বাঁশখালীতে লাভের আশায় টমেটো চাষ, কৃষকের কপালে হাত
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের টমেটো চাষে লাভের মুখ দেখার আগেই চাষিদের কপালে হাত। উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের গণ্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল ও শীলকূপসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল টমেটোচাষিদের করুণ পরিস্থিতির দৃশ্য। গত কয়েক বছর ধরে টমেটো চাষে মোটামুটি ফলন হওয়াতে এ বছরও জীবনের সব উপার্জন ঢেলে দিয়ে আগাম টমেটো চাষে ঝুঁকে পড়েছিলেন উপকূলীয় ক্ষেইত্যালারা। অধিক লাভের আশায় বর্ষা মৌসুমে রাত-দিন বিরতিহীনভাবে পরিশ্রম করে টমেটো চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। লাভের আশায় ক্ষেতে লাখ টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করেননি তারা। কিন্তু লাভের মুখ দেখার আগেই বিভিন্ন মরণ রোগে যেন কেড়ে নিল সব আশা।
নিজস্ব জমি না থাকায় কানিপ্রতি বাৎসরিক ১৫-২০হাজার টাকা করে লাগিয়ত হিসেবেজমি মালিকদের কাছ থেকে জমি নিয়ে টমেটো চাষে নেমেছেন অনেক চাষি পরিবারের সদস্য। তাছাড়া ভালো ফলনযোগ্য অধিক মূল্যের বীজ সংগ্রহ করতে ছোটাছুটির দৃশ্যটা ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির দিনে ক্ষেত-খোলা সুরক্ষিত রাখতে নির্ঘুম রাত কাটানোর সময়ও পার করেছেন তারা।
পরিদর্শনকালে গণ্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, শীলকূপসহ বিভিন্ন এলাকার চাষিদের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। এ সময় গণ্ডামারা এলাকার নুর মুহাম্মদ (মৌদু), আমির হোসাইন, ইউনূস, নুরুল কবির, মোহাম্মদ করিম, ইলিয়াস, জসিম উদ্দিন, মোজাম্মেল, শরীফুল্লাহ, আবুল কালাম, আব্দুর রহিম, ইলিয়াস, শফিকুল আলম, বজলুল হক, আজিজ, মোহছেন, সরল এলাকার মোহাম্মদ লেদুসহ অনেক ক্ষেইত্যার সাথে সাক্ষাৎকালে তারা বলেন, আমরা অনেকে জীবনের সব উপার্জন ঢেলে দিয়ে অধিক লাভের আশায় রাত-দিন কষ্ট করে টমেটো চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ভালো বীজ সংগ্রহ করে এনেছি। শুধু তাই নয়, বর্ষার মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে ক্ষেত সংরক্ষণের জন্যে নির্ঘুম রাত কাটানোর সময়ও কম নয়। তাছাড়া হাজার হাজার টাকার কীটনাশকও ব্যবহার করেছি। এমনকি প্রতি সাপ্তাহে ২-৩ বার করে কীটনাশক ব্যবহার করার পরও ওই সব রোগ থেকে ক্ষেত রক্ষা করতে পারছি না। বড় আশা করেছিলাম অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর টমেটো চাষে ভালো বাম্পার ফলনের। কিন্তু সব আশাই যেন দিন দিন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশকজাতীয় হাজার হাজার টাকার ওষুধ ব্যবহার করেও লাল বেয়ারাম ও পঁচা বেয়ারামের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না ক্ষেত-খোলা। মনে হয় নামিদামি কোম্পানিগুলোর কীটনাশকেও নেই কোনো গুণাগুণ। নামে বড় কোম্পানি কিন্তু কামে জিরো।
নিজের তেমন পুজি না থাকায় অনেকে স্থানীয় বৃত্তশালীদের কাছ থেকে ধার কর্জসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েও টমেটো চাষে নেমেছে অনেক চাষি পরিবার। কিন্তু ফলন না হলে তারা ওই সব ঋণের বোঝা শোধ করার উপায় কী, তা নিয়েও চিন্তিত অনেক চাষি পরিবার। হতাশার অন্ত নেই চাষিদের। লাভ গুনে কপালে হাত এমন করুণ পরিস্থিতি ক্ষেইত্যালেদের। আবার অনেকেই বলেন, আমরা ক্ষেত করি নিজেস্ব উপার্জনের অর্থ ও কর্জ ধার করে কিন্তু সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি। সরকারি সহযোগিতা পেলে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেতেন বলেও জানান তারা।
তবে এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু ছালেকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দৈনিক সকালের সময় প্রতিবেদককে জানান, গণ্ডামারা, বড়ঘোনা, সরলের কয়েকটি এলাকায় আমি নিজেই পরিদর্শন করেছি। কিছু জায়গায় টমেটো চাষে এক ধরনের পচন রোগ ধরেছে, যা আমি চোখ দেখেছি। এতে কৃষি পরিবারগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যেহেতু টমেটো চাষে খরচ হয় খুব বেশি, ভালো ফসল ফলাতে না পারলে লোকসানে পড়বেন কৃষকরা।
এমএসএম / জামান
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের রেল লাইন নির্মাণ কাজ বন্ধের পাঁয়তারা
এমপির প্লাবণভুমি উপকেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময়
ধামইরহাটে জমি দখল ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক যুবক গ্রেফতার
শান্তিগঞ্জে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা বাজারে চাঁদার চাপে মুরগি ব্যবসায়ীরা!
পবিপ্রবির প্রথম গেটের সামনের সড়কের বেহাল দশা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীরা
বাঘায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
আওয়ামী লীগ-কে ফেরাতে ৯৬'র মতো যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে জামায়াত -রাশেদ খান
সাঁথিয়ায় হত্যা মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার
সারাদেশের নেয় শ্যামনগরে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার
একযুগের বেশি শিল্পকলা একাডেমি বন্ধ, বাদ্যযন্ত্র ও বরাদ্দের টাকার সন্ধান নেই