাজ সংস্কারমূলক খেদমতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি অতিবাহিত করেছেন এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবন।

ড. ইয়াহইয়া রহমান ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন গোলাখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাফেজ সুলতান উদ্দিন সরদার এবং মাতা মরহুমা আমিনা সুলতানা। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। শৈশব থেকেই তিনি বিনয়ী, মার্জিত, মেধা ও অনন্য ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন ছিল ঈর্ষণীয় সাফল্যে ভরপুর। ১৯৬১ সালে সাতক্ষীরার বন্দরকাঠি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ১৯৬৫ ও ১৯৬৭ সালে আগরদাঁড়ী আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে আলিম ও ফাযিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসা বোর্ডে ১২তম স্থান অধিকার করে তিনি বৃত্তি লাভ করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী শর্ষিনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৯ সালে হাদিস বিভাগে ষষ্ঠ স্থান এবং ১৯৭২ সালে ফিকহ বিভাগে চতুর্থ স্থান নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে কামিল সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ঢাকা থেকেও তাফসির বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি অনন্য ‘কামিল ট্রিপল’ সম্পন্ন করার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ, মাদারীপুর থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন।

মাদ্রাসা শিক্ষার পর সাধারণ উচ্চশিক্ষায়ও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে ১৯৭৪ সালে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান এবং ১৯৭৫ সালে মাস্টার্সে (থিসিস গ্রুপ) প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করে কলা অনুষদে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হন। ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধীনে প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ এছহাকের তত্ত্বাবধানে তিনি এমফিল সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সৌদির কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান এবং ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবন চলাকালীন ১৯৬৯ সালে মাদারীপুর আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে শর্ষিনা কামিল মাদ্রাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ১৯৭৮ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক হিসেবে রংপুর সরকারি কারমাইকেল কলেজে এবং পরবর্তীতে সরকারি কবি নজরুল কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮১ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি সৌদি আরব সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অ্যারাবিক এক্সপার্ট’ হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে দীর্ঘ আট বছর প্রবাসীদের কল্যাণে ও তাফসির পাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিদেশের স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ও লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দেশের টানে ১৯৮৯ সালে দেশে ফিরে এসে ১৯৯১ সালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ও দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটকালে প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইআইইআর) পরিচালক হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন।

ড. ইয়াহইয়া রহমানের গবেষণার পরিধি ছিল দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। ভারতের বিখ্যাত জার্নাল ‘আল বা’ছ আল ইসলামী’সহ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তাঁর বহু মূল্যবান প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে ‘মাওয়ালী এবং ইসলামী উলুমে তাঁহাদের অবদান’ ও ‘ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর জীবনী’ উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১২ জন গবেষক এমফিল ও ১০ জন গবেষক পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

গবেষণার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা খতিব। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার তিনি ‘শ্রেষ্ঠ খতিব’ হিসেবে পুরস্কৃত হন। তিনি দীর্ঘদিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন কেন্দ্রীয় মসজিদ, টিকাটুলী জামে মসজিদ ও কুষ্টিয়া কোর্টপাড়া জামে মসজিদের জুমার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন।

জাতীয় ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ। জ্ঞানচর্চা, শিক্ষকতা ও সমাজসংস্কারের এক উজ্জ্বল বাতিঘর হিসেবে তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।

এমএসএম / এমএসএম

উৎসবমুখর পরিবেশে কালিয়াকৈরে ইউএফটিবির ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

এক অনন্য মনীষী ড. এ. এইচ. এম. ইয়াহইয়া রহমান: শিক্ষকতা ও গবেষণায় বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি

উন্নয়নের স্বার্থে গাছ অপসারণ, পরিবেশ রক্ষায় অধিক বৃক্ষরোপণ: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

পলিটেকনিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, সুপারিশ পেলেন ৫ প্রার্থী

রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে ২ ফেব্রুয়ারি ইবির সমাবর্তন

অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

কুবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের নতুন পরিচালক ড. আব্দুল আহাদ

এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর, ফল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে

ইবিতে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১২ বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত

মাদকমুক্ত ঢাকা গঠনে ডিআইইউতে নীতিনির্ধারণী সংলাপ ৩ নভেম্বর

প্রাথমিক শিক্ষায় বইয়ের পাশাপাশি যুক্ত হবে লার্নিং টয়, খেলতে খেলতে শিখবে শিশুরা: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

১ নভেম্বর থেকে এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু

এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন