চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দেওয়ার নামে ১৩৫ জনের সাথে প্রতারণার অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দেয়ার নামে ১৩৫ জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মীর মোহাম্মদ মোজাফফর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীরা ।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনির হোসেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মজিবুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরের জালালাবাদ অক্সিজেন এলাকার ইসমাইল খোয়াজার বাড়ির জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মীর মোহাম্মদ সোয়েবের ছেলে মীর মোহাম্মদ মোজাফফর ও তার স্ত্রী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) খুলশী অফিসের স্টাফ নাজমা আকতার ডলির পরিচয় হয় পটিয়ার মোহাম্মদ ইসমাইল নামের এক ব্যক্তির। চট্টগ্রাম বন্দরের ডিসি ফরিদ তার ক্লাস মেইড উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দরে লোক নিয়োগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তার মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে বন্দরে চাকরি দিয়েছেন বলে প্রলোভন দেখায়। এ প্রলোভনে পড়ে মোহাম্মদ ইসমাইল মোজাফফরকে বিশ্বাস করে প্রথমে দুইজন জুনিয়র অডিটর ও দুইজন পরিবহন কর্মকর্তা পদের জন্য বায়োডাটাসহ চার পদের জন্য ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন। মোজাফফর গ্যারান্টি স্বরূপ ওই চারজনকে তার ব্যাংক একাউন্টের চেক দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একইভাবে বোয়ালখালী উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার সেলিমকে প্রলোভন দেখিয়ে ইঞ্জিনিয়ার, সহকারি পরিবহন কর্মকর্তা, সিনিয়র হিসাব রক্ষক, এম এল এস এস ও অফিস সহকারি, উচ্চমান অফিস সহকারি পদের জন্য ৩১ জনের বায়োডাটা নিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা নিয়ে নিখুঁতভাবে ঠগবাজি করে। ইঞ্জিনিয়ার সেলিমকে জিম্মাদার হিসেবে মোহাম্মদ ইসমাইলকে ব্যবহার করেন এবং ওই টাকাগুলোর জন্য ইসমাইলকে চেক ও স্ট্যাম্প প্রদান করেন। পটিয়ার জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ২০ জনকে চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দিবে বলে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে মীর মোজাফফর প্রায়জনকে চেক ও স্ট্যাম্প দিয়েছেন। একইভাবে বোয়ালখালীর মঞ্জুর কাছ থেকে ৫ জনকে চাকরি দেওয়ার নামে সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার পদের জন্য আনিসুর রহমান রাব্বী, মো.সেলিম, কাজী তানভীর, কামরুল হাসান, উম্মে সালমা, মিজানুর রহমান, আশিকুল ইসলাম, সিনিয়র হিসাব রক্ষক পদের জন্য আব্দুল কাদের, তানজিদুল ইসলাম, জয়া নাগ, সহকারি পরিবহন কর্মকর্তা হিসেবে পেয়ারুল হাসান, ওয়াহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, রোবহান উদ্দিন, জয়া চৌধুরী, মো.সাজ্জাদ হোসেন, নুরুল মোমেন, উচ্চমান অফিস সহকারি পদের জন্য ফরহাদ ইসলাম, কনক শীল, শুভ বিশ^াস, সৌরভ বিশ^াস, মো. ইসকান্দর, মো.সোহেল। এছাড়া অফিস সহকারি হিসেবে চাকরি পাওয়ার জন্য মোজাফফরকে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ইমতিয়াজ হোসেন, হাবিবুর রহমান, মাইনুদ্দিন হাসান, রাশেদা বেগম, আনিক তাবাসসুম, শুকু রানী, বিউটি দাশ, রেশমী নাথ, রিদুয়ানুল হক, মো. কায়সার, ফারুক আহমদ, রবিউল ইসলাম, এনামুল হক, মোয়াজেজমুল হক, মাইনুদ্দিন, নিবেদন চৌধুরী, জামিল উদ্দিন, আরমান হোসেন, জাহেদ হোসেন, শহিদুল ইসলাম। জুনিয়ার অ্যাকাউটেন্ট হিসেবে চাকরির জন্য টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন ফজলুল হক, শিহাব উদ্দিন, শিহাব উদ্দিন, রিয়াজুল ইসলাম, মুরাদ হাসান, জুয়েল আশ্চার্য, তাসরিন তানিয়া, মেহের আফরোজ, রায়হান পারভেজ, সিরাজুল মনির, ফজলুল করিম, নাজমা আকতার, নূর উদ্দিন, কাজী রাকিব। এমএলএসএস পদের জন্য মোজাফফরকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন ইয়াকুব সিকদার, আজমগীর, মো. নয়ন, মোহাম্মদ হ্নদয়, শাকিবুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম, আরমান, রিফাজুল হক, আলী আকবর, মো. ইমরুল, ইয়াছিন আরাফাতসহ আরো অনেকেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩৫ জনের কাছ থেকে প্রতারক মীর মোজাফফর টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় বলেছিলেন ২০২১ সালের ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে যার যার ঠিকানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। এছাড়া মার্চের মধ্যে সকল ব্যক্তিকে চাকরিতে যোগদানের ব্যবস্থা করে দিবেন। এরই মধ্যে মীর মোজাফফর তার নাম গোপন রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের আইটি অফিসার আকতার সাহেব সেজে ০১৩২৩৯৪৪৫৭৭ মোবাইল নম্বর থেকে সকলকে ফোন করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় একেক অজুহাত দেখিয়ে চাকরির যোগদানের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন করেন। এতে তাদের সন্দেহ সৃষ্টি হলে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তারা প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন।
মীর মোজাফফর ও তার স্ত্রী নাজমা আকতার ডলি পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের প্রতারণার জাল বিস্তৃত। লোকজনের সাথে প্রতারণা করে তারা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক হয়েছেন। তারা চাকরি প্রার্থীদের বন্দরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অগ্রীম টাকা গ্রহণ করে। চাকরি প্রার্থীদের নিকট থেকে চাকরি হয়ে গেছে বলে অবশিষ্ট টাকা আদায় করে। একই কায়দায় আমাদের ১৩৫ জনের কাছ থেকে মোজাফফর প্রায় ৮০/৯০ লাখ টাকা আদায় করেছে। গত দুই মাস থেকে মোজাফফর আর কারো সাথে যোগাযোগ করছে না।
মীর মোহাম্মদ মোজাফফরের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি মামলায় সাজাও ভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক ওয়ারেন্ট। পটিয়ার ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের কাছ থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন মোজাফফর। পরে প্রতারণা করলে ওই ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় জেল কেটেছেন মোজাফফর। একইভাবে ফটিকছড়ির সরওয়ার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ২০১৩ সালের দিকে ৩০/৩৫ জনের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে মোজাফফর। ওই ঘটনায় মামলা হলে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন সে। সন্দ্বীপের মোহাম্মদ জাফর নামের এক ব্যক্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এছাড়া একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শাফিন / শাফিন
নড়াইলে জেলা পরিষদের ৫০লাখ টাকার চেক বিতরণ
ঘিওরে ফারিয়ার উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল
ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদে মোবাইল কোর্ট অভিযান
বরগুনায় মারপিটে স্মৃতিশক্তি হারান এক নারী
গজারিয়ায় এমপি পরিদর্শনের পর গজারিয়ায় খালের ওপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করল কোম্পানি
যশোরে দুই দিনের অভিযানে ৪শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার জমি
শাহরাস্তি থানার ওসিকে আদালতে তলব
সমাজ উন্নয়নে সেবার আলো ছড়াচ্ছে ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা
প্রশাসনিক শূন্যতায় ঝুঁকিতে শিক্ষা কার্যক্রম, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী
রাজারহাটে লাম্পি স্কিন ডিসিজে আক্রান্ত শতাধিক গরু
নেত্রকোণায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের,সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
আলফাডাঙ্গায় ক্যাব'র নতুন কমিটির পরিচিতি সভা